বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আইসিএলে আমি নাটের গুরু ছিলাম না : আশরাফুল

স্পোর্টস রিপোর্টার: ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিজেই নষ্ট করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় কঠিন শাস্তিও ভোগ করেছেন। শুধু ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংই নয়, তার বিপক্ষে আরও একটি বড় অভিযোগ রয়েছে। ভারতের আইসিএলে করা হয়। আইসিএলে বাংলাদেশের যে দলটি অংশ নিয়েছিল, মোহাম্মদ আশরাফুলই ছিলেন নাকি সেই দলের নাটের গুরু। আশরাফুলই নাকি দল সাজিয়ে দিয়েছিলেন। শাহরিয়ার নাফীস, অলক কাপালি, আফতাব আহমেদসহ অনেক ক্রিকেটারকে আইসিএল খেলতে তিনিই নাকি উৎসাহিত করেছিলেন। আর শেষ পর্যন্ত দল গুছিয়ে নিজে যাননি,  কৌশলে সটকে পড়েছিলেন। এমন অভিযোগ আছে তার বিপক্ষে। তবে এবার আইসিএল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। 

অনেকদিন পরে হলেও সে আলোচিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদ তার ইউটিউব লাইভ অনুষ্ঠান ‘নটআউট নোমান’-এ তাকে  প্রশ্ন করেন, আপনার বিপক্ষে আইসিএল বিষয়ক যে অভিযোগ শোনা যায়, সেটা আসলে কতটা সত্য? জবাবে আশরাফুল বলেন,‘আমি পুরো দল গুছিয়ে দিয়েছি এমন অভিযোগ সঠিক নয়। ঐ দলে অনেক ক্রিকেটারই যোগ দিয়েছিলেন যাদের সঙ্গে আমার কোন কথাই হয়নি। আবার অনেকে খেলেছেন যাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আসলে প্রস্তাবটা আমার কাছেই এসেছিল। কারণ আমিই তখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলাম। ব্যাপারটা এমন ছিল  যে, আমি যদি যাই তাহলে বাংলাদেশের একটি দল আইসিএল খেলতে যাবে। আমার কাছে যখন প্রস্তাব আসে তখন আমি সবাইকে বলেছি, তোমরা কি আইসিএল খেলতে  যেতে চাও কি না? অনেকে বলেছে হ্যাঁ, আবার অনেকে বলেছে না। প্রশ্ন ছিল, আমি যদি যাই তাহলে টিম হবে। কিন্তু তখনকার বোর্ডে জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট অনেককেই জানিয়ে  দেই। লিপু (গাজী আশরাফ হোসেন লিপু) ভাইকে বলেছি। তখনকার কোচ জেমি সিডন্সকেও জানিয়েছি যে, আমার কাছে অমন এক প্রস্তাব এসেছে। মাশরাফিকেও বলা হয়েছে, দোস্ত তুই যাবি? ও সোজা বলে দেয় নাহ! আমি যাব না।’ আইসিএিলে তার বিপক্ষে নাটের গুরুর অভিযোগ নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘কথা ছিল আমি গেলে দল হবে। কিন্তু ঐ সময় আমি দেশের বাইরে চলে যাই। আর তাই বলা হয় আমিই নাকি সব করেছি। এটা মোটেও ঠিক নয়। আমি জানি ঐ দলে খেলতে যাওয়া কেউ কেউ বলেছেন আশরাফুল নাটের গুরু। সেটাও সত্য নয়। আমি দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সবাই ভেবেছে যে দল করে চলে গেছি। তাই কথা হয়েছে আশরাফুল সবকিছু করেছে। আসলে এটা নয়। অনেকে  গেছেন যাদের সঙ্গে কথাই হয়নি আমার। আমি পরে শুনেছি উনারাই টিম করেছেন। কিন্তু আমার নাম দিয়ে দেয়া হয়েছে।’ সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়া আশরাফুলের সামনে ছিল আরও দুটি দুর্দান্ত রেকর্ড গড়ার হাতছানি। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারতেন এ অসাধারণ ব্যাটিং প্রতিভা। ২০০৭ সালের ৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের গায়ানা সেঞ্চুরির অনন্য কৃতিত্বের অধিকারীও হতে পারতেন এ নন্দিত-নিন্দিত উইলোবাজ। কিন্তু ১০ রানের জন্য পারেননি। তবে তা পূরণ না হওয়ায় আমার অত বেশি আক্ষেপ নেই। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকা তখন বিশ্বের এক নম্বর দল, সেই দলের বিপক্ষে অমন ব্যাটিং (৮৩ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৮৭) করেছিলাম, সেটা অবশ্যই অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে। আর দিনশেষে আমরা ৬৭ রানে জিতেছিলাম, আমিও ম্যাচসেরা হয়েছিলাম। ফলে সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ চাপা পড়ে গিয়েছিল, তেমন খারাপ লাগেনি। তবে সেভাবে বলতে গেলে শ্রীলংকা বিপক্ষে ১৯০ রানে আউট হয়ে যাওয়াটাই বেশি কষ্টের। কোন তাড়াহুড়ো ছিল না। এমনিতেও ম্যাচ ড্র হয়েছে। আমি ২০০ করলেও ফল অপরিবর্তিতই থাকত। কিন্তু মাঝখান দিয়ে ১০ রানের আক্ষেপটা থেকে গেছে। আমার পেছন থেকে একই ম্যাচের সেই ইনিংসে মুশফিকুর রহীমই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিল। কাজেই সেটা একটা অতৃপ্তি ও অপ্রাপ্তি হয়েই আছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ