মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিপদসীমার ওপরে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী

সংগ্রাম ডেস্ক : গতকাল শনিবারও নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং  ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর ও নিম্নঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ হয়ে পড়েছেন পানিবন্দী। তীব্র স্রোতে দেখা দিয়েছে বিভিন্নস্থানে ব্যাপক নদী ভাঙন। উঠতি ফসল তলিয়ে গিয়ে হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। আমাদের সংবাদদাতা ও রংপুর অফিস এখবর জানায়।
গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী চরগুলোর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফলে এ সব এলাকার বসত-বাড়ির লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে পাট, পটল, কাঁচামরিচ ও শাক-সবজির ক্ষেতসহ সদ্য রোপণ করা বীজতলাগুলো তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের তারাপুর, কঞ্চিবাড়ী, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এবং ব্রহ্মপুত্রের সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারী ফুলছড়ির এরেন্ডবাড়ী, উড়িয়া, ফজলুপুর, ফুলছড়ি, গজারিয়া, উদাখালী, সাঘাটার ভরতখালী, হলদিয়া, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে পানি উঠতে শুরু করেছে। ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েকদিনের ভাঙনে উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া ও কাবিলপুর এলাকার অন্তত ৪৬টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। সদরের কামারজানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির বলেন, এখনও বন্যার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই চরাঞ্চলের মানুষদের। রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে অনেক ঘরে পানি উঠেছে। আগাম বন্যার কারণে মানুষ আতংকিত টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সকালে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রমের ফলে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল ফুলছড়ি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তা ও ঘাঘট নদীবেষ্টিত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার লোকজনের মাঝে বন্যা ও নদী ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসতবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় গবাদিপশু নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছেন। তবে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা বা তথ্য এখনও জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েকদিনের ভাঙনে উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া ও কাবিলপুর এলাকার ৪৬টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গাইবান্ধায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ১২ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ঘাঘট নদীর পানি শহর পয়েন্টে ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, ঘাঘট ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। তিস্তা, ঘাঘট নদীবেষ্টিত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার লোকজনের মাঝে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসতবাড়িতে বন্যার পানি উঠায় গবাদিপশু নিয়ে অনেকে পড়েছেন বিপাকে। তবে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা বা তথ্য এখনও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। জেলার ৩৩টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতাও। এতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে নদী ভাঙন। ফলে গত দুই সপ্তাহে নদী ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারীসহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের বসিন্দা আব্দুল মালেক জানন, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে নদীর পানির চাপ বেশি। পানি বৃদ্ধির সাথে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আজাদ শীতল  জানান, ভরতখালী ইউনিয়নের পানি বৃদ্ধির সাথে নদী ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় হুমকিতে একটি গুচ্ছ গ্রাম। ফুলছড়ি উপজেলার বাজে ফুলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা কলিম উদ্দিন  জানান, যেভাবে ব্রহ্মপুত্র নদের বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি, পাটখেত, শাকসবজি খেত তলিয়ে গিয়ে বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে
নীলফামারী সংবাদদাতা : শনিবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে তিস্তা নদী সংলগ্ন চর গ্রামগুলোতে পানি উঠেছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র  জানায়, শুত্রবার তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার তা কমে ১৫ সেন্টিমিচার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান,তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্যবাহিত অব্যাহত রয়েছে।     
রংপুর অফিস : তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন এবং পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ২ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
একই সাথে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চর এলাকার পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল ও ভারী বর্ষনে গত দু’দিন থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর তীরর্বতী প্রায় ১৫টি চরের প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চর এলাকার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে পাকা সড়ক হুমকির মধ্যে পরেছে। ইতোমধ্যে বিনবিনা থেকে তুষভান্ডার পাকা সড়কের প্রায় ৫শ ফুট অংশ ভেঙ্গে গেছে। লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চর ইচলী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, চর মটুকপুর, নোহালী ইউনিয়নের বাগডোহরা, চর নোহালী, কচুয়া এলাকার প্রায় ৫শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বাড়িঘড়ে পানি ওঠেছে। বিনবিনা এলাকায়  লোকজন গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু জানান, বিনবিনা এলাকায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে বিনবিনা এলাকার পাকা সড়কা। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নের শংকরদহ, চরইচলি, জয়রাম ওঝা ও বাগেরহাট এলাকায় ৪শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুড়া গ্রাম। প্রায় শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে গ্রামটি। এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতি ছিল। ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব চর, আমিন পাড়া, বৈরাগীপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের পাকা মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শত শত একর আবাদি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। বাড়িঘর হারিয়ে ভাঙ্গনের শিকার ছিন্নমূল মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গবাদি প্রানী নিয়ে বসবাসের জন্য ঠাঁই খুঁজে বেড়াচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে জানান, সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১২ হাজার পরিবার পানি বন্দী
মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট থেকে : তিস্তা নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নতুন নতুন চর অঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।
 শনিবার লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজ দোয়ানি পয়েন্টে তিস্তা পানি প্রবাহ বিকেল ৩ টা পযন্ত রেকর্ড করা হয় ৫২ঃ৮০ সেন্টিমিটার। ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গত কয়েক দিন ধরে ভারি বর্ষণ আর উজানের থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে তিস্তা নদীর চর এলাকাগুলোতে লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পানি বৃদ্ধিতে চরের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। উজানের পানি ও ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। 
এ দিকে পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নদীর চরাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ জানিয়েছেন। নতুন করে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গণ। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বৃষ্টি আর উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ঠ চেয়ারম্যানদের তথ্য মতে, লালমনিরহাটে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলায় প্রায় ১২হাজার চরবাসী পানিবন্দী। শনিবার ২৭ জুন লালমনিরহাট জেলা এান কমঁকতা মোঃ হায়দার আলী জানান জেলায় ৮ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ায় তাদের মাঝে ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির ফসল
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানী, সংকোশ, গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
কয়েকদিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের আবাদি জমি সহ দ্বীপচরগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল, বিল, নালা, ডোবা, পুকুর, জলাশয়গুলো পানিতে টইটুম্বুর হয়ে গেছে। নিমজ্জিত হয়েছে পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা, বাদাম, মরিচ, পটল, ঝিংগাসহ নানা রকম সবজি ক্ষেত ও শত শত হেক্টর আমন ধানের বীজতলা। নষ্ট হয়ে গেছে বেশ কিছু এলাকার আউশ ধান।
উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সদর ইউনিয়নের নলেয়া, কামাত আঙ্গারিয়া, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা, পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ব্রীজের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিনপাড়, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুঠি, তিলাই ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় লোকজন বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।
তিলাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফরিদুল হক শাহিন শিকদার, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলুল হক, শিলখুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যথাযধ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তারা অপেক্ষা করছেন সরকারী সহযোগিতার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শণ করেছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি ও নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই জেলার নিম্নাঞ্চলে থাকা ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজ শনিবার সকালে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছ। গত দু’দিনের তুলনায় শুক্রবার যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি। এদিকে যমুনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের জমিতে চাষ করা ভুট্টা, বাদাম, তিল, কাউন ও সবজি খেত তলিয়ে যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম জানান, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা সবজিসহ নানা ফসল এখন পানির নিচে।’
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যেই সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার (১৩.৩৫ মিটার) অতিক্রম করতে পারে। এদিকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে অব্যাহত রয়েছে ভাঙন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ