বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মাগুরায় অভাবী মানুষের আর্তনাদ

মাগুরা সংবাদদাতা: ঈদের আগের দিন সাকালে ১০ কেজি চাল,১ কেজি ডাল, ২কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ ২ কেজি ছোলা পেয়েছিলাম। তিন সদস্যের সংসারে তিন দিন ধরে পেটের জ¦ালায় কাতরাচ্ছিলাম। প্রতিবেশি এক ভাবী ১০ কেজি চাল,১কেজি ডাল,১ কেজি তৈল, আধা কেজি লবন ও ১ কেজি চিনি দিয়েছিলাম। তা দিয়ে বেশ কদিন চলছিল। এখন টাকা নেই, বাজার নেই,কোন আর্থিক সহযোগিতাও নেই। ১০ টাকার চাল বিক্রি হয় শুনে ধার করে কিছু টাকা যোগাড় করি এবং ভায়না মোড় গিয়ে কোন হদিস না পেয়ে ফিরে আসি বাসায়। মাগুরা পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সল পাড়ার বাসিন্দা লাবুর মা একথা বলেন ৯জুন সকালে। একমাত্র পুত্র সন্তান লাবু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বছর খানেক আগে মারা যায়। ১ ছেলে স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা আয়েশা কে রেখে লাবু মারা যায়। লাবুর বাবা ছিলেন ফেরিওয়ালা, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৮০ দশকে মারা যায়। লাবুদের বাবার বাড়ী ছিল ফরিদপুর জেলার মোকছেদপুর গ্রামে। অভাবের তাড়নায় ১৯৭৮ সালে চলে আসেন মাগুরা। শহরের কাউন্সিল পাড়া বস্তিতে আশ্রয় নেয় তারা। লাবু সাকুরা  কালার ল্যাবে চাকুরী নেয়। সুখে শান্তিতে চলে তাদের দিন। সড়ক দুর্ঘটানায় মারা গেলে লাবুদের সংসারে নেমে আসে অভাব অনটন। করোনা ভাইরাসের ভয়ে লাবুর মা আয়েশা খাতুন বাসা বাড়ী থেকে বের হয়না। লাবুর মা জানান আমার লাবুর একমাত্র ছেলে  হাশেম বয়স তার ৩ বছর। লাবুর স্ত্রী জরিনা বেগমও স্বামীর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কোন কিছু তার ভাল লাগেনা । শুধু লাবুর মা নন,তার মত আরো অনেক লাবুর মা ১০ টাকার চাল সংগ্রহ করতে ভায়না মোড়, কাঁচা বাজার,পুরাতন বাজার নতুন, বাজার চাউলিয়া বাসষ্ট্যান্ড, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে ভীড় করেও অদ্যাবধি কোন চাল কিনতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুধার যন্ত্রনা পেটে থাকলে ও বাইরে কাউকেও বলাটা লজ্জার ব্যাপার বলেই মনে করেন এসব দুর্ভোগ তাড়িত মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ