শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লাদাখে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েও ক্ষতি বেশি চীনেরই

স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ জুন রাতে ভারত-চিন সেনার মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ কেন হয়েছিল? যখন ভারত-চীন সেনা পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা চলছিল, তার মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় কেন হঠাৎ মারমুখী হয়ে উঠল দু’পক্ষ। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন এক বিস্ফোরক তথ্য। চীনের সেনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র জেনারেল পর্যায়ের এক আধিকারিক ভারতীয় বাহিনীর উপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আমেরিকার একটি গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ রিপোর্টের সূত্রে খবর মিলেছে। ভারতকে ‘শিক্ষা’ দিতেই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা-সহ ওই এলাকায় ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড। তার মাথায় রয়েছেন জেনারেল ঝাও জোংকি। এ ছাড়া আরও কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকও ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। শি চিনফিং প্রশাসনই তাঁদের নিয়োগ করে। মার্কিন ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সেনা আধিকারিকরা মিলেই ভারতীয় সেনার উপর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং নীচু স্তরের বাহিনীকে সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হল প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং কি সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতেন? মার্কিন গোয়েন্দাদের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে চীনের বিভিন্ন সামরিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াকিবহাল কূটনৈতিক শিবিরের ব্যাখ্যা, চিনফিংয়ের অজান্তে সেনাবাহিনী স্বতন্ত্র ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটা হওয়া কার্যত সম্ভব নয়। বরং চীনা প্রেসিডেন্টের সবুজ সঙ্কেত ছিল।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘ইউএস নিউজ’-এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, জেনারেল ঝাও জোংকি মনে করেন, আমেরিকা ও তাঁর সহযোগী ভারত-সহ নানা দেশ তাঁদের শোষণ করে। ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লীর এই ‘দাদাগিরি’ তাঁরা সহ্য করবেন না। নয়াদিল্লীকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেবেন এমন মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছিল জোংকির হাবভাবে।
যদিও আন্তর্জাতিক মহলের মতে, উল্টো বেজিং নিজেই ‘উচিত শিক্ষা’ পেয়েছে। গালওয়ান সংঘর্ষে ভারতের এক কর্নেল-সহ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সংঘর্ষের এক সপ্তাহ পরেও তাদের পক্ষের কত জন হতাহত হয়েছে, তা সরকারিভাবে জানায়নি বেজিং। শুধুমাত্র কমান্ডার পদমর্যাদার এক অফিসারের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সেনা সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে, চিনা বাহিনীর অন্তত ৪৩ জনের ম্তৃ্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও মনে করছে, হামলা করতে এসে ভারতের চেয়ে লাল ফৌজেরই বেশি ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ