রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লাদাখে গালওয়ানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মাত্র ৩৩দিনে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন

সংগ্রাম ডেস্ক : ২২ মে থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রতিদিনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তথ্য মিলেছে যে, লাদাখে গালওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা মাত্র ৩৩ দিনে নিয়েন্ত্রণে নিয়েছে চীন। গালিওয়ান নদীর একটি বাঁকে অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে, এই কাজ করেছে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ। এনডিটিভি, নিউজ ১৮, আজকাল, আনন্দবাজার।
যেই ১৪ নম্বর পেট্রোল পয়েন্টে ভারত আর চীনা সেনারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলো, নদীর বাঁকটা ঠিক সেখানেই। ১৫ জুন এই সংঘর্ষের ঘটনায় এক কর্নেলসহ ২০ ভারতীয় সেনা প্রাণ হারায়।
ভারতের দাবি, গালিওয়ান নদীর এই বাঁকটি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি পার হয়ে। আর চীনের দাবি, এই বাঁক এলএসি পার হবার আগেই।
একটি পাহাড়কে এড়াতে নদীটি এখানে বাঁক নেয়ায় তৈরি হয়েছে ১৩৭ মিটার খালি জায়গা। যেটি ৩ দিকে পাহাড় থাকায় কামানের গোলাও আওতামুক্ত। অথচ এখান থেকেই সহজেই ভারতের ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্য বানানো সম্ভব। লাদাখে এর আগে কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্ট্যাটাস কো বদল হয়নি। চীন স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ভারতীয় সেনাসদর বলছে, তারা দশকের পর দশক ধরে এই বাঁকে পেট্রোলিং করেছে সে সংক্রান্ত প্রমাণও তাদের কাছে আছে। কিন্তু চীন সেখানে মাত্র ৩৩ দিনে স্থাপনা নির্মাণ করলেও, কেনো বাঁধা দিতে সক্ষম হয়নি ভারত, সে তথ্য জানাতে পারেনি সেনা সদরের সূত্র।
ভারতীয় সেনাদের পেটাতে চীনা বাহিনীতে ছিল মার্শাল আর্ট ফাইটার ও পর্বতারোহী দল?
গালওয়ান উপত্যকায় বিরোধপূর্ণ সীমান্তে চীন-ভারত দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে ১৫ জুন। ওই সংঘাতে এক কর্নেলসহ অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। তবে গোলাগুলী ছাড়া শুধু শারীরিক সংঘাতে এত সেনার মৃত্যু কীভাবে হল সেটা নিয়ে রহস্য ছিল শুরু থেকেই। এবার জানা গেল নেপথ্যের ঘটনা।
গালওয়ানের ভারতীয় সেনার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঠিক আগেই চলতি মাসে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নিজেদের বাহিনীতে মার্শাল আর্ট ফাইটার এবং পর্বতারোহীদের যুক্ত করেছিল চায়না পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।  চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
দু’দেশের সীমান্তে উত্তেজনা একেবারেই নতুন কিছু নয়। কিন্তু চলতি মাসে দুই বাহিনীর মধ্যে হওয়া সংঘর্ষ গত ৫০ বছরে সব থেকে রক্তক্ষয়ী ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

চীনের মিলিটারি বিভাগের সরকারি সংবাদপত্র চায়না ন্যাশনাল ডিফেন্স নিউজ-এর খবর অনুযায়ী, মাউন্ট এভারেস্ট অলিম্পিক টর্চ রিলে দলের প্রাক্তন কয়েকজন সদস্য এবং একটি মিক্সড মার্শাল আর্ট ক্লাবের ফাইটাররা গত ১৫ জুন লাসা-তে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার জন্য হাজির হয়েছিলেন।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের সিসিটিভি ফুটেজেই দেখা গেছে, তিব্বতের রাজধানীতে হাজারে হাজারে নতুন বাহিনী জড়ো হচ্ছে।
পিএলএ-এর তিব্বতের কম্যান্ডার ওয়াং হাইজাং দাবি করেছেন, এনবো ফাইট ক্লাবের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি সাংগঠনিকভাবে তাদের বাহিনীর শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি করবে। তাদের এক জায়গা থেকে অন্যত্র দ্রুত সরাতেও সুবিধা হবে। এর পাশাপাশি শত্রুপক্ষকে দ্রুত জবাব দেয়া এবং বাহিনীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়োগ যথেষ্ট সাহায্য করবে।
ঘটনাচক্রে সেদিন গভীর রাতেই লাসা থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে লাদাখের গালওয়ানে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত এবং চীনের বাহিনী। সেই ঘটনায় ভারতের ২০ জন সেনার মৃত্যু হয়।  যদিও চীনের কতজন সেনার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেনি বেইজিং।
লাদাখে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি চীনের
ভারত ও চীনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সতর্ক অবস্থানে আছে দুই দেশের সেনারা। এমন পরিস্থিতির মাঝেই লাদাখ সীমান্তে আরো সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে চীন। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্রে লাদাখে কালো তাবুর যে ছবি পাওয়া গেছে তা থেকে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাবুর নিচে ঘাঁটি গেড়েছে চীনের সেনারা। সেই সেক্টরে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৬টি শিবির চিহ্নিত করেছে সেই চিত্র। চিত্রে স্পষ্ট, সামরিক স্তরের আলোচনায় চীন বাহিনী সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেটা খাতায়-কলমে।
শুধু তাই নয় এলএসি বরাবর ব্যাপক সামরিক সম্ভার বাড়াচ্ছে বেইজিং। সেই চিত্র পর্যবেক্ষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে।
গত ২২ জুন লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে দু’টি দেশ সীমান্ত থেকে নিরাপদ দূরত্বে বাহিনী সরানোর পক্ষে সম্মতি দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র অন্য কথা বলছে। ২৫ ও ২৬ জুন প্রকাশিত এই চিত্রে এখনও বিতর্কিত এলাকায় চীন সেনার উপস্থিতি স্পষ্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ