শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সন্তানদের নিয়ে পাটকল শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি

খুলনা অফিস : মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে খুলনা ও যশোরের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের গেটে সন্তানদের নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রয়াত্ত পাটকল সিবিএ নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আবারো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনার শিল্পাঞ্চল। এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রমিক নেতারা বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে পয়লা জুলাই থেকে শ্রমিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্ব স্ব মিল গেটে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবে। তারা জানান, সারাদেশে পাটকলের সাথে প্রায় তিন কোটি মানুষের রুটিরুজি জড়িত। পাটকল বন্ধ করলে তাদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।
সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক সরদার আব্দুল হামিদ জানান, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুয়ায়ী ব্যক্তি মালিকদের পাটকলের মালিকদের যড়যন্ত্রে আমলাতন্ত্রর চক্রান্তে ২৫ জুন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে তাদের এই কর্মসূচি। ৩০ জুনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে ১ জুলাই থেকে শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা আমরান অনাশন কর্মসূচি শুরু করবেন। তিনি আরো  জানান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী  দুপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের সাথে বৈঠক করবেন। আর সেই কারণে খুলনার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ  খুলনা ছেড়ে ঢাকার পখে রওনা হয়েছেন। এই বেঠক ফলপ্রসূ হলেই তারা কর্মসূচির বিষয় চিন্তা ভাবনা করবেন।
প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে মিল গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বেলা ১১টায় এ কর্মসূচি শেষ হয়। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বুধবার (১ জুলাই) বেলা ২টা পর্যন্ত মিল গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রয়েছে। এরপরও সরকার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত না বদলালে বুধবার দুপুর ২টা থেকে তারা মিল গেটে আমরন অনশন শুরু করবেন।
এদিকে সরকার পাটকল শ্রমিকদের জোর পূর্বক অবসরে পাঠানো ও মিল বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, খুলনা মহানগরীর নেতৃবৃন্দের এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। শ্রমিক নেতা খান গোলাম রসুল, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান, মোমিনুল ইসলাম, ইউনুচ মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মিন্টু, মন্টু, শাহাবুদ্দিন, নুরুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, আব্দুল বারী, জানে আলম, শাহ্ আলম, দবির মোল্লা, আব্দুল মালেক, মতিয়ার রহমান, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর এক যৌথ বিবৃতিতে  ক্রমাগত লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে করোনা ভাইরাসের এই কঠিন দূর্যোগকালীন সময়ে শ্রমিক নিধনের সু-গভীর ষড়যন্ত্রে স্থায়ী ও বদলী শ্রমিকসহ প্রায় ৬৫ হাজার শ্রমিকের পরিবারকে পথে নামানোর এ অমানবিক সিদ্ধান্তে দুঃক্ষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানবিক কারণে এ অমানবিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিক সমাজ বাঁচার জন্য আমরণ লড়াই সংগ্রামের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা শ্রমিক সমাজের ন্যায্য দাবি ও বাঁচার মত বাঁচার আন্দোলনে বিগত সময়ে শ্রমিক সমাজের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও সংহতি প্রকাশ করবে, সাথে থাকবে ইনশাল্লাহ।
বর্তমান বিশ্বে পাটজাত দ্রব্যের আশানুরূপ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও-অপরিণামদর্শী, ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফিরে এসে, শ্রমিক বান্ধব সরকারের দাবির অবশ্যই সম্মান দেখানো উচিত। সারা বিশ্ব যখন কঠিন দূর্যোগে নিপতিত সেই মুহূর্তে ‘মরার উপর উপর খাড়ার ঘা’ মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত খুবই অমানবিক, মর্মান্তিক ও জুলুম। সারা দেশে যখন দুর্ভিক্ষ, হাহাকার চলছে তখন শ্রমিক ছাঁটাই অনৈতিক। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ