শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

পলাশী ট্র্যাজেডি

অধ্যাপক এ.বি.এম ফজলুল করীম: পলাশীর প্রান্তরে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার পরাজয় আমাদের জাতির জন্য বিরাট শিক্ষা। বাংলাদেশের মানুষকে বারংবার স্মরণ করতে হবে ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুনের পরাজয়কে। কেননা কিছু সংখ্যাক ষড়যন্ত্রকারীর জন্য আমাদের এই জনপদ হারিয়েছিল স্বাধীন সত্তা। নবাব সিরাজ যদি যুদ্ধে হেরে যেত, তবে থাকত কিছুটা শান্ত¡না। কিন্তু প্রতারিত হয়ে হেরে যেতে হলো কুচক্রীমলের ষড়যন্ত্রের কারণে। ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যায়। পরাজয়ের পর নবাব সিরাজের বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও উপমহাদেশের  মানুষ সিরাজকে আজও শ্রদ্ধা জানায়।

চলমান জাতীয় দুর্দ্দিনে আজ এ কথা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, অন্যান্য জাতির  চেয়ে আমরা এক ইতিহাস বিস্মৃত জাতি। বিজাতীয় সম্মোহন শক্তি দিনের পর দিন কেড়ে নিচ্ছে আমাদের পূর্ব পুরুষদের রেখে যাওয়া কালজয়ী ইতিহাস, ঐক্য, ঈমান, আদর্শ ও সংস্কৃতি। এটা দুনিয়ার একটা মহান জাতির উত্তরাধিকারীদের জন্য দুঃখজনক আত্মবিস্মৃতি। ইতিহাস কোন জাতির গৌরব বৃদ্ধির জন্যে নয়। বরং জাতীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে এবং জাতিকে সা¤্রাজ্যবাদী, আগ্রাসনবাদী ও তাদের মদদপুষ্ট এজেন্টদের শ্রুতিমধুর মন ভুলানো মিথ্যা এবং ধোকাবাজীর শ্লোগানের বিরুদ্ধে জাতির নওজোয়ানদের প্রতিবাদী ও প্রতিযোগী রুপে গড়ে তুলার জন্যে সত্যাশ্রয়ী ইতিহাস জানার গুরুত্ব অপরিসীম।

একথা সত্য যে, দেশ ও জাতির আযাদী শিল্প-বাণিজ্য বিকাশের উপর নির্ভরশীল।  সেই শিল্প-বাণিজ্য যদি সা¤্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসনবাদী বিজাতি ও তাদের তাবেদারদের হাতে চলে যায়, তাহলে দেশ ও জাতির গলায় গোলামীর শৃঙ্খল ছাড়া আযাদীর সুবর্ণ কন্ঠহার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনা।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, মুসলিম শাসনামলে সুবে বাঙালার স্বর্ণ যুগে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য এ দেশে এসেছিল। এ দেশেরই কুচক্রী তাবেদার মহলের শঠতা-ষড়যন্ত্রে সওদাগরের মানদন্ড রাজদন্ডে পরিণত হয়েছি।। এ দেশের বিত্ত-সম্পদ লুট করেই সেদিনের গরীব ইউরোপবাসী আজ উন্নতশীল দেশে পরিণত হয়েছে। অথচ আমাদের দেশই ছিল সর্ববিষয়ে দুনিয়ার একমাত্র উন্নত বিত্তশালী ও রপ্তানিকারক দেশ বলা হতো। এ কথা বলা হত দুধে ভাতে আছে বাংলাদেশের মানুষ ।

 কেবলমাত্র ইতিহাস বিস্মৃতির জন্যে আজ আমরা ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে বয়ে ঋণের জন্যে তাদের দুয়ারে বছরের পর বছর ধর্ণা দিচ্ছি। তাদের আদেশ মেনে চলছি। কিন্তু নিজেদের ভাগ্যন্নোয়নের জন্যে শিল্প বিপ্লবের দিকে নজর দেবার কথা ভাবছিনা।

নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক মহান ব্যক্তিত্ব ও আমাদের রেনেসাঁর প্রধান উৎস। তিনি ১৭৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিহারে জন্ম গ্রহণ করেন। সিরাজের পিতার নাম মীর্জা জয়নদ্দীন, মাতার নাম আমেনা বেগম। তাঁর দাদার নাম মীর্জা আহমেদ এবং নানা জানের নাম মীর্জা আলীবর্দ্দী  মোহব্বতজঙ্গ বাহাদুর। সিরাজ-উ-দ্দৌলারা তিন ভাই ছিলেন। 

১৭৪০ সালে মীর্জা আলীবর্দ্দী মোহব্বতজঙ্গ সুবে বাঙালার মসনদে বসেন। তিনি বাংলার নবাবদের মধ্যে সব চেয়ে বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান, দূরদর্শি, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও শক্তিমান সমর কুশলী নবাব ছিলেন। তিনি সন্তান জ্ঞানে প্রজা পালন এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি নবাব মীর্জা আলীবর্দ্দী খাঁ হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রাত মধ্য প্রহরে বর্গীয় ত্রাস নামে খ্যাত নবাব মীর্জা আলীবর্দ্দী মোহব্বহজঙ্গঁ বাহাদুর কোকিলের মতো কথা বলতে বলতে ”লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাল্লাহু ” কালেমা জপ্তে জপ্তে পার্থিব জগতের মায়া পিছনে ফেলে ইন্তিকাল করেন। রাত শেষ প্রহরে ভাগীরথী দরিয়ার তীরে প্রাচীর বেষ্টিত উদ্যানে নবাবকে দাফন করা হয়। উক্ত উদ্যানের নাম খোশবাগ। ফলে ১৭৫৭ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি নবাবুল মুলক মনসুর-উল-সিরাজ-উ-দ্দৌলা শাহকুলী খাঁন মীর্জা মুহাম্মদ হায়বৎজঙ্গ বাহাদুর খেতাব নিয়ে সিরাজ বাঙলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব রূপে মসনদে বসেন। তখন তার বয়স বাইশ বছর মাত্র। 

নবাব সিরাজের অভিষেকের দিন শাহী দরবারে রাজ্যের আমীর, ওমরাহ, পাত্র-মিত্র, রাজা-মহারাজা, জমিদার-তালুকদার, সিপাহসালার, ফউজদার, সম্মানিত প্রজাবৃন্দ, ওলন্দাজ, ফরাসী, পুর্তগীজ, প্রমুখরা উপটৌকনসহ উপস্থিত হয়ে নবাবের কাছে আনুগত্যের শপথ নেন। কেবল মাত্র উদ্যত ষড়যন্ত্রকারী ইংরেজরা দরবারে অনুপস্থিত থাকে। শুরু হলো ষড়যন্ত্র।

নবাবের অভিষেকের দিনগত রাতে একে একে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংঘের সদস্যরা জগত শেঠের বাড়িতে জমায়েত হতে থাকেন। মন্ত্রণা কক্ষে সবাই উপস্থিত হলে নবাব সিরাজকে ক্ষমতা থেকে কিভাবে সরানো যায়, সে সম্পর্কে আলোচনা করে, তারা সিদ্ধান্ত নেন, আজ থেকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য  হবে নবাব সিরাজের পতন। আর সিরাজের পতন মানেই সুবে বাঙলায় মুসলমানদের পতন। সিরাজের পতন হলে এ দেশে আর কোন মুসলমান নেই, যিনি নবাব সিরাজের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন। তাই হুঁশিয়ার থাকতে হবে আমাদের মিথ্যে আনুগত্যের মুখোশের কথা নবাব সিরাজ যেন কখনো বুঝতে না পারেন। তারা বলেন, তার আগে সিরাজ পরিবারে গৃহ বিবাদের বীজ বপন করতে হবে। তারা শেঠজীকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন দিল্লী থেকে নবাবী ফরমান সিরাজের নামে না এনে তার খালাত ভাই শওকাতজঙ্গেঁর নামে আনেন।

সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। আমাদের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার রাজত্বের সময় কালের মধ্যে তিনি সিরাজ বিরোধী রূপে চিত্রায়িত হয়ে আছেন।

জগত শেঠ, মাহতাব চাঁদ গংদের চক্রান্তে দিল্লী থেকে নবাবী ফরমান শওকতজঙ্গের নামে আনার পর নবাব সিরাজ জীবিত শওকতজঙ্গকে ডেকে পাঠান। কিন্তু শওকতজঙ্গ খুন হন। শওকতজঙ্গের খুন হবার কথা শুনে নবাব সিরাজ মর্মাহত হন এবং মোহন লালকে ভীষণভাবে তিরস্কার করেন। বয়সে তরুণ হলেও নবাব সিরাজ উপরোক্ত ঘটনাবলী থেকে বুঝতে পারেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

শওকতজঙ্গের মৃত্যুর পর সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম সিরাজের হীরাঝিল প্রাসাদে বসবাস করেন। নবাব সিরাজের শহীদ হবার পরও তিনি বাস করতেন। অথচ তাকে ষড়যন্ত্রকারী মনে করা হয়। তর্কের খাতিরে যদি বলা হয় ঘসেটি বেগম সিরাজ বিরোধী ষড়যন্ত্রের জড়িত ছিলেন। তা হলে সিরাজ শহীদ হবার পর ঘসেটি বেগম ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা পুরস্কৃত হলেন না কেন? বরং সিরাজ জননী আমিনা বেগম ও ঘসেটি বেগমকে ঢাকার অদূরে বুড়ীগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর সংযোগ স্থলে একই নৌকায় উভয়ের হাত পা বেঁধে নৌকার তলা ফুটো করে দিয়ে ঘসেটি বেগমকে পানিতে ডুবিয়ে কেন মারা হলো? যেখানে ষড়যন্ত্রকারীরা বিজয়ী সেখানে তো ঘসেটি বেগমকে খুন করার কথা নয়। তবু যখন সলিল সমাধি দেওয়া হয়েছে, তখন আমাদেরকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, তিনি ষড়যন্ত্রকারিণী ছিলেন না। শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের দোষ লোকচক্ষুর আড়াল করতে কল্পনার তুলিতে জড়িয়ে ঘসেটি বেগমকে সিরাজ বিদ্বেষী বানানো হয়েছে জনমতকে বিভ্রান্ত করতে।

১৭৫৬ সালে সিরাজ ক্ষমতায় আসার পর ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। সিরাজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে দুর্গ স্থাপন, অবৈধ শক্তি বৃদ্ধি, দপ্তর অপব্যবহার

ও কলকাতায় জমিদারী প্রয়োগে সার্বভৌম ক্ষমতার মত অত্যন্ত বাস্তবিক তিনটি অভিযোগ আনেন। তা ছাড়া কোম্পানি রাষ্ট্র বিরোধী ও নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ষড়যন্ত্রকারীদের অনেককে কলকাতায় আশ্রয় দেয়। তাই নবাব সিরাজ ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্ণর রজার ড্রেকের সাথে কূটনৈতিক সমাধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রজার ড্রেক তাতে সায় না দিয়ে বরং সিরাজকে শক্তি প্রয়োগ করতে বাধা দেন। নবাব সিরাজ অবশেষে কলকাতা ১৬ই জুন অবরোধ করেন এবং ২০ জুন ১৭৫৬ কলকাতার পতন ঘটে। এই অবরোধকে তথাকথিত অন্ধকূপ হত্যার মত কাহিনী সাজিয়ে তা সিরাজের পতনের অন্যতম যৌক্তিক কারণ বলে অনে ঐতিহাসিক মনে করেন। উদ্ধত ক্লাইভ ২রা জুন ১৭৫৬ কলকাতা পুনঃদখল করে। ৩রা জানুয়ারি নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং হুগলী বন্দরে ব্যাপক লুটতরাজ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নবাব সিরাজ চারদিকে ষড়যন্ত্রের কারণে মারাঠা এবং আবদালীর আক্রমণের আশংকায় আত্মরক্ষামূলক আলীনগর সন্ধি ৯ই ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭ সম্পাদন করেন। ঐ সন্ধিতে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ, টাকশাল স্থাপনের অনুমোদন রয়েছে। সন্ধিতে নবাব ১৭১৭ সালের ফরমান মেনে নেন। 

তা ছাড়া  কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন লক্ষ টাকা এবং রনজিৎরায়, উমিচাঁদ প্রমুখ মধ্যস্থতাকারীদের চল্লিশ হাজার স্বর্ণমৃদ্রা সম্মানী দিতে রাজি হন।

আলীনগর সন্ধির পর ক্লাইভ নবাবের বাধা-নিষেধ স্বত্ত্বেও ফরাসীদের উৎখাত করে চন্দ্রনগরের দুর্গের পতন ঘটায়। ১৭৫৭ এর ২৩শে এপ্রিল কলকাতার কাউন্সিল ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে ক্লাইভ নবাব সিরাজকে উৎখাত করার সিদ্ধান্ত নেন। যারা সিরাজকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল ক্লাইভ তাদের সকলকে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন।

এই ষড়যন্ত্রকারী প্রত্যেকে পৃথকভাবে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেল। অথচ সবগুলো স্বার্থের উপরে ছিল বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক শক্তি আদায়ের স্বার্থ ও বাংলার স্বাধীনতা নস্যাতের ষড়যন্ত্র।  পলাশীর ষড়যন্ত্রে কোম্পানি সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে মীর জাফরকে পেয়েছিল। এমনিভাবে প্রায় সকল আমত্যদেরকে ক্লাইভ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তী নবাব মনোনয়নের জন্য জগৎ শেঠের বাড়িতে ষড়যন্ত্রকারীরা একত্রিত হন। অনেক তর্কবিতর্কের পর নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মীর জাফরের নাম প্রস্তাব করেন। জগৎ শেঠ রাজার প্রস্তাব সমর্থন করলে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মীর জাফরকে পরবর্তী নবাব ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। কোম্পানি ৩রা জুন ১৭৫৭ মীর জাফরের সাথে একটি গোপন চুক্তি সম্পাদন করে। মূলত এই চুক্তির সাথে সাথেই বাংলার স্বাধীনতা ইংজেরদের নিকট বিক্রি হয়ে যায়।

পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের ভূমিকা কি হবে তা ক্লাইভের সাথে চুক্তি হওয়ার পর ক্লাইভ কাল বিলম্ব না করে সিরাজকে জানিয়ে দেয় যে যুদ্ধ ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। অতঃপর পলাশীর প্রান্তে যুদ্ধের আয়োজন হয়। গোপন চুক্তি মোতাবেক ইংরেজ বাহিনীর অবস্থানের অনেক দূরে সেনা সমাবেশ করলেন মীর জাফর, ইয়ার লতিফ ও রায়দুর্লভ। মূল বাহিনীর অনুপস্থিতিতেই ২৩শে জুন যুদ্ধ শুরু হয়। এমতাবস্থায় যুদ্ধে সিরাজের পতন অবশ্যম্ভামী হয়ে গেল। মহাচক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের নিকট পরাজিত হলেন সিরাজ-উ-দ্দৌলা। পলাশী প্রান্তরে মঞ্চস্থ হলো একশত বছেরের ইংরেজ ষড়যন্ত্রের ফসল পলাশী যুদ্ধ নামক নাটকের। কেননা পলাশীর যুদ্ধে কোন যুদ্ধ হয়নি। যুদ্ধের খেলা হয়েছে। সিরাজ ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে বন্দী হন ও নির্মমভাবে নিহত হন।

পলাশীর আমবাগানে যুদ্ধ যুদ্ধ নাটক অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। নেমে আসে লুঠেরা দস্যুদের অবাধ লুটতরাজের অনুকূল অন্ধকার সুযোগ। আর তার পরিণতিতে ধ্বংস হয়ে যায় সেকালের পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধশালী ও সর্বাপেক্ষা শিক্ষিত একটা জাতি বাংলার মুসলামান।

ইংরেজরা মুসলমানদের কাছ থেকে বাংলার মসনদ কেড়ে নিতে হিন্দু আমত্যবর্গ ও প্রভাবশালী হিন্দু ব্যক্তিদের সহযোগিতা গ্রহণ করেছিলেন। তারা খুশী মনে তাদের সহযোগিতা করেছিলেন। কেননা তাদের লক্ষ্য ছিল সাড়ে পাঁচশত বছর ধরে বাংলার মাটিতে অব্যাহত প্রাধান্যে বিরাজমান মুসলমানদের উৎখাত ও নির্মূল করা। 

সুতরাং ষড়যন্ত্র পূর্বেছিল এমনকি ২০২০ সালে বর্তমানেও তাদের ষড়যন্ত্র সক্রিয় আছে নানাভাবে। সকল অবস্থায় আমাদের উচিত তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থেকে তার মোকাবিলা করা। আমরা জানি প্রাকৃতিক নিয়ম মোতাবেক ঐক্যের বিজয় হয়, আর অনৈক্যের পরাজয় হয়। ১৭৫৭ সালে ঐতিহাসিক পলাশীর প্রান্তরে নিজেদের অনৈক্যের কারণে রবার্ট ক্লাইভের ৩,৫০০জন ইংরেজ বাহীনির কাছে নবাব সিরাজের ৫০,০০০ বাহিনীর পরাজয় হয়েছিল। এটা আমাদের জাতির জন্য একটা বড় শিক্ষা।

আমরা যদি অনৈক্য, হানাহানি ভুলে ঐক্যবদ্ধ জাতি হতে পারি, তা হলে আমরা প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে সা¤্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তের হাত থেকে মুক্ত রাখতে পারব। আমরা আশা করি আমাদের বাংলাদেশ পলাশীর প্রক্ষাপট তৈরি হতে দিব না। সেই শিক্ষাই আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ