বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কিট সঙ্কটে দেশে করোনার পরীক্ষা ঢিলেঢালা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে যেভাবে নভেল করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে প্রতিদিন আরও বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। তবে গত কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ উল্টো কমছে। এর মধ্যে দেশের একাধিক করোনা ল্যাব জানিয়েছে, কিট না থাকায় পরীক্ষা করতে পারছে না তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাতে থাকা কিটের সংখ্যা হাজারেরও কম! জুনের শুরুতে কিট সঙ্কট চরমে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে শুরু থেকে কিট সরবরাহ করে আসা প্রতিষ্ঠানটি ৬ জুন কিছু কিট সরবরাহ করে। পরে দুই কিস্তিতে আরও ৭০ হাজার কিট সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সারাদেশে যেভাবে করোনা পরীক্ষা চলছে, তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমতো না বাড়লেও এই কিট প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। গত সোমবার অধিদফতরের হাতে থাকা কিটের অবস্থাও তেমনই বলছে। গত রোববার বিকেল পর্যন্তও অধিদফতরে কিট ছিল দেড় হাজারের মতো। সন্ধ্যায় ঢাকার বাইরের একটি ল্যাবের জন্য কিছু কিট দিয়ে দেওয়ায় অধিদফতরের হাতে কিট দাঁড়ায় হাজারের নিচে।

গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরে করোনা পরীক্ষার কিট রয়েছে এক হাজারেরও কম! স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নিজেও কিট সঙ্কটের এ তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি এ-ও বলছেন, কিট সঙ্কট সমাধানে অধিদফতর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফলে কিট সঙ্কটের সমাধানও হবে ‘শিগগিরই’।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিজের কাছেই পর্যাপ্ত কিটের সংস্থান এখন নেই। এর আগের দিন রোববার রাতের তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাতে থাকা কিটের সংখ্যা সাকুল্যে ৯৮৪টি! সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্তও অধিদফতরের কাছে নতুন কোনো কিট পৌঁছেনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন বাংলাদেশে ১৭ হাজার ৫২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে সারাদেশে, যা একদিনে সর্বোচ্চ। পরদিন ১৮ জুন নমুনা পরীক্ষা নেমে আসে ১৬ হাজার ৫২৯টিতে। ১৯ জুন এই সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪৫টি, ২০ জুন আরও কম ১৪ হাজার ৩৪টি। ২১ জুন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫৮৫টিতে, ২২ জুন নমুনা পরীক্ষা ছিল ১৫ হাজার ৫৫৫টি। জানা যায়, সোমবার টানা চতুর্থ দিনের মতো করোনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল করোনার অন্যতম হটস্পট নারায়ণগঞ্জের ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে।

কিট সঙ্কটে পরীক্ষা বন্ধ: রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি ল্যাবের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের হাতে কিট রয়েছে সামান্য পরিমাণে, যা দিয়ে দুই থেকে চার দিন নমুনা পরীক্ষা সম্ভব। দৈনিক ১৮০ নমুনা পরীক্ষা করে থাকেÑ রাজধানীর এমন একটি ল্যাবে রোববার রাতে কিট ছিল ৬০০টি। দৈনিক তিন থেকে চারশ নমুনা পরীক্ষা করা আরেকটি ল্যাবে কিট ছিল ৭০০। রাজধানীর বাইরে একাধিক ল্যাবের অবস্থাও ছিল একই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিট দিয়ে দেশে শুরু হয় করোনা পরীক্ষা। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় বেশকিছু কিট উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে। কিট উপহার পাওয়া গেছে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও। এর বাইরে একটি প্রতিষ্ঠান অধিদফতরকে কিট সরবরাহ করে আসছিল। এর মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় অধিদফতর। নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানকে কিট আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু সময়মতো কিট আনতে না পারা ও আনার পরে ভ্যালিডেট করতে না পারায় তাদের অনেকের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে এই সমস্যা সমাধানের জন্য। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধান হয়ে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অধিদফতরের স্টোরে ছিল দেড় হাজারের কিছু বেশি কিট (ঢাকার বাইরের ল্যাবে সরবরাহের পর প্রকৃতপক্ষে কিট ছিল ৯৮৪টি)। আরও তিন হাজার কিট জোগাড় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, আমরা সারাদেশের ল্যাবগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করেছি। তাতে দেখা গেছে, অনেক ল্যাবরেটরি বেশ কয়েকদিন চালাতে পারবে তাদের কাছে থাকা কিট দিয়ে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দুয়েকদিনের মধ্যে ৬৮ হাজার কিট দেবে। এত দিন যারা কিট সরবরাহ করছিল, তারাও সরবরাহ করবে। ফ্লাইট নিয়ে তাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে তাদের কিটও চলে আসবে। এর সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিট চলে এলে সমস্যা হবে না আশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ