বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

প্রয়োজন উপলব্ধি ও দায়িত্বপালন

 

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সময়টা প্রায় ৬ মাস হতে চললো। কিন্তু এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসার আভাস নেই। এক অঞ্চলে সংক্রমণের বিস্তার কমলে বাড়ছে অন্য অঞ্চলে। এখন দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এমন তথ্য এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক দুঃসংবাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলে আরও ঘোরতর বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলে করোনা মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনায় সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যায় ভারত শীর্ষে। সংক্রমিত রোগীও মৃত্যুর সংখ্যায় ভারত শীর্ষে। সংক্রমিত রোগীর সংখ্যায় দেশটি বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ দেশ। দেশটিতে গত শনিবারই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত মৃত্যু প্রায় সাড়ে ১৩ হাজারে পৌঁছেছে। এই অঞ্চলে ভারত ছাড়াও দ্রুতরোগীর সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, করোনা মোকাবিলায় গত মার্চের শেষের দিকে ভারতের সরকার দেশজুড়ে লকডাউন আরোপ করেছিল। তবে কয়েক দফায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর পর তা শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এরপরই ভারতে সংক্রমণের বিস্ফোরণ লক্ষ্য করা গেছে। শুধু ভারতে নয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে গত সপ্তাহে রাজধানী কাবুলের গযর্নর ইয়াকুব হায়দারি বলেছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। মানুষ রাতের আঁধারে প্রিয়জনকে দাফন করছে। দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে।

প্রশ্ন জেগেছে, লকডাউন শিথিল কিংবা ভালোভাবে কার্যকর না করার কারণেই কি দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে গেল? তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লকডাউন নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেই রোগী ও সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত, আলাদা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া এবং রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আইসোলেশন করার কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখা গেছে পরীক্ষা কার্যক্রমে। অথচ করোনা মহামারির শুরু থেকেই বিশ^ স্বাস্থ্যসংস্থা পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে অনেকে মনে করেন, জনঘনত্বের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা মোকাবিলার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া এই অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে ঘাটতি। করোনা আসলে আমাদের বাঁচা-মরার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। এ সময় দোষারোপের বদলে প্রয়োজন করণীয় সম্পর্কে যথার্থ উপলব্ধি। বিশেষজ্ঞরা তো করণীয় নির্দেশ করেছেন। এখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলেই মঙ্গল। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ