শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সভ্যতা কখন মানুষের সভ্যতা

আমরা এখন করোনা থেকে মুক্তি চাই, পুরো বিশ্ববাসী করোনা থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু কখন আমরা এই মহামারি থেকে মুক্তি পাব তা কেউ জানে না। ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র একটি অণুজীব আমাদের বুঝিয়ে দিল কত অসহায় আমরা। বর্তমান সভ্যতার সব দম্ভ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে করোনা। এরপর মানুষের উপলব্ধি, গবেষণালব্ধ ফল ও স্রষ্টার দয়ায় আমরা যদি করোনার আজাব থেকে মুক্তি পাই; তখন আমরা কী করবো? আমরা কি আবার আগের সভ্যতায় ফিরে যাবো? জুলুম-নিপীড়ন, অন্যায়-অভিচার, ভোগ-বিলাস, অনাচার-অশ্লীলতা, যুদ্ধবিগ্রহ ও ধর্ম-বর্ণ বিদ্বেষের পালে আবার নতুন করে বাতাস দেবো? অনাকাক্সিক্ষত এমন সভ্যতায়তো আমরা ছিলাম। এই সভ্যতায় পৃথিবীতো ধ্বংসের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছিল। পৃথিবী মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ভাবতে কি অবাক লাগেনা, যারা পৃথিবী শাসন করছিল তাদের প্রধান ব্যবসাই ছিল অস্ত্র ব্যবসা। যুদ্ধ ছাড়াতো তাদের অস্ত্র ব্যবসা অচল। তাই প্রয়োজন ছিল নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়ায় সেই যুদ্ধ লক্ষ্য করেছি। এক্ষেত্রে ফিলিস্তিন আরো বড় ও নির্মম উদাহরণ। বর্তমান সভ্যতার বড় প্রহসন হলো, যারা অস্ত্র বিক্রি করে, তারাই আবার শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়। ফলে যুদ্ধ আর থামে না। আসলে করোনা পূর্ববর্তী যে সভ্যতায় আমরা বসবাস করছিলাম তা আসলে কোনো সভ্যতাই ছিল না। বরং ছিল সভ্যতার নামে এক প্রহসন। ভাগ-বাটোয়ারা ও চাতুর্যের ওই সভ্যতায় আমাদের প্রিয় পৃথিবীর বারটা বেজে গিয়েছিল।

করোনা পরবর্তী আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীটাকে নতুন করে গড়তে হবে। এই পৃথিবীটাকে সবার বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। বর্তমান সভ্যতার দাম্ভিক শাসকরাতো অস্ত্র ব্যবসায় মশগুল। পরিবেশ রক্ষায় তাদের মনোযোগ নেই, বরং অনেকে বৈরি ভূমিকা রাখছেন। অনেকেই আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স সৃষ্ট করে মানুষকে ব্যাপক বেকারত্বের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এতে সমাজে শুধু অস্থিরতা নয়, সৃষ্টি হয়েছে নানা হুমকিও। পৃথিবী জুড়ে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে কিছু দেশে, কিছু মানুষের হাতে। আসলে যে লক্ষ্যে মানুষ পৃথিবীতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করেছিল করোনা পূর্ববর্তী সভ্যতায় মানুষ সেখানে পৌঁছতে পারেনি। তাই করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে পলিন করতে হবে সেই দায়িত্ব। দিকে দিকে আওয়াজ তুলতে হবে জলবায়ু রক্ষায়, আওয়াজ তুলতে হবে যুদ্ধ বন্ধের। বিজ্ঞানের দানবীয় ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে বেকার করা যাবে না। মানবিক বিশ্বে বর্ণ ও ধর্ম-বিদ্বেষ চলতে দেওয়া যায় কী? এসব ক্ষেত্রে সঙ্গত ভূমিকা পালন না করলে কোনো সভ্যতা মানুষের সভ্যতা হয় কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ