শুক্রবার ১৪ মে ২০২১
Online Edition

বাসায় চিকিৎসা

ওষুধ বা ভ্যাকসিনসহ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার কোনো বিষয়েই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো কথা বলার সময় আসেনি। এই কথাটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শুনিয়ে আসছেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর কর্তব্য পালনে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে করোনায় বিপন্ন বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে। সবচেয়ে বড়কথা, করোনা যেমন যখন-তখন তার চরিত্র ও ধরন পাল্টাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরাও তেমনি তাদের বক্তব্য ও পরামর্শ পাল্টে চলেছেন। একটি মাত্র পরামর্শের ব্যাপারে তাদের মধ্যে অবশ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি- ‘পরীক্ষা, পরীক্ষা এবং পরীক্ষা’। যত দ্রুত সম্ভব আরো বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। চিকিৎসার ব্যাপারে কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য কোনো অগ্রগতি ঘটেনি। আবিষ্কৃত হয়নি কোনো ভ্যাকসিনও।

এদিকে বাংলাদেশের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণা করেছেন, ৮০ শতাংশের বেশি করোনা রোগীরই হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হতে পারেন। সুস্থ হচ্ছেনও। কিছু নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে এসব বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ৮০ শতাংশের বেশি রোগীর আসলে সাধারণ প্যারাসিটামল এবং অ্যান্টি-হিস্টামিন ছাড়া কোনো ওষুধেরও প্রয়োজন পড়ে না। নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মানলে এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করলেই তারা সুস্থ হতে পারেন। এজন্যই হাসপাতালে গিয়ে ভিড় জমানোর এবং গুরুতর অসুস্থদের পাশাপাশি নিজেদের বিপদ না বাড়ানোর উপদেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পুষ্টিকর খাবার বলতে তারা সকালে ও রাতে ডিম ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার, মাছ-মাংস, শাকসবজি, দেশি তাজা ফল এবং গরম পানি দিয়ে দিনে দু’বার লেবুর শরবত খেতে বলেছেন। সেই সাথে দিনে অন্তত দু’বার মেনথল দিয়ে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। 

বাসায় অক্সিজেন নেয়ার বা কাউকে দেয়ার ব্যাপারেও সাবধান করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিশেষ মাত্রা বা পরিমাণে অক্সিজেন না দেয়া হলে তার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এরই মধ্যে মৃত্যু ঘটেছেও। এজন্যই বাসায় অক্সিজেন মজুত করার এবং শ্বাসকষ্টের রোগীকে যথেচ্ছভাবে অক্সিজেন না দেয়ার জন্য নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অক্সিজেনের পরিমাণ জানার জন্য সঠিক রিডিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ করে তারা বলেছেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং সুপ্রশিক্ষিত নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া সাধারণ কারো মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা ভয়ংকর বিপদের এমনকি মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। একই কারণে শ্বাসকষ্ট প্রচন্ড হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আনাড়ি কাউকে দিয়ে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করা যাবে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকান্ডে প্রাণহানি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরা বিশেষজ্ঞদের যুক্তি ও পরামর্শগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কারণ, একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটলেও সময়ের সঙ্গে এ সত্যও প্রমাণিত হয়েছে যে, করোনা হলেই মানুষের মৃত্যু ঘটে না। ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হলেও লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের শুধু বাঁচানোই যায় না, সুস্থও করে তোলা যায়। বিশ্বের অন্য অনেক দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এখন তো প্রতিদিনই প্রমাণিত হচ্ছে। এজন্য দরকার প্রথমেই ভীত বা আতংকিত না হওয়া এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী থেকে ধৈর্যের সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা। এ ব্যাপারে আত্মীয়-স্বজনদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাদের উচিত আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহস যোগানো এবং আইসোলেশনসহ তার সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, যাতে একজনের কারণে পরিবারের অন্যরা আক্রান্ত না হয়।

আমরা প্রসঙ্গক্রমে হাসপাতালে সিট বাড়ানোসহ সুচিকিৎসার আয়োজন নিশ্চিত করার এবং অক্সিজেন ও অন্য সকল ওষুধের কালোবাজারি বন্ধের লক্ষ্যে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ