শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

লকডাউন হচ্ছে ওয়ারীর যেসব সড়কে

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার মধ্যে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত জোনগুলোর মধ্যে প্রথম লকডাউন হচ্ছে রাজধানীর ওয়ারীর কয়েকটি সড়ক। যা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে ওয়ারী এলাকার সড়কগুলো লকডাউনের কথা বলা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় তিনটি প্রধান সড়ক এবং পাঁচটি গলিপথ লকডাউনের আওতায় আসতে পারে। এসব প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড এবং জয় কালী মন্দির হতে বলদা গার্ডেন পর্যন্ত। অন্যদিকে গলিপথগুলোর মধ্যে রয়েছে, লারমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, রানকিন স্ট্রিড রোড এবং নবাব রোড।
সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে ওয়ারী এলাকার এই সড়কগুলো লকডাউনের আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি ডিএসসিসির সচিব দপ্তর থেকে ২৪ জুন গ্রহণ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপের ২২ জুন তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকার উল্লেখিত সড়কগুলোকে রেড জোনের আওতায় এনে বাস্তবায়ন গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এর আগে ওয়ারীর এলাকা নিয়ে বিশ্লেষণের পাশাপাশি ওয়ারীকে লক ডাউন করার বিষয়ে প্রস্তুতি নেয় ডিএসসিসি। এছাড়া লকডাউন এলাকায় মানুষের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, নমুনা সংগ্রহ, হোম কোয়ারেন্টিন, লকডাউনের কারণে কর্মহীনদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, টেলিমেডিসিন সার্ভিস,রোগী পরিবহন, প্রয়োজনীয় পণ্য হোম ডেলিভারি ও মনিটরিং কমিটিসহ অন্যন্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হবে এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি।
করোনা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগরীর ওয়ারীর নির্ধারিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পরীক্ষামূলক ‘রেড জোন’ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর এমন তথ্য জানিয়েছে।
গত শনিবার (২৭ জুন) নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের নেতৃত্বে জোনিং পদ্ধতি নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি অব্যাহতভাবে কাজ করছে। রেড জোন, ইয়েলো জোন বা গ্রিন জোন নির্ধারণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি নির্ধারণ হয় সংক্রমণ বিস্তারের সর্বাধিক ঝুঁকি, মাঝারি ঝুঁকি ও কম ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে।’
‘জোনিং পদ্ধতি স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। কাজেই স্থায়ীভাবে কোনো অঞ্চল বা এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা বা বাতিল করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু এলাকায় রেড জোন বাস্তবায়ন হচ্ছে।’
নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর ওয়ারীর নির্ধারিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পরীক্ষামূলক রেড জোন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। পূর্ব রাজাবাজারে রেড জোন চলমান আছে পরামর্শক কমিটির গাইডলাইন অনুসারে। স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যেখানে যেমন তেমনভাবেই প্রয়োজনে রেড জোন বাস্তবায়নের কাজ চলমান।’
জোন বিষয়ক কমিটিতে ১৩ জন সদস্য আছেন এবং এর সভাপতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেও জানান নাসিমা সুলতানা।
অন্যদিকে চলমান করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বিবেচনায় রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন চিহ্নিত করে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি ঢাকার ৪৫টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে লকডাউনের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি এলাকা রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে রেড জোনের সুপারিশ করা এলাকার মধ্যে আছে- যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরীবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটির এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, উত্তরা, মিরপুর। এগুলোকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ করেছে টেকনিক্যাল কমিটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ