শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রস্তাবিত বাজেটে নগর দারিদ্র্য ও নয়া দারিদ্র্য উপেক্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মধ্যেই গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন। ইতোমধ্যে করোনা মহামারির কারণে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যা ২০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বাজেট পর্যালোচনা করে বক্তারা বলেছেন, তিনটি কর্মসূচিতে উপকারভোগী বৃদ্ধি ছাড়া নগর দরিদ্র এবং করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নেই। এছাড়া সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও ডাটাবেজ করার জন্য পরিকল্পনা ও বরাদ্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সমস্যা তো রয়েছেই।
গতকাল বুধবার ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশর উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মে  ‘২০২০-২১ বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ। আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাজেটের শিরোনামে মানুষ বাঁচানোর কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে বরাবরের মতো প্রবৃদ্ধিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। জীবন ও জীবিকার বিষয়টি এখন মুখোমুখি। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন খাদ্য সাহায্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু আরও কিছুদিন তা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যার প্রতিফলন বাজেটে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।
ড. এ কে এনামুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক সতর্ক হয়ে সরকারকে ব্যয় করতে হবে। অতি দরিদ্র মানুষ করোনার কারণে দ্বিগুণ হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। যদিও প্রতি বাজেটের বরাদ্দই খরচ হয় মূলত অর্থ-বছরের ছয় মাস পর থেকে। দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বরাদ্দ থাকা দরকার ছিল।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এ বছর সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার, প্রবাসী আয়ের অংশ, বেসরকারি ব্যাংকের করোনাকালের সুদের অংশ ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাহলে এগুলোকে ‘সুরক্ষা’ বলা যাবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। সামাজিক নিরাপত্তার উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী সাহায্য দেয়া হয়, কিন্তু কর্মসূত্রে তিনি অন্য জায়গায় থাকতে পারেন। ফলে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রক্রিয়াটি সংশোধন করা দরকার।
আলোচনাপত্র উপস্থাপনকালে মহসিন আলী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা মহামারির কারণে সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় সকল প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে, এর ফলে পাঁচ লাখ নতুন উপকারভোগী যোগ হবে। একইভাবে বিধবা ভাতায় যুক্ত হবেন তিন লাখ ৫০ হাজার নতুন উপকারভোগী। প্রতিবন্ধী ভাতার আওতা দুই লাখ ৫৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ লাখ করা হবে। এই বাবদ বাড়তি ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনটি কর্মসূচিতে কিছু উপকারভোগী ও বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনাকালে নগরে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অথচ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে যে সাতটি কর্মসূচি নগরের দরিদ্রদের জন্য পরিচালিত হয়, সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ