শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

টেস্টে ২০ বছর পেরিয়ে ২১ এ পা দিল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট ক্রিকেটে ২০ বছর পেরিয়ে ২১ এ পা দিল বাংলাদেশ। ২৬ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ২০০০ সালের এদিনে ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের ভোটে টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত ক্লাবে দশম সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের লর্ডসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভায় তৎকালীন সভাপতি ম্যালকম গ্রে বাংলাদেশকে পূর্ণ মর্যাদার টেস্ট খেলুড়ে দেশের খেতাব দেন। ফলে টেস্টে ২০ বছর পেরিয়ে ২১ এ পা দিল টাইগাররা। বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলতে মাঠে নামে একই বছরের ১০ নবেম্বর। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। তবে দুই দশকে টেস্টে উজ্জ্বলতার ছড়াতে পারেনি টাইগাররা। গত ২০ বছরে টেস্টের দল ১০টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। নতুন সংযোজন আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলা কেবল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই খেলেনি। এ পর্যন্ত ১১৯টি খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে জয় কেবল ১৪টি, ড্র ১৬ এবং পরাজয় আছে ৮৯ ম্যাচে। বাংলাদেশের ১৪ জয়ের সর্বোচ্চ ৭টি এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ৪টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলংকা বিপক্ষে জয় আছে ১টি করে। এরমধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালে চট্টগাম টেস্ট জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। সেবারই প্রথম সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। আর দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জয় আসে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের মাঠে। বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্টেও জয় পায়, শ্রীলংকা বিপক্ষে। বাংলাদেশের টেস্ট খেলা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি ২০টি টেস্ট খেলেছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকার বিপক্ষে। যাদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের স্কোর বাংলাদেশের। ২০১৩ সালে গলে বাংলাদেশ করেছিল ৬৩৮ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বন্ধু দেশ জিম্বাবুয়ের, ১৭টি। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬টি, নিউজিল্যান্ড ১৫টি, দক্ষিণ আফ্রিকা ১২টি, ভারত ও পাকিস্তান ১১টি, ইংল্যান্ড ১০টি, অস্ট্রেলিয়া ৬টি ও আফগানিস্তান একটি  টেস্টের প্রতিপক্ষ ছিল। দল হিসেবে বাংলাদেশের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার হার বেশি হলেও ক্রিকেটারদের দিক থেকে সাফল্যের হার ভারীই বলা চলে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিকুর রহিমের। ৭০ টেস্টে করেছেন ৪৪১৩ রান। এই ক্রিকেটার ব্যাট হাতে ইতিমধ্যে তিনটি দ্বিশতকের দেখা পেয়েছেন। এরমধ্যে দুটি আবার উইকেটরক্ষক হিসেবে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট দ্বিশতকটিও তাঁর। গলে ২০১৩ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে। বর্তমানে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১৯* রানের স্কোরটিও মুশফিকের। এছাড়াও আরও দুটি টেস্ট দ্বিশতক আছে বাংলাদেশের। যে দুটির মালিক সাকিব আল হাসান (২১৭) এবং তামিম ইকবাল (২০৫)। বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল  দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এই ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত ৫৬ টেস্ট থেকে শিকার করেছেন ২১০ উইকেট। সাকিব ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে ১০০’র বেশি উইকেট শিকার করেছেন আর মাত্র দুইজন। তারা হলেন মোহাম্মদ রফিক এবং তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং ফিগার তাইজুলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৮ উইকেট। ম্যাচসেরা বোলিং ফিগারও এই বাঁহাতি স্পিনারের, ১২-১১৭। তবে বাংলাদেশ বড় বড় সব দলের বিপক্ষে জয় পেতে শুরু করেছে। এই বছর সবচেয়ে বেশি ১০টি টেস্ট খেলার সুযোগ মিলেছিল বাংলাদেশের। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলতে পেরেছে মাত্র ২ ম্যাচ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২০ বছর পূর্তির দিনে মুমিনুল-মুশফিকদের কাছে হয়তো সবচেয়ে বড় কষ্ট করোনাভাইরাসে একের পর এক টেস্ট সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়া। টেস্টে ক্রিকেটের ২০ বছর পূর্তিতে প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেন, ‘এই বিশ বছরে পিছিয়ে যাইনি অবশ্যই। সামনে আগানোর সময়টাই বেশি। কিন্তু বিশ বছর তো একরকম না তাই না? টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পরের সময়টা একরকম। তখন সবার কাছেই বিষয়টি অপরিচিত ছিল। ওইটা ছিল শুরু। তারপর আস্তে আস্তে বুঝতে শেখা, জানতে শেখা, মোর ইম্পরটান্টলি খেলতে শেখা। তখন তো আমাদের কোচ, ফিজিও, ট্রেনার এত সাপোর্টিং স্টাফ ছিল না যা এখন আপনারা দেখতে পান। আমাদের সময়ে একজন কোচ থাকত আর একজন ফিজিও পেয়েছিলাম। এখনতো প্রতিটি বিভাগেই কোচ আছে, ট্রেনার, ফিজিও, সাইকোলজিস্ট রাখা হয়েছে। ধরেন প্রথম সময়টা আমাদের বুঝতে বুঝতেই চলে গেছে কে কিভাবে একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশ চলে। এরপরে আমরা আস্তে আস্তে বুঝতে শিখি। সেখান থেকে আমাদের উন্নতিরও শুরু। আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতিটা যেমন ধরেন আঞ্চলিক ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বা লঙ্গার ভার্সনের প্রতি আমরা শুরুর থেকেই উদাসীন। এখানে সবারই আরেকটু আন্তরিকতার দরকার ছিল। সেটা প্লেয়ার বলেন বা সংগঠক বলেন সবাই আমরা ওয়ানডে কেন্দ্রীক। আমাদের সংস্কৃতিটা যদি লঙ্গার ভার্সন কেন্দ্রীক হত তাহলে আরেকটু ভালো করতাম। কয়েকজন প্রতিভাবান সিনিয়র খেলোয়াড়ও আছে। যারা ধারাবাহিকভাবে সব ফরম্যাটেই ভালো পারফর্ম করছে। কিন্তু দল হিসেবে আমরা নিচের দিকে। এখন র‌্যাংকিংয়ে ওপরে যাওয়াটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং সেজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ