বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ৩৩৮৫ ॥ মৃত্যু ছাড়ালো অর্ধশত

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৫ জন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ৮৩৫ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৯৯ জন, বাকিরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কোভিট-১৯ কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ মার্চ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাসে বিভাগের ১০ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ১৯, বাগেরহাটে ৩, যশোরে ৬, ঝিনাইদহে ২, মাগুরায় ২, নড়াইলে ৬, কুষ্টিয়ায় ৬, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন এবং মেহেরপুরে ৫ জন মারা গেছেন।
করোনা সংক্রান্ত বিভাগীয় প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগের দশ জেলায় ২৬ জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৮৫ জন। এর মধ্যে খুলনায় ১৪৪৫, বাগেরহাটে ১৬৬, সাতক্ষীরায় ১৫০, যশোরে ৪৭০, ঝিনাইদহে ১৬৫, মাগুরায় ৯৭, নড়াইলে ১৩৪, কুষ্টিয়ায় ৪৯৭, চুয়াডাঙ্গায় ২০৩ জন এবং মেহেরপুরে ৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, খুলনা বিভাগে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপও বাড়ছে। এ জন্য তিনি স্বাস্থ্যবিধি না মানাকেই দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে তৎপর থাকলেও মানুষের অসচেতনতায় তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আক্রান্তদের শনাক্ত করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে খুলনায় করোনা পরিস্থিতি মনিটরিংসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনকারী শীর্ষ কর্মকর্তারাই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিসের আরও ২ জন কর্মকর্তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।
ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, নমুনা পরীক্ষায় শুক্রবার তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এছাড়া তার কার্যালয়ের সহকারী প্রধান কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহাতাব হোসেনেরও করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অপরদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকান্দার বলেন, নমুনা পরীক্ষার পর শুক্রবার আরএমও মিজানুর রহমান পজিটিভ হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন। তার শরীরের অবস্থা ভাল থাকায় সতর্ক অবস্থানে নেয়া হয়েছে। খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে দায়িত্ব পালনকারী আরও একজন চিকিৎসক শুক্রবার করোনা পজিটিভ হয়েছেন বলে তিনি জানান।
কিট সংকটে করোনার নমুনা সংগ্রহ বিঘ্নিত :  খুলনায় করোনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিটের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নমুনা সংগ্রহসহ করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকান্দার বলেন, 'খুলনায় কিট স্বল্পতার কারণে নমুনা সংগ্রহ গতি হারাচ্ছে। সিভিল সার্জন দফতর তো সপ্তাহকাল ধরেই কীট সংকটে রয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু কিট থাকার কারণে পরীক্ষা চলছে।'
তিনি বলেন, 'খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আওতায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৫০০ কিট রয়েছে। প্রতিদিন ১৫০টি পরীক্ষা করা হয়। সে হিসাবে ৫০০ কিটে ৩ দিন চলবে।'
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, কিট সংকটের কারণে নমুনা সংগ্রহ করায় সমস্যা হচ্ছে। কিট না থাকার কারণে শুক্রবার তার আওতাধীন জেনারেল হাসপাতাল থেকে নমুনা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার মেডিকেল কলেজ থেকে কিছু কিট সংগ্রহ করার পর সাড়ে ১১টা থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হয়।
করোনা আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু : খুলনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রিমু ইসলাম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. শেখ ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, গত ২৬ জুন রিমু ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে খুলনায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ