বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা

সংগ্রাম ডেস্ক: উত্তেজনার মধ্যে লাদাখে আবারও ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল শনিবার এ খবর দিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, চীনা সেনারা পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। ফলে ভারতীয় সেনারা পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১-এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছতে পারছে না।
এই পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি)-১৪ এলাকায় গত ১৫ জুন সংঘর্ষ হয়েছিল। এখন সেখানে যেতেই পারছে না ভারতীয় সেনারা। আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, সংঘর্ষের পর ফের ভারতের এলাকা দখল করে বসে পড়েছে চীনা সেনারা।
তবে দখলকৃত এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেনি বলে খবরে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফলেছে চীনারা। যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট, ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চীনের দখলে। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে।
এ দিকে দু’দিনের সফর শেষে দিল্লী ফিরে গতকাল শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে সীমান্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। এর পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রাজনাথের। আনন্দবাজার, দৈনিক কমের স্ট্যান্ড।
এদিকে সংঘাত ও সীমান্তে চরম উত্তেজনার মধ্যে আকসাই চীন দখলমুক্ত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ১৯৬২ সালে যুদ্ধের পর প্রায় ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার অংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি দখল করে নেয় চীন।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনের সেনা সমারোহ বাড়ার সঙ্গে ভারতও সমরসজ্জা শুরু করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর তিনটি ডিভিশনকে মোতায়েন করে শক্তি বাড়িয়েছে তারা। সবচেয়ে শক্তিশালী টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাংকও ক'দিন হলো নিয়ে আসা হয়েছে সেখানে।
১৯৬২-র সংঘর্ষের সময় লাদাখ সীমান্তে ভারতের একটি মাত্র ব্রিগেড সেখানে ছিল। দুই হাজার জওয়ান ছিল ওই ব্রিগেডে। বর্তমানে লাদাখের সুরক্ষায় তিনটি বিভাগের ৪৫ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের অনুপাত হলো ১:১২। অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৫ হাজার সৈন্যের মুখোমুখি হতে চীনের পাঁচ লাখ সৈন্যের শক্তি প্রয়োজন।
২০১৯ সালে লাদাখকে জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে, পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেয় ভারতের কেন্দ্র সরকার। নয়াদিল্লীর এই পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি তুলেছিল বেইজিং। কারণ, তিব্বত থেকে জিনজিয়াং প্রদেশে যাওয়ার মসৃণ পথ আকসাই। যদি, এই রুটটি কোনোভাবে অবরুদ্ধ করা হয়, তবে চীনকে কারাকোরাম হয়ে বিকল্প পথে পৌঁছাতে হবে।
আকসাই চীন নিয়ে ভারত ও চীনের বিরোধ বহুদিনের। এটি জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের অংশ ছিল। কিন্তু চীনের দাবি, আকসাই চীন তাদের জিংজিয়াং প্রদেশের অংশ। বিরোধ সেখানেই।
আকসাই চীনের আয়তন ৩৭,২৪৪ কিলোমিটার। ভারতের অনেকগুলো রাজ্য এই অঞ্চলটির থেকে ছোট। এলাকাটি গোয়ার চেয়ে ১০ গুণ বড়। সিকিমের চেয়ে পাঁচ গুণ বড়। আবার মণিপুরের আয়তনের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বড়। শুধু তা-ই নয়। বিশ্বের কয়েকটি দেশও আকসাই চীনের আয়তনের তুলনায় ছোট। তাইওয়ান, বেলজিয়ামের থেকে এর আয়তন বেশি।
গত বৃহস্পতিবার আকসাই চীনের দাবি তোলেন লাদাখের বিজেপি সাংসদ জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভারতীয় অঞ্চল এবং এখন চীনা দখল থেকে এই জায়গা ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।'
এর আগে গালওয়ান উপত্যকায় চীন সেনার অনুপ্রবেশের বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন বিজেপি সাংসদ। রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ১৯৬২ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় চীন লাদাখে ঢুকে পড়েছিল। তারপর কংগ্রেস ও ইউপিএ সরকারের আমলে বারবারই তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে।
রুশ জঙ্গিবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে ভারত
ভারত সরকার মস্কোর কাছ থেকে ‘মিগ-২৯’ ও ‘সুখোই-৩০’ জঙ্গিবিমান কেনার চেষ্টা করছে বলে রাশিয়ার একটি দৈনিক খবর দিয়েছে, চীনের সঙ্গে সীমান্ত-উত্তেজনার মধ্যে নয়াদিল্লী এ প্রচেষ্টা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মস্কো থেকে প্রকাশিত দৈনিক কমেরস্যান্ত।
রাশিয়ার একাধিক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিকটি জানিয়েছে, বেইজিং ও ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ভারত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রুশ অস্ত্র হস্তগত করতে চায়। 
দৈনিক কমেরস্যান্ত আরো লিখেছে, ভারত এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার যে চুক্তি করেছিল তারও দ্রুততম বাস্তবায়ন চায় নয়াদিল্লী। ওই চুক্তির ভিত্তিতে গত বছর ভারত রাশিয়াকে ৫০ কোটি ডলার পরিশোধও করেছিল।
রাশিয়ার সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিষয়ক ফেডারেল সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ অবশ্য গত বছর বলেছিলেন, ভারত এস-৪০০’র প্রথম চালান ২০২১ সালে হাতে পাবে। কিন্তু রুশ দৈনিকটি লিখেছে, ভারত এখন চলতি বছরের শেষ নাগাদই এস-৪০০ পেতে চায়। শীর্ষনিউজ/এম।
 লাদাখ সীমান্তে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে চীনের গোয়েন্দা ড্রোন! : চীন-ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের খবর প্রকাশ হলেও বাস্তবে লাদাখে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা। এদিকে ভারত সরকার মস্কোর কাছ থেকে ‘মিগ-২৯’ ও ‘সুখোই-৩০’ জঙ্গীবিমান কেনার চেষ্টা করছে বলে রাশিয়ার একটি দৈনিক খবর দিয়েছে, চীনের সঙ্গে সীমান্ত-উত্তেজনার মধ্যে নয়াদিল্লী এ প্রচেষ্টা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মস্কো থেকে প্রকাশিত দৈনিক কমেরস্যান্ত।
আনন্দবাজার পত্রিকা  বলছে, লওয়ানে সেনা নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের লাদাখে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা। ওই এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে চীনের গোয়েন্দা ড্রোন উড়ছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য কৌশলগত এসব ড্রোন উড়াচ্ছে চীনা সেনাবাহিনী (পিএলএ)। কখনো কখনো এসব ড্রোন সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব-লাদাখের ভারতীয় অংশেও ঢুকে যাচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ওপর শনাক্ত করা হয়েছে ড্রোন। তবে ড্রোন নজরদারিতে পিছিয়ে নেই ভারতও। এজন্য ইসরায়েলে তৈরি বিশেষ ড্রোন ‘হেরন’ মোতায়েন করেছে ভারত। প্যানগং, গালওয়ান উপত্যকার পর দৌলত বেগ ওল্ডি (ডিবিও) সড়কের ওপর নজর দিয়েছে চীন।
এদিকে চীনা সেনারা পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। ফলে ভারতীয় সেনারা পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১-এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছাতে পারছে না। ই পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি)-১৪ এলাকায় গত ১৫ জুন সংঘর্ষ হয়েছিল। এখন সেখানে যেতেই পারছে না ভারতীয় সেনারা।
সংঘর্ষের পর ফের ভারতের এলাকা দখল করে বসে পড়েছে চীনা সেনারা। তবে দখলকৃত এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেনি বলে খবরে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলেছে চীনারা। যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট, ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চীনের দখলে। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে। অন্যদিকে দু’দিনের সফর শেষে দিল্লী ফিরে শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে সীমান্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রাজনাথের। সূত্র: আনন্দবাজার।
রাশিয়ার একাধিক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিকটি জানিয়েছে, বেইজিং ও ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ভারত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রুশ অস্ত্র হস্তগত করতে চায়।  
দৈনিক কমেরস্যান্ত আরও লিখেছে, ভারত এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার যে চুক্তি করেছিল তারও দ্রুততম বাস্তবায়ন চায় নয়াদিল্লী। ওই চুক্তির ভিত্তিতে গত বছর ভারত রাশিয়াকে ৫০ কোটি ডলার পরিশোধও করেছিল।
রাশিয়ার সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিষয়ক ফেডারেল সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ অবশ্য গত বছর বলেছিলেন, ভারত এস-৪০০’র প্রথম চালান ২০২১ সালে হাতে পাবে। কিন্তু রুশ দৈনিকটি লিখেছে, ভারত এখন চলতি বছরের শেষ নাগাদই এস-৪০০ পেতে চায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ