বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মানুষের স্বপ্ন ভাঙ্গা কি ভালো কাজ

দেশের যিনি প্রধান হবেন তার পদবী হতে পারে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট। কোনো প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্টকে তো দেশের সব মানুষ বা সব দল ভোট দেন না। ভোট যেমন পক্ষে পড়ে, তেমনি আবার পড়ে বিপক্ষেও। তবে পক্ষে ভোট বেশি পড়লে কেউ হয়ে যান দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী। ভোট নিয়ে অবশ্য অনেক কথা আছে, আছে রকমফেরও। সে আলোচনায় এখন যাচ্ছি না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর দেশের মানুষের সাথে তার আচরণ। তিনি কি পক্ষ-বিপক্ষ বিবেচনায় দেশের মানুষকে বিভক্ত করবেন, অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কাজ করবেন? নাকি সম-আচরণ করবেন? কিন্তু এই সম-আচরণের ভিত্তি হবে কী? দেশের সংবিধান এবং সুশাসন হতে পারে এর ভিত্তি। এমন ভিত্তির চর্চা এখন পৃথিবীতে কতটা হচ্ছে? হলে বর্তমান সভ্যতায় শোষণ-ত্রাসন-আগ্রাসন, দমন-অবদমন, বর্ণবাদ, ধর্মবিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অভিবাসী সংকট আমরা লক্ষ্য করতাম না। এখানে বলে রাখা ভালো যে, দেশের ভূগোলে সংবিধান ও সুশাসন লংঘিত হলে, তার বিষফল লক্ষ্য করা যায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। বর্তমান সভ্যতা ও বিশ^ব্যবস্থা তার বড় প্রমাণ। করোনা পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে।

কালোদের সাথে, অভিবাসীদের সাথে প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্পের দ্বন্দ্বের কথা আমরা জানি। উগ্র শ্বেতাঙ্গ-জাতীয়তাবাদী চেতনায় উৎফুল্ল কোনো প্রেসিডেন্ট যে দেশের সংবিধান কিংবা সুশাসনকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন তা উপলব্ধি করা যায়। ট্রাম্প তার বড় উদাহরণ। এ ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকাও লক্ষণীয়। অভিবাসীদের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থানে বড় রকমের বাধা সৃষ্টি করলেন দেশটির সুপ্রীম কোর্ট। শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বড় হওয়া লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য ঘোষিত ‘ড্রিমারস’ কর্মসূচী বাতিলের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প নিয়েছিলেন, তা আটকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সুপ্রীম কোর্ট এ সংক্রান্ত এক রায় ঘোষণা করেন। ‘ড্রিমারস’ নামে পরিচিত এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসী তরুণ-তরুণী সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নেওয়া ওই কর্মসূচীর অধীনে নিজ দেশে জোরপূর্বক প্রত্যাবসনের শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষা পেয়ে আসছেন।

ড্রিমার বা বৈধ কাগজপত্র বিহীন বড় হওয়া লাখ লাখ তরুণ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট রুল জারি করলেও এখনই হাল ছাড়ছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শিগগিরই ‘বাড়তি কাগজপত্র’ আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার এমন কর্মকা-ে দেশটির সমাজে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সেটাই এখন দেখা বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ