শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মাশরাফির অবস্থা স্থিতিশীল

স্পোর্টস রিপোর্টার: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা অধিনায়ক মাশরাফির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বর্তমানে তিনি নিজ বাসাতেই আইসোলেশনে আছেন। সামান্য কাশি ও শরীর ব্যথা ছাড়া অন্য কোন উপসর্গ নেই তার। মাশরাফির সঙ্গে ছোট ভাই মোরসালিন ও তার স্ত্রী থাকেন। করোনা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় থাকায় অন্য বাসায় উঠেছেন তার ছোট ভাই মোরসালিন। গতকাল তিনি এবং তার স্ত্রী করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিয়েছেন। মাশরাফির ছোট ভাই মোরসালিন বিন মুর্তজা বলেন, ‘ভাইয়ের জ্বর কমে এসেছে। তবে শরীর ব্যাথা আছে। অ্যাজমার সমস্যা আগে থেকেই আছে। তার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল, বলার মতো কোনও উপসর্গ নেই। করোনা হলে যেটা হয় বুকে চাপ ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হয় সেটা হয়নি। তবে ভাইয়ার যেহেতু অ্যাজমার সমস্যা আছে তাই আমরা এটা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে সামান্য কাশি ও শরীর ব্যথা রয়েছে। আপাতত ভাইয়াকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’ তবে জানা গেছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ডাক্তার দেখানোর কথা মাশরাফির। একই সাথে করোনায় আক্রান্ত হলে যেসব পরীক্ষা করানো হয় সেসব পরীক্ষা করাবেন। মূলত এ কারণেই সিএমইইচে যাওয়ার কথা তার। সেখানে ভর্তি হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই সফলতম এই ওয়ানডে অধিনায়কের। মোরসালিন আরও বলেছেন,‘ভাইয়ার শ্বাসকষ্টের মতো কোনো সমস্যাই হয়নি। খুব ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরোনো অ্যাজমা নিয়েই চিন্তিত। সেজন্য ডাক্তার দেখাতে হবে।’ এদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার একান্ত সহকারী জামিল আহমেদ সানী বলেন,‘আপাতত চিন্তার কিছু দেখছি না। জ্বর নেমে এসেছে। খাওয়া-দাওয়াও হচ্ছে ঠিকঠাক মতো। অ্যাজমার সমস্যার কারণেই ডাক্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত।’ মাশরাফি নিজেও জানালেন এমনটাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক জানিয়েছেন, কিছু পরীক্ষা করার জন্য তার হাসপাতালে যেতে হতে পারে। তবে ভিত্তিহীন খবরে ভক্ত-সমর্থকরা যেন বিভ্রান্ত না হন। মাশরাফি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক ভাবে সুস্থ আছি। বাসায় থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছি। কিছু পরীক্ষার জন্য আমার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, সেটা স্বাভাবিক। হাসপাতালে ভর্তি কিংবা রুম না পাবার তথ্য ভিত্তিহীন। কোন কারণে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, কোনো ধরনের নিউজে আপনারা বিচলিত হবেন না। সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন। সবাইকে একত্রে থেকে এই যুদ্ধে আমাদের জয় লাভ করতে হবে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিউজমউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘মাশরাফির ব্যাপারটা যতদূর জানি, বিসিবি সভাপতি আব্দুল্লাহ স্যারের (প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক) সঙ্গে কথা বলেছেন। তার প্রেসক্রিপশন পাঠানো হয়েছে। মাশরাফি তো এমপিও। তার ব্যাপারটা ভিন্ন। কিন্তু যখন বিপদ হয়, সংসদ সদস্য দেখে হয় না। মানসিকভাবে সবাই ধাক্কা খায়। তখন তার পাশে সবারই থাকা উচিত। শুনলাম ভালো আছে, হাসিখুশি আছে।’ বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাশরাফির ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সংক্রমণের পর এই পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছেন বিসিবি বস। ফোনে মাশরাফির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে নিচ্ছেন পাপন। এছাড়া মাশরাফির স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য বোর্ডের মেডিকেল বিভাগ তো আছেই সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক বি এম আব্দুল্লাহও তাকে  দেখছেন। গত ১৯ জুন করোনা টেস্ট করান মাশরাফি। পরের দিন দুপুরে রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাঁর। এরপর থেকে ঘরে সেলফ আইসোলেশনে আছেন এই ক্রিকেটার। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মানুষকে সাহায্য করতে দুই দফা নড়াইলে গিয়েছিলেন মাশরাফি। পারিবারিক এবং নিজের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ঢাকার মিরপুরে নিজের বাসায় আসার আগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনও মেনে চলেন মাশরাফি। এখন মিরপুরে নিজের বাসা থেকেই নিচ্ছেন যাবতীয় চিকিৎসাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ