সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আসুন, আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দাহ হই

প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী: আল্লাহপাকের অসংখ্য রহমতে আমরা আবৃত হয়ে আছি। শুধু একটু উপলব্ধি দরকার। হয়তো ভাবছেন, আপনার ঢাকা শহরে কোনো বাড়ি নেই বা চেষ্টা করেও আমেরিকা, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাতে পারছেন না বা হন্যে হয়ে পছন্দ মত একটি চাকরি যোগাড় করতে পারছেন না বা বিয়ের বয়স হয়েছে বিয়ে করতে পারছেন না; এমন হাজারো নেই-এর কারণে আপনি অতৃপ্তিতে ভুগছেন বা হতাশ হয়ে পড়েছেন বা আল্লাহর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। আচ্ছা, নেই-এর পাশাপাশি আপনার কী আছে এবারে একটু ভাবুন তো।

 দেখবেন, আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করে শেষ করতে পারবেন না। আল্লাহপাকের সীমাহীন অনুগ্রহ সবার জীবনেই রয়েছে, শুধু একটু উদার দৃষ্টিতে খেয়াল করতে হবে। বিষয়টি বোঝার স্বার্থে আমি আমার জীবন থেকেই একটু দেখি।

আমি আল্লাহপাকের এমন এক বান্দাহ যাকে দয়া করে আল্লাহ মুসলিম পিতা-মাতার ঘরে জন্ম দিয়েছেন, ফলে ইসলামকে জানা, বোঝা ও মানা আমার জন্য সহজ হয়েছে। মুসলিম ঘরে জন্ম লাভের পরও এমন অনেক হতভাগা রয়েছে যারা আল্লাহর দেয়া হেদায়াতকে মূল্য না দিয়ে তাঁর নাফরমানি করে যাচ্ছে। আল্লাহপাক অনুগ্রহ করে আমাকে তাদের দলভুক্ত না করে তাঁর হেদায়াতপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একজন মানুষ হিসেবে এটি আমার প্রতি আমার আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ। আলহামদু লিল্লাহ।

বর্তমান আমার বয়স ৬৭। আল্লাহপাক দয়া করে আমাকে এখনো সুস্থ রেখেছেন। চেষ্টা করে সুস্থ থাকা যায় না। সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার বড় নেয়ামত (অনুগ্রহ)। এজন্য বান্দাহকে তাঁর রবের প্রতি সর্বক্ষণ কৃতজ্ঞ থাকা দরকার। তাই আমিও অন্তরের গভীর থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আলহামদু লিল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা দয়া করে আমার মাকে আমাদের মাঝে এখনো জীবিত রেখেছেন। প্রায় প্রতিদিন মা’র সাথে কথা বলে দুআ চাওয়ার সুযোগ আল্লাহপাক রেখেছেন। আমার আব্বা ২০১৫ সনের ২৭ জানুয়ারি তাঁর রবের কাছে ফিরে গেছেন। আমি আমার আব্বাকে অনুভব করি এবং তাঁর জন্য দুআ করি। আমার বিশ^াস, দুআ করার মধ্য দিয়ে আল্লাহপাক আমার আব্বা ও আমাকে ছওয়াব দিয়ে যাচ্ছেন। সন্তান হিসেবে এটি আমার প্রতি আমার আল্লাহর এক বড় অনুগ্রহ।

আল্লাহ তায়ালা আমাকে চোখজুড়ানো স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, জামাই-পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনি এবং বেয়াই- বেয়াইন দিয়ে ধন্য করেছেন। দুনিয়ার জীবনে এ সবই আল্লাহপাকের একান্ত অনুগ্রহ। তাদের নিয়ে আমাদের দিনগুলো চমৎকার কেটে যায়। আমাদের চারটি নাতি-নাতনি রয়েছে। আমার স্ত্রীর সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে প্রতিদিন তাদের সাথে কথা বলা। আল্লাহ তায়ালার এ অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই। পরম করুণাময় আল্লাহপাকের কাছে দুআ করি তিনি যেন আমার সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিকে সুস্থতা দান করেন এবং হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।

আমার প্রতি আমার আল্লাহর অনুগ্রহ যে আমার ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন আমার প্রতি সু ধারণা পোষণ করেন ও খোঁজ-খবর নেন। আমার আল্লাহ আমাকেও তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ করার তাওফিক দান করেছেন। আলহামদু লিল্লাহ।

আর্থিক প্রাচুর্য আমাদের কখনই ছিল না এবং এখনো নেই। তবে আল্লাহপাক দয়া করে অসচ্ছল বা ঋণগ্রস্ত হওয়ার মত অবস্থা থেকে রেহাই দিয়েছেন। আমাদের মনে অতৃপ্তি বা পরিবারে এ নিয়ে কোনো সমস্যা অতীতেও ছিল না এবং এখনো নেই। আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি একটু উদার দৃষ্টিতে খেয়াল করলে দেখা যাবে শতকরা দশ জন মানুষও আমাদের অবস্থানে নেই। তাহলে কেন আমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞ হবো না? 

আল্লাহপাকের অনুগ্রহ যে, হালাল রুজিতে সন্তুষ্ট থাকার মত একটি মন আমার ও আমার পরিবারে সব সময়েই ছিল এবং এখনো আছে। ফলে ব্যয়ের দিক দিয়ে আল্লাহপাক আমাকে বড় অনুগ্রহ করেছেন। যেমন, আমার চারটি ছেলে-মেয়ে সরকারি স্কুল-কলেজ এবং পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে, চারটি সন্তানের জন্ম হয়েছে নিজ বাসায়। চিকিৎসা খাতেও আমাদের তেমন ব্যয় নেই। এ সবই আল্লাহপাকের দেয়া রিজিক ও অনুগ্রহ। তাই অবনত মস্তকে আল্লাহপাকের দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই। আলহামদু লিল্লাহ।

সামাজিক মানুষ হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের সাথে আমার মেলামেশা রয়েছে এবং ছাত্রজীবনের সহপাঠী ও চাকরিজীবনের সহকর্মী-ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আমার হৃদ্যতা, ভালোবাস কম নয়, এটিও আমার প্রতি আল্লাহপাকের এক অনুগ্রহ। আমি অনুভব করি আমার এ সব পরিচিতজনরা আমাকে অনুভব করে ও কল্যাণ কামনা করে এবং আমিও তাদের কল্যাণ কামনা করি।

আল্লাহপাক আমাকে তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণের যোগ্যতা দান করেছেন অর্থাৎ আমার আল্লাহ আমার প্রতি দয়ার্দ, অনুগ্রহশীল ও ক্ষমাশীল; ফলে আমি আমার আল্লাহর ক্ষমার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর আযাবকে ভয় করার মত মনও দিয়েছেন, ফলে তাঁর নাফরমানি থেকে সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করি এবং ভালো কাজ তা যত ছোটই হোক তাঁর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করার চেষ্টা করি।

মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ এবং অপরকে হিংসা করার মত বদ অভ্যাস থেকে আমার আল্লাহ আমাকে রেহাই দিয়েছেন। মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা ও ক্ষমা করা আমার খুব পছন্দের এবং বলা ও লেখায় আমি প্রায়ই তা প্রকাশ করি। ফলে আমার কেউ শত্রু আছে বলে মনে করি না। তাই আমি পেরেশানি মুক্ত।

দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। আসলে আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ তাঁর বান্দাহ কখনো গণনা করে শেষ করতে পারে না এবং সম্ভবও নয়। হয়তো বলবেন, আল্লাহ আপনাকে অনুগ্রহ করেছেন তাই এতো কথা। না, আপনি নিজেও আল্লাহর অপরিসীম অনুগ্রহ ভোগ করছেন। আপনার সুস্থতা, শিক্ষা-দীক্ষা, সন্তান, চাকরি, সামাজিক মর্যাদা হিসেব করলে আল্লাহর অসংখ্য অনুগ্রহে সিক্ত বলে আপনার মনে হবে। মনে হতে পারে ক্যান্সারে বা করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে লোক হাসপাতালে কাতরাচ্ছে সে কিভাবে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করবে। কেউ যদি তার রোগ-শোক ও দুঃখ-কষ্টে আল্লাহকে স্মরণ করে ও ধৈর্য অবলম্বন করে তাহলে বিশ্বাস করুন, সেই ব্যক্তি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েই তার রবের কাছে উপস্থিত হবে এবং জান্নাত প্রাপ্তি তার জন্য সহজ হবে।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তাঁর শোকর-গুজার বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ