মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা শুনালেন শাহরিয়ার নাফিস

স্পোর্টস রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শাহরিয়ার নাফিসের অভিষেক ইংল্যান্ডে ২০০৫ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটো ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন তিনি। অভিষেকে ১০ রানের ইনিংসের পরের ম্যাচেই গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি, শেন ওয়াটসন, ব্রাাড হগ ও অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ান বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে উপহার দেন ৪৭ রানের ইনিংস। পরে চতুর্থ ম্যাচে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান। ইনিংসটি ছিল ৭৫ রানের। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্মরণীয় আবির্ভাব শাহরিয়ার নাফীসের। 

করোনাকালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এবার সবাইকে নিজের ক্যারিয়ার শুরুর গল্প শুনিয়েছেন নাফিস। শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আমার অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে। ওই ম্যাচটিতে খুব একটা ভালো করতে পারিনি, মাত্র ১০ রান করেছিলাম। আমরা বড় ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যাই। পরের ম্যাচ খেলার জন্য চলে যাই ম্যানচেস্টারে। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া।’ প্রথম ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়ার ভয় ছিল নাফিসের। তিনি বলেন, ‘ডেভ  হোয়াটমোর প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মিটিং করেন। আমরা কীভাবে খেলবো, আমাদের কৌশল কীহবে। কোচ আমাদের নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি প্রথম ম্যাচ ভালো করতে পারোনি কোনও সমস্যা নেই।

 সামনে আমাদের আরও ম্যাচ আছে, সেখানে তুমি নির্ভার হয়ে খেলো। বাদ পড়ার কোনও চিন্তা করবে না। তোমার ওপর বিশ্বাস রাখছি।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৭ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন নাফিস। নাফিস বলেন,‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা। আমরা এর আগের ম্যাচেই ওদের হারিয়েছি (কার্ডিফে আশরাফুলের অতিমানবীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়)। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়াও ফুঁসে ছিল। প্রচ- নার্ভাস ছিলাম। কীভাবে খেলবো এই  বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পিদের।  

নার্ভাসনেস নিয়ে আমি আর জাভেদ ভাই প্রস্তুস হলাম।  আমি আমার সঙ্গী জাভেদ ভাইকে আগে যেতে দেই। এতো ভয়, এতো নার্ভাসনেস আমি অন্য কোনও ম্যাচে পাইনি।’ ম্যাকগ্রাকে খেলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাফিস বলেছেন, ‘ব্রেট লিকে শেষ করার পর ম্যাকগ্রার ওভার আাসে। একদম ছোটবেলা থেকে ম্যাকগ্রার বোলিং দেখেছি।  তাকেও সাহস করে খেলে ফেললাম। একটা বল খেললাম, দুইটা বল খেললাম, একটি সিঙ্গেল নিলাম। এভাবে আস্তে আস্তে কিছুটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হল।’ গিলেস্পিকে নিয়ে নাফীস বলেছেন, ‘ওর গতি ম্যাকগ্রার চেয়ে বেশি কিন্তু ব্রেট লির মতো না। তখন কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম।  প্রথম বলেই মনে হয় থার্ড ম্যান দিয়ে চার মারি। এভাবেই খেলতে খেলতে ওই ম্যাচের সেরা শটটা পেয়ে যাই। একটা কভার ড্রাইভ করেছিলাম গিলেস্পিকে। দারুণ শটে চার হয়েছিল। ম্যাচে সেটা ছিল আমার ব্যক্তিগত পছন্দের ও সেরা শট। এরপর অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে  দেখে মনে হলো এতো ভালো ভালো বোলার খেলেছি। ওকে  কেন-ই বা খেলতে পারবো না। একটি সিঙ্গেল নিলাম। ততক্ষণে আমার রান ৪৭-এ পৌঁছে গেছে। ৫৬ বলে ৪৭ রান। এরকম একটি পজিশনে থেকে মনে হল, এখন একটু হাত খুলে খেলা যায়। ওইটাই আসলে আমার কাল হয়ে দাঁড়ালো। আমি আউট হয়ে যাই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ