বৃহস্পতিবার ০৫ আগস্ট ২০২১
Online Edition

চিনি আমরা কেন খাই?

চিনি হচ্ছে ক্যান্সারের খাবার। চিনি কম খেলে ক্যান্সার কোষের খাবার বন্ধ থাকে। দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাইতো বর্তমানে আমেরিকায় ৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪০ লাখের বেশি ক্যান্সার আক্রান্তকে চিকিৎসা হিসেবে কোনও স্পেশাল থেরাপি দেয়া হয় না। শুধু বলা হয়, ভালো খাবার খাও। চিনি ও কার্বোহাইড্রেট কম খাও। অর্থাৎ চিনি ও কার্বোহাইড্রেট সংবলিত খাবার না খেতে উৎসাহিত করা হয় সেখানে।

অতি স্বচ্ছ সাদা ও দানাদার যে উপাদানকে আমরা চিনি বলে জানি, তা আখ অথবা মিষ্টি বিট থেকে তৈরি অপ্রাকৃতিক বা রাসায়নিক উপাদান। কারখানায় রিফাইনিং করে আখের রস থেকে চিনি তৈরির সময় এর ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান নষ্ট করে ফেলা হয়। ব্লিচিং ও সালফোনেশন পদ্ধতিতে চিনি রিফাইন করা হয় এবং সেখানে সালফার ব্যবহৃত হয়। অথচ সালফার একটি বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান।

আমরা যখন চিনির তৈরি কোনও খাবার খাই, তখন এ বিষাক্ত উপাদান আমাদের দেহে প্রবেশ করে। চা বা কফির সঙ্গে চিনি খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। আসলে আমরা জানি না যে, চিনি মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর। আইসক্রিম, কেক, পেস্ট্রি, কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস, সফটড্রিঙ্কস, এনার্জিড্রিঙ্কস এবং প্রক্রিয়াজাত অনেক খাবারে প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহৃত হয়। বেশি মিষ্টিজাতীয় এসব খাবার দীর্ঘদিন খেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে স্মরণশক্তিও কমে যেতে পারে। ফল, শস্য, বাদাম এবং শাক-সবজি থেকে আমরা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় মিষ্টি প্রাকৃতিকভাবেই পেয়ে থাকি, যা অনেকের অজানা। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি হিসেবে রিফাইন্ড বা দানাদার চিনিগ্রহণের প্রয়োজন নেই।

বিভিন্ন রোগের জন্য সবসময় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে দায়ী করা হয়। কিন্তু চিনিকে করা হয় না, এর কারণ চিনির ক্ষতিকর প্রভাবগুলো রাতারাতি চোখে পড়ে না। মনের তুলনায় বেশি মিষ্টি দেহের জন্য উপকারী না হয়ে বরং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগ সৃষ্টি করে। যেমন: চিনি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে। হাইপার একটিভ, বদমেজাজি, অমনোযােগী করে তোলে। কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং দেহ স্থূল করে। বিভিন্ন অঙ্গের কার্যাবলীর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। ক্যান্সার ও টিউমারের ঝুঁকি বাড়ায়। আলসার, এজমা, আর্থ্রাইটিস, কিডনি ও পিত্তথলির পাথর, গ্যাস্ট্রিক, হৃদরোগ, পাইলস, ডায়াবেটিস তৈরি করে। ব্রেনে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। 

এতোসব ক্ষতির কারণ জেনেশুনেও যদি চিনি খেতে বা ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে সাদা চিনি না কিনে লাল চিনি তথা কম রিফাইন্ড চিনি কিনতে অসুবিধে কোথায়? লাল ও সাদা চিনির মূল্য কিন্তু প্রায় একই। তবে আজকাল লাল চিনি উৎপাদনই হয় না বলা চলে। যাবেন কোথায়? 

চিনি, চাল, আটা কেনার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন যেটি যত সাদা-স্বচ্ছ ও মসৃণ সেটি তত রিফাইন্ড, তত আঁশহীন, তত কৃত্রিম এবং ততই ক্ষতিকর। এভাবে সুস্থ চিন্তার বিবেকসম্পন্ন আচার-আচরণে এবং সুস্বাস্থ্য লালনে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে। সচেতন হতে হবে মানুষকে। সাদা চিনির ব্যবহার কমাতে না পারলে মানুষ তার জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেলবে। করোনার মতো অদৃশ্য অণুজীবের করাল থাবায় ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হবে বুদ্ধিমান মানুষও। অতএব  আসুন, আমরা সাদা চিনিকে স্লো পয়জন মনে করতে শিখি। দ্রুত এর ব্যবহার কমিয়ে দিই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ