বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আইনের বেপরোয়া লংঘন

করোনার সংক্রমণ এবং করোনায় মৃত্যু বেড়ে চলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে আইনের বেপরোয়া লংঘনের কর্মকান্ড। গণপরিবহন থেকে ফুটপাথ ও বাজার পর্যন্ত এমন কোনো স্থান বা বিষয়ের কথা বলা যাবে না- যেখানে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীসহ বড় বড় নগরীতে তো বটেই, জেলা শহরগুলোতেও গণপরিবহনে সামাজিক বা দৈহিক দূরত্বের আইন মানা হচ্ছে না। যাত্রী ওঠানো হচ্ছে ঠেসাঠেসি করে। চালক ও হেল্পারসহ যানবাহনের কর্মীরা ভাড়া কিন্তু বর্ধিত হারেই আদায় করছে। আপত্তি ও প্রতিবাদ জানানো মাত্র যাত্রীদের ওপর তেড়ে উঠছে বাসের লোকজন। অনেককে অপমান করে মাঝপথে নামিয়ে পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি দেখার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরং গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, সব গণপরিবহনই নাকি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছে!

গতকাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, যানবাহনে তো ঠেসাঠেসি করে যাত্রী ওঠানো হচ্ছেই, রাজধানীর ফুটপাথগুলোও নি¤œমানের সুরক্ষা সামগ্রীতে সয়লাব হয়ে গেছে। চার-পাঁচ হাজার টাকা দামের পিপিই ফুটপাথে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুইশ’ টাকায়। হ্যান্ডগ্লাভস এবং মাস্কের মতো অত্যাবশ্যকীয় বিভিন্ন সামগ্রীও দেদারসে দশ-বিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব বিষয়ে নালিশ জানানোর মতো কর্তৃপক্ষীয় কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন বরং বলেছেন, এখন নাকি ভালো-মন্দ দেখার সময় নয়। মানুষ মাস্ক পরছে কি না সেটাই নাকি দেখা দরকার! এই মাস্ক ফুটপাথের হলেও নাকি আপত্তির কারণ নেই। ওই সিভিল সার্জন আরো বলেছেন, তারা প্রধানত কিৎসকদের পিপিই এবং মাস্কের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখছেন। সরকার নাকি জনগণকে ফুটপাথ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে নিরুৎসাহিত করেছে। তারপরও যারা কিনছে তারা নিজেদের দায়িত্বেই কিনছে। এ বিষয়ে সরকারের নাকি কিছুই করার নেই!

বলার অপেক্ষা রাখে না, নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সরকারের মনে ভাবেরই প্রকাশ ঘটেছে। সারাদেশে যখন করোনা ভাইরাস মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ছে তেমন এক কঠিন  সময়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে সরকারের এ ধরনের মনোভাব গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা মনে করি, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যাপারেও সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে সরকারের চোখের সামনেই রাস্তাঘাটে পর্যন্ত পিপিই ও মাস্ক ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে অনেক কম দামে। ফলে ধর্ইে নেয়া যায়, এসব সামগ্রী মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বরং এগুলোর ব্যবহার করলে মানুষকে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে। সুতরাং সরকারের উচিত প্রতিটি সামগ্রীর মান নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া। প্রয়োজনে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া। 

একই কথা গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার পরও পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা কিভাবে অর্ধেক সিট খালি রাখার পরিবর্তে ঠেসাঠেসি করে যাত্রী ওঠাতে পারছে এবং তাদের কারণে কেন যাত্রীদের বিপন্ন হতে হচ্ছেÑ এসব বিষয়েও সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া। সরকারকে বুঝতে হবে, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও করোনার মহামারিতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দিন দিন আক্রান্ত ও মৃতদের সংখ্যা কেবল বাড়ছেই। সুতরাং করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। এখানে বাস মালিকসহ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে ছাড় দেয়ার সুযোগ থাকতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ