বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় স্কুলে না গিয়েও নিয়মিত গুণতে হচ্ছে বেতন ॥ অভিভাবকরা নিরুপায়

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীতে বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিতই পরিশোধ করতে হচ্ছে বেতন। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সংসদ টেলিভিশন ও জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবের পাশাপাশি স্কুলগুলো নিজস্ব তত্ত্বাবধানে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস চালু রেখেছে। করোনায় যুবুথুবু অভিভাবকরা নিরূপায় হয়ে ছুটির মধ্যেও বেতন পরিশোধ করছেনে অনেকটা বাধ্য হয়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষা বিভাগের কোন হাত নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চ হারে বেতন পরিশোধ করতে হলেও সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য চেষ্টার কমতি থাকে না। করোনা প্রার্দুভাব শুরু থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত পর্যন্ত থাকবে এসব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও থেমে নেই বেতন আদায়। ক্ষুদে বার্তা কিংবা ফোনের মাধ্যমে তাগিদ দেওয়া কিংবা বার্তা পাঠানো হচ্ছে বেতন পরিশোধের। নির্দিষ্ট তারিখে বেতন পরিশোধের সিডিউলও দেওয়া হচ্ছে। ফলে করোনায় যুবুথুুবু হয়ে পড়া অভিভাবকরা হতাশ হচ্ছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন কার্যক্রমে। স্কুল বন্ধ থাকলেও বেতন আদায়ের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এস এম কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করালেও বেতন আদায় করা হচ্ছে। এভাবে বন্ধের সময় কোন কাজ ছাড়া বেতন আদায় করলে তা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এভাবে অনলাইনে ক্লাস করেও পরিপূর্ণ বেতন পরিশোধ করতে হলে শিক্ষার্থীরা সারাবছরই অনলাইনে নিজের ইচ্ছামতো ক্লাস করতে পারবেন। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষার্থীদেরকে যার যার মতো কোন স্কুল ছাড়া বোর্ডে নিবন্ধন করতে দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নও করেন তিনি? কলেজিয়েট স্কুলের এক অভিভাবক মাছুরা বেগম বলেন, এখন এমনি সবাই আর্থিকভাবে চিন্তিত। তার মধ্যে স্কুলে বেতন নেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই বেতন দিতে হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত খুলনা কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তৌহিদুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট দিনে অভিভাবকদের কাছ থেকে স্কুলে ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে বেতন আদায় করা হচ্ছে। বেতন আদায়ের বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা শুনতে চায় না। বেতন দিতে আসলেই অভিভাবকদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নাই।

খুলনা বর্ডার গার্ড স্কুলের প্রধানশিক্ষক সাবিনা খন্দকার বলেন, শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসা লাগে। সকলের মতো শিক্ষকদেরও পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হয়। তাদেরও বেতনের প্রয়োজন। তাই বেতন আদায় করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, এ সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই। তাদের সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নাই। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে বিবেচনা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাস না করিয়ে বেতন আদায়ের বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুনর রশীদ বলেন, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র তাদের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে জড়িত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করতে বলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ