মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত ১৩ চিকিৎসক

খুলনা অফিস : খুলনায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে যে ১৩ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন, তারা কেউই নুরনগরে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক রাখতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করেন তারা। এছাড়া নার্স ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাত্র ২ জনের সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে আসার খবর পাওয়া গেছে। বাকিরা তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খুলনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন চিকিৎসক, ৪ জন নার্স ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল নার্সিং সুপারভাইজার শিলা রাণী দাস, যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি করোনা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া রূপসায় একজন ইপিআই টেকনিশিয়ান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তির নমুনা নেয়ার সময় নিজেও আক্রান্ত হন। তারা দুইজনে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ আছেন। এছাড়া বাকি যে সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের কেউ সরাসরি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হননি।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, গত ১৮ এপ্রিল খুলনায় প্রথম চিকিৎসক হিসাবে করোনা আক্রান্ত হন ইউরোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ। এর পরদিনই আক্রান্ত হন গ্যাস্ট্রোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রনজিৎ কুমার বণিক এবং শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ওমর খালেদ ফয়সাল। এই তিনজন চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও ডা. মাসুদ আহমেদ ছাড়া আর দু’জন খুলনায় থাকতেন না। তাদের পরিবার ঢাকায় থাকার সুবিধার্থে তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে চেম্বার করতেন। পরবর্তীতে খুলনায় আসার এক সপ্তাহের মাথায় তারা আক্রান্ত হন। এরপর তারা আবারও ঢাকায় চলে যান সেখানে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এছাড়া সিনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাসরীন কবীর, আবু নাসের হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুল কাদির, ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হক, রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাকসুদা পারভীন, ডা. বুশরা, খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, গাজী মেডিকেল কলেজের এনেস্থেসিয়া বিভাগের একজন চিকিৎসক এবং ডা. আফিফ নামে একজন মেডিকেল অফিসার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুমেকের ল্যাবে করোনা টেস্টে প্রথমে নেগেটিভ হওয়ায় একজন রোগী নেগেটিভ সনদ দিয়ে ডক্টর পয়েন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু মাত্র দুইদিনের মাথায় সিনিয়র একজন চিকিৎসক এসে তাকে আবার করোনা পরীক্ষা করতে বললে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় তিনি পজেটিভ হয়েছেন। ততক্ষণে এই বেসরকারি হাসপাতালের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত ৫ চিকিৎসক করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তথ্য গোপন করে দুই ব্যক্তির চিকিৎসা নিতে আসা এবং পরীক্ষায় পজেটিভ হওয়ায় সেখানে দুই চিকিৎসক করোনা সংক্রমিত হয়েছে।
এছাড়া ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালেও মান্নান সরদার নামে একজনের করোনা সংক্রমিত হওয়ায় এখানে চিকিৎসা দেয়া দুইজন চিকিৎসক ও এই হাসপাতাল থেকে সংক্রমিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী বা তাদের স্বজনরা মিথ্যা তথ্য দেবার কারণে এসব রোগীদের স্পর্শে আসা চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সাথে তাদের পরিবারের অনেক সদস্য ও পজেটিভ হয়েছেন। এছাড়া খুমেক হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকার ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়।
খুমেক উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনায় করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে শুধুমাত্র সিনিয়র নার্স শিলা দাস আক্রান্ত হলেও কোন না কোন রোগীর সেবা দিতে গিয়েই চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সব ধরনের রোগীদের চিকিৎসা দেয়াই চিকিৎসকদের নৈতিক দায়িত্ব। কোভিড ও নন কোভিড উভয় রোগীই চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী যদি চিকিৎসকের কাছে তার তথ্য গোপন করে তাহলে চিকিৎসকের কাছে কিছুই করার থাকে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ