শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

পিপিপির আওতায় নয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করুন

এম এ খালেক: রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণায়লের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, আগামীতে দেশে আর কোনো পাটকল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে না। পরিবর্তিত প্রেক্ষিতে এখন থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি খাতের মিলিত উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলো পরিচালিত হবে। ইতোপূর্বে দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোনো কোনো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পিপিপির আওতায় পরিচালনার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পুরো একটি খাতকে হঠাৎ করেই এভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাচ্যুৎ করার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। এটি নিঃসন্দেহে একটি সাহসী উদ্যোগ এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই পর্দার আড়ালে অনেক দিন ধরেই পাটকলগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাচ্যুৎ করার ইস্যু নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু জনগণ সরকারের এই উদ্যোগের বিষয়টি বিন্দুমাত্রও জানতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ইস্যুটি নিয়ে এক ধরনের কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলো এভাবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় হস্তান্তরের প্রয়োজন হলো কেনো? আর পিপিপির আওতায় যদি হস্তান্তর করা হবে তাহলে নির্দিষ্ট কিছু পাটকল হস্তান্তর না করে পুরো সেক্টরকে কেনো রাষ্ট্রীয় খাতচ্যুৎ করা হচ্ছে? করোনা ভাইরাস সংক্রমণ জনিত কারণে সারা দেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত ঠিক সেই মুহূর্তে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ যে কোনো বিচারেই বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারি এবং অন্যান্যদের জন্য খবরটি নিশ্চিতভাবেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের সামিল। জানা গেছে, এসব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে যারা স্থায়ীভাবে কাজ করছিলেন তাদের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে’র মাধ্যমে বিদায় করা হবে। অর্থাৎ তাদের নির্ধারিত পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ এককালিন পরিশোধ করে বিদায় করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে মোট ২৫ হাজার শ্রমিক স্থায়ীভাবে কাজ করছে। এছাড়া অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে আছে আরো প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক। অবস্থায়ী শ্রমিকদের ভাগ্যে কি ঘটবে তা সুস্পষ্টভাবে জানানো হয় নি। অন্যান্য কারণ থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে এগুলোর অব্যাহত লোকসান দেয়ার প্রবণতা। নানাভাবে চেষ্টা করা সত্বেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি বছর জনগণের ট্যাক্সের অর্থে ভর্তুকি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে চালাতে হচ্ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোর ভার অন্যের উপর চাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবশ্য সরাসরি ব্যক্তি মালিকানাধীন খাতে হস্তান্তর না করে পিপিপির আওতায় এগুলোকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। কিন্তু পিপিপির আওতায় শিল্পায়ন অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে খুব একটা সুখকর নয়। তাই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোকে পিপিপির আওতায় হস্তান্তরিত হলেই এগুলো রাতারাতি লাভজনকতা অর্জন করবে তা আশা করা যায় না।

উল্লেখ্য, সাবেক পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় তিন ধরনের মালিকানা লক্ষ্য করা যেতো। এক শ্রেণির শিল্প ছিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয় আর এক শ্রেণির শিল্প ছিল বাঙ্গলি এবং পশ্চিম পাকিস্তানীদের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানা। তৃতীয় আর এক শ্রেণির শিল্প ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন। ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্পের প্রায় সবগুলোই ছিল পাকিস্তানি মালিকানাধীন। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন সময়ে অবাঙ্গালি শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রায় সবাই পাকিস্তানকে সমর্থন করেন। ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে অথবা স্বাধীনতা অর্জনের প্রাক্কালে তাদের সবাই বাংলাদেশ ত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যান। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পাকিস্তানি শিল্পোদ্যোক্তাদের পরিত্যক্ত শিল্প-কারখানার ব্যবস্থাপনা একটি বড় এবং জটিল সমস্যায় পরিণত হয়। তৎকালিন সরকার দেশের সব শিল্প-কারখানাকে রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করেন। কিন্তু সেই রাষ্ট্রায়ত্তকরণের ফল খুব একটা সুখকর হয়নি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়। এক সময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত লোকসান দিতে শুরু করে। ’৭৫ পরবর্তী সরকার আমলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের নামে চলে আর এক ধরনের লুটপাট। দলীয় সমর্থক বা গোষ্ঠী সমর্থকদের মাঝে এসব প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়া হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই পানির দরে বিক্রি করে দেয়া হয়। ফলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ’৭৫ থেকে ’৯০ এর দশকের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরিত হয়। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগই ঠিক মতো পরিচালিত হয় নি। ’৯০ এর দশকে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মুক্তবাজার অর্থনীতির জোয়ার শুরু হয়। এসময় অনেকগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরিত হয়। মুক্ত বাজার অর্থনীতির একটি মূল উপজীব্য হচ্ছে রাষ্ট্র কখনোই ভালো ব্যবসায়ি বা উৎপাদক হতে পারে না। রাষ্ট্র ব্যবসায়-বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি করে দেবে আর ব্যক্তি সেই পরিবেশ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে আদমজি জুট মিলকে বন্ধ ঘোষণা করে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলে অনেকেই তখন এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এখন দেশের সবগুলো পাটকলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাচ্যুৎ করার উদ্যোগ নেয়ার ফলে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে সেদিনের সেই উদ্যোগ মোটেও ভ্রান্ত ছিল না। বর্তমান সরকারের চার মেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীনে ফিরিয়ে নেয়া হয় নি। বরং ’৯৬-’০১ সময়ে বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। 

বর্তমানে দেশের সবগুলো পাটকল পিপিপি’র আওতায় বিরাষ্ট্রীয়করণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার পেছনেও রয়েছে দুঃখজনক স্মৃতি। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দেশে যে ২৬টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল রয়েছে তার সবগুলোই লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। গত ১০ বছরে এসব প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসান দিয়েছে। এই সময়ে মাত্র এক বছর রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো কিছুটা মুনাফা করেছিল। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। কিন্তু তারপরও এগুলো বছরের পর বছর লোকসান দিচ্ছে। অথচ একই নেচারের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমে। রাষ্ট্র নিজে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে না। যাদের এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয় তাদের অনেকেই নানাভাবে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রচেষ্টার লিপ্ত থাকেন। ফলে প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের দুর্নীতি আর অনাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় মালিকের সরাসরি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে। ফল সেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বেশি থাকে। দুর্নীতির সুযোগ থাকে খুবই কম। অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণির সিন্ডিকেট গড়ে উঠে যারা নানাভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদের নিকট প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থ সব সময়ই বড়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির জন্য সাধারণত কারো চাকরি চলে যায় না। কিন্তু সৎভাবে চাকরি করতে গিয়ে অনেকেরই চাকরি চলে যায়। যারা সৎভাবে চাকরি করতে চান তাদের নানা ধরনের অপবাদ দিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট দোষি প্রমাণিত করা হয়। বিশেষ করে বিরোধি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই অপবাদ দিয়ে অনেকের চাকরি জীবন অতিষ্ট করে তোলা হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির চমৎকার সুযোগ থাকে। এ ছাড়া দুর্নীতি করলেও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারানোর তেমন কোনো ভয় থাকে না। তাই যখন কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের প্রশ্ন উঠে তখন এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারি তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন। কিন্তু তারা একবারও ভেবে দেখেন না যে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজ করলে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবার সম্ভাবনা থাকে। 

সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোকে পিপিপি’র আওতায় রাষ্ট্রের আওতামুক্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত ভালো একটি প্রচেষ্টা। তবে এখানে সিদ্ধান্তটি একটু পরিবর্তন করলে বোধ হয় ভালো হবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পিপিপি’র আওতায় হস্তান্তরিত না করে বরং সরাসরি টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা যেতে পারে। কারণ পিপিপি’র মাধ্যমে বিরাষ্ট্রীয়করণ বা শিল্পায়নের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব একটা সুখকর নয়। এতে জটিলতা না কমে বরং আরো বেড়ে যেতে পারে। 

কারণ এই অবস্থায় ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা আসবে। বিশেষ করে কর্মচারিদের মধ্য থেকে আপত্তি উত্থাপিত হবে। ইউনিয়ন নেতারা শ্রমিকদের উস্কে দিতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পিপিপি’র মাধ্যমে বিরাষ্ট্রীয়করণের উদ্যোগের বিরোধিতা করে শ্রমিক নেতারা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লাভজনকভাবে চলবে আর রাষ্ট্রীয় মালিকনাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের পর দিন লোকসান দেবে এটা কি মেনে নেয়া যায়? সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলো বিরাষ্ট্রীয়করণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা যে কোনো মূল্যেই হোক বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো চাপের নিকট নতি শিকার করা যাবে না। সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার একবার বলেছিলেন, সেই প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক যিনি জনমত দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ