বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুরবানির পশুর হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসবে নির্দিষ্ট স্থানে

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট স্থানে বসবে কুরবানির পশুর হাট। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কুরবানি এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিতে প্রস্তুতি পর্যালোচনা নিয়ে ভার্চুয়াল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এ কথা জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপসসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক ও কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল আজহা মুসলমানদের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মুসলমানরা ঈদুল আজহার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের প্রত্যাশা করেন। পশু কুরবানি দেয়া ঈদুল আজহার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সুন্দরভাবে উদযাপনে পশুর হাট বসবে সুনির্দিষ্ট জায়গাতে, স্বীকৃত জায়গায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পশুর হাটের নিরাপত্তা, পশু বিক্রি ও গন্তব্যে পৌঁছানো সার্বিক বিষয়ে আমরা প্রারম্ভিক সভা করেছি। এরপর আরও কয়েকটি সভা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি সভা করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি সভা করা হয়। সম্মিলিতভাবে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করব।’

প্রতিটি পশুর হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকবে, জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

নির্দিষ্ট স্থানে পশু কুরবানি ও দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতেও সভায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

করোনা সংকটে ভিড় এড়াতে ঈদুল আজহার এক-দুদিন আগেই পশু কেনার পরিবর্তে সময় হাতে রেখে পশু কেনার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

পশুর হাটে প্রবেশকারী সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পশু কেনা-বেচার ওপর গুরুত্ব দেন তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঈদের দিন পশু কুরবানির পর অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে প্রস্তুত থাকবে। এ বছর যেহেতু ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে পশুর হাট এবং ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে টেলিভিশন, রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে’ বলেও জানান মন্ত্রী।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, কুরবানির পশুর হাট পরিচালনায় এবার ইজারার বরাদ্দপত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে  সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘হাট পরিচালনা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা ভঙ্গ করলে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবো।’

দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সঙ্গে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে মেয়র তাপস এ মন্তব্য করেন।

ডিএসসিসি’র মেয়র এসময় স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীকে উদ্দেশ বলেন, ‘করোনা মহামারি বিবেচনায় নিয়ে এবার গরুর হাটে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আমরা ব্যবস্থাপনা কমিটি করে দিয়েছি। যে কয়েকদিন হাট চলবে, কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে সেসব হাট তদারকি করবে, যাতে করে মহামারি করোনা বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে। এছাড়াও, স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

মেয়র তাপস আরও  বলেন, ‘অস্থায়ী এ সব গরুর হাট তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। হাটগুলোতে একটি গরুর অবস্থান থেকে আরেকটি গরু কতটুকু দূরত্বে রাখা যাবে, সেটাও আমরা চিহ্নিত করে দেবো। এছাড়া হাটগুলোতে একমুখী চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করপোরেশনের চমৎকার সমন্বয়ের ফলে আমাদের কাজের গতিশীলতাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ