মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দেশের অর্থনীতিতে কালো টাকার পরিমাণ জিডিপির ৩৮ শতাংশ

# তালিকা প্রকাশের ভয়ে কালো টাকা সাদা হয় না
# ১৫ বার সুযোগে সাদা হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা
মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের কালো টাকা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ। আর এই হার বেড়ে ২০০৭ সালে দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশে। পরিসংখ্যান বলছে বর্তমানে দেশে কালো টাকার পরিমান জিডিপির ৩৮ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের স্বার্থে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উল্লেখ করেন। সরকার কালো টাকা অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে ‘সাদা’ করার সুযোগ দেয়। কখনো ঢালাও সুযোগ, কখনো শর্ত সাপেক্ষে সুযোগ। কিন্তু সরকারের দেয়া এ ধরনের সুযোগকে খুব বেশি কাজে লাগান না কালোটাকার মালিকেরা। এ পর্যন্ত ১৫ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলেও সাদা করা হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালিকা প্রকাশের ভয়ে কালো টাকা খুব বেশি সাদা হয় না।
কালো টাকার বিষয়টি আসলে প্রতীকি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে কালো টাকা বলতে এমন টাকাকে বুঝানো হয় যার উৎস বৈধ বা আইনসম্মত নয়। ঘুষ, দুর্নীতি, কালোবাজারি, চোরাকারবার, মাদক ও অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ হচ্ছে কালো টাকা। তবে আয়কর আইন অনুসারে বৈধ উৎস থেকে অর্জিত অর্থও কালো হতে পারে, যদি টাকার মালিক তার আয়কর বিবরণীতে তার উল্লেখ না করেন, ওই টাকা করযোগ্য হলেও কর না দেন। অবশ্য আয়কর আইনে  কালো টাকা বলতে কিছু নেই। আইনের কোথাও এ শব্দটির উল্লেখ নেই। সেখানে অপ্রদর্শিত অর্থের উল্লেখ আছে। আয়ের যে অংশ আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শন করা হয় না, তা-ই অপ্রদর্শিত অর্থ (Un-disclosed Money); সাধারণভাবে যা কালো টাকা নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের কালো টাকার পরিমাণ ঠিক কতো তার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই বা সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। তবে রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ বিভাগের নানা সূত্র থেকে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে তাতে দেখা যায় এ পর্যন্ত দেশে ১৫ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা সাদা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। ওই দুই অর্থ বছরে প্রায় ৩২ হাজার ব্যক্তি ওই সুযোগ নিয়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা বৈধ করেছিলো। আর এ যাবতকাল মোট সাদা হয়েছে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং তার বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি : ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের কালো টাকা ছিল ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০০ সালে কালো টাকার হার বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০০১ সালে ৩৫ দশমিক ৭, ২০০২ সালে ৩৫ দশমিক ৫, ২০০৩ সালে ৩৫ দশমিক ৬, ২০০৪ সালে ৩৫ দশমিক ৭, ২০০৫ সালে ৩৬, ২০০৬ সালে ৩৬ দশমিক ৭ এবং ২০০৭ সালে আরও বেড়ে হয় ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে তা ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
বর্তমান সরকারের আমলেই ২০১২-১৩ সালে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার একটা স্থায়ী নিয়ম তেরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়কর আইনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা ও কর দিয়ে পুঁজি বাজার ও আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আছে। তবে অন্যবার শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলেও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক বছরের জন্য ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছেন। এবার আর কোনো শর্ত নয়। কারও কাছে নগদ টাকা থাকলেও তা সাদা করা যাবে। এত দিন যে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ‘বালিশের নিচে’ নগদ টাকা পাওয়া যেত, সেই টাকাও সাদা হবে। ব্যাংকে থাকা টাকার পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বণ্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা অবৈধ টাকাও ঘোষণায় আনা যাবে। শুধু বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে ওই টাকা প্রদর্শন করে ১০ শতাংশ কর দিলেই চলবে।
কেউ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো শেয়ারে কালোটাকা বিনিয়োগ করতে চাইলে তা কমপক্ষে তিন বছরের জন্য করতে হবে। কারণ, তিন বছরের লক ইন বা বিক্রয় নিষেধাজ্ঞার শর্তে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এত দিন ফ্ল্যাট কেনায় এই সুযোগ ছিল। এখন নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে জমি কেনাতেও এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবার কেউ কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাঁকে কোনো প্রশ্নও করবেই না, সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষও টাকার উৎস জানতে চাইবে না। এমন সুযোগ খুব কমই পেয়েছেন অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থের মালিকেরা। এবার তাঁদের জন্য সেই ‘সুবর্ণ সুযোগ’।
এ বিষয়ে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, এবার সরকার অনেকটা বেপরোয়াভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত সরকার স্বীকার করে নিল, অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা রয়েছে।
এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের স্বার্থে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, এক্সট্রা অর্ডিনারি টাইম রিকয়্যারস এক্সট্রা অর্ডিনারি মেজারস’ অর্থাৎ বিশেষ সময়ে বিশেষ উদ্যোগের দরকার। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে এমন সুযোগে কখনোই খুব বেশি সাড়া মেলেনি। প্রায় সব সরকারই কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে ১৫ বারের মতো কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি সাদা করা হয়েছে।
কেন কালোটাকা সাদা হয় না, এ প্রসঙ্গে সেলিম রায়হান বলেন, কালোটাকার মালিকেরা হয়তো মনে করেন, টাকা সাদা করার চেয়ে বিদেশে পাচার করলে বেশি লাভ। এ ছাড়া যদি কখনো তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাহলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার শঙ্কাও থাকে।
কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি বরাবরই বিরোধীতা করে আসছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি কালো টাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা করেছিলো ২০১১ সালে এবং এরপর থেকে প্রতিবছরই কালো টাকা সাদা করার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার বক্তব্য দিচ্ছে।  এবারও নতুন অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা ‘কালো টাকাকে’ বৈধ করার যে বাড়তি সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে, তাকে ‘অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থি’  হিসেবে বর্ণনা করে এ সুযোগ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতার সম্পূর্ণ বিপরীত ও অমর্যাদাকর পদক্ষেপ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাজেটে ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকাতে ৫০ শতাংশ কর আরোপের বিধান আয়কর অধ্যাদেশে যুক্ত করার প্রস্তাবকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যায়িত করেন তিনি। এ বাজেটকে  ‘দুর্নীতি সহায়ক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এতে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণের বদলে বরং এর মহোৎসবের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রস্তাবসমূহ দুর্নীতি-সহায়ক, স্ববিরোধী, বৈষম্যমূলক ও সংবিধান-পরিপন্থি।
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিলে সৎ করদাতাদের প্রতি একধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। কারণ, একজন করদাতা বৈধভাবে ২০ লাখ টাকার করযোগ্য আয় করলে তাঁকে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। আর একজন ব্যক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত ২০ লাখ টাকা এখন সরকারের দেওয়া সুযোগে সাদা করেন, তাহলে তাঁকে মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অর্থাৎ ২ লাখ টাকা কর দিয়েই ২০ লাখ টাকা সাদা করে ফেলতে পারবেন তিনি। তার মানে, সৎ করদাতাদের চেয়ে ৯৫ হাজার টাকা কম কর দিয়ে অবৈধ অর্থ বৈধ করে ফেলতে পারবেন ওই টাকার মালিক। তাই অর্থনীতিবিদ ও ভালো ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন সব সময়। তাঁদের মতে, এ ধরনের সুযোগ সৎ করদাতাদের জন্য পুরস্কারের বদলে শাস্তিস্বরূপ।
কী উপায়ে তৈরি হচ্ছে কালো টাকা: পেশাজীবীদের অপ্রদর্শিত আয়- চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, এনজিও খাত কিংবা এমন অনেক পেশায় চাকরির বাইরেও পেশাগত চর্চার মাধ্যমে অর্থ আয়ের সুযোগ আছে। যেমন চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্রাকটিস করেন। এখন কোনো চিকিৎসক যদি এ থেকে পাওয়া অর্থ আয়কর রিটার্নে না দেখান তা হলে সেটি কালো টাকায় পরিণত হয়। ঘুষ-দুর্নীতি- সেবা খাত, ক্রয় খাতে কেউ যদি ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন তাহলে সেটি তার বৈধ আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এভাবে অনেকে নগদ অর্থ উপার্জন করেন যেগুলো বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে বা অর্থনীতিতে আসে না। এ অর্থই কালো টাকা। অর্থ পাচার - পাচার করা অর্থই বাংলাদেশের কালো টাকার একটি বড় অংশ বলে মনে করা হয়। দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে আবার সেই অর্থ দেশে আনার খবরও শোনা যায়। বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের মতো পাচার হয় বলে ধারণা করেন গবেষকরা।
নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা- কালোবাজারি, চোরাকারবারি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার বাজার বেশ বড় বাংলাদেশে। এসব কাজে জড়িত অর্থের পুরোটাই কালো টাকা মনে করা হয়। কারণ এগুলো বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে নিষিদ্ধ। অর্থাৎ কেউ যদি মাদক বিক্রি করে অর্থ আয় করেন তবে সেটি কালো টাকা, কারণ এগুলো আয়কর বিবরণীতে উল্লেখের সুযোগই নেই। আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিং - ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কালো টাকা তৈরি হয় এই প্রক্রিয়ায়। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি বা রফতানির ক্ষেত্রে কাগজপত্রে অনিয়ম করে দাম বেশি বা কম দেখিয়ে করের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়। এর মাধ্যমে যে অর্থ সরানো হয় সেটিই কালো টাকা। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বলেছে, ২০১৫ সালে বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। জমি ক্রয় বিক্রয় - বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে জমির মূল্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে এসব জমি ক্রয় বা বিক্রয়ের সময় সরকার বাজার মূল্য অনুযায়ী বা সত্যিকার অর্থে যে দামে ক্রয় বিক্রয় হয় সে দাম অনুযায়ী রাজস্ব পায় না। এভাবেই এ প্রক্রিয়াটি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকাকে কালো তালিকায় নিয়ে যায়।
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী পেশাজীবীরা: টিআইবিরই এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশীদের ত্রিশভাগও এখানে যা আয় করে কাগজপত্রে তা দেখায় না। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন তারা যে ঘোষণা দেয় সেটি তাদের আয়ের চেয়ে অনেক কম। ফলে এখানেও কালো টাকা তৈরি হচ্ছে।
কালো টাকার ব্যপ্তি: বিশ্বব্যাংকের ২০০৫ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০২-২০০৩ সালে বাংলাদেশে কালো টাকার পরিমাণ ছিল মোট জিডিপির ৩৭.৭ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জরিমানা দিয়ে বৈধ করার মোট টাকার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আর দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির করা অদৃশ্য অর্থনীতি শীর্ষক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছিলো যে জিডিপির ১০ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে এটি ওঠানামা করে।
সংস্থাটি তখন গবেষণার সময় যে তথ্য সংগ্রহ করেছিলো তাতে দেখা যাচ্ছিলো যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা হয়েছে। তখন ১ হাজার ৯২৩ জন ব্যক্তি প্রায় এক হাজার ২১৩ কোটি টাকা সেবার সাদা করেছিলো। গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করে তখন সংস্থাটি সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর থেকে অদৃশ্য অর্থনীতির ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এগার দফা সুপারিশ করেছিলো। এর মধ্যে প্রধান সুপারিশ ছিলো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে কার্যকর অটোমেশন চালু করে কালো টাকা সাদা করার সব উৎস চিরতরে বন্ধ করে দেয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো অটোমেশন অনেক জায়গায় চালু হলেও বন্ধ হয়নি কালো টাকা তৈরির প্রক্রিয়া।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবার আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আমরা বলেছি এটা নৈতিক দিক থেকেও কাম্য নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটা খুব একটা লাভজনক নয় এবং রাজনৈতিক দিক থেকেও এটা বর্তমান সরকারের পক্ষে যাবে বলে মনে হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ