বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও ভাইরাসে মৃত্যুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে দরিদ্রের সংখ্যাও লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি জানিয়েছে, গত ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আড়ালে ৬৬ দিনের লকডাউনে নতুন করে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ গরীব ও অতি দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গরীব ও দরিদ্রের সংখ্যা বাড়লেও ধনিক শ্রেণির ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অতি ধনিক শ্রেণির এক কোটি ৭০ লাখ মানুষের মধ্যে অনেকে বরং আরো ধনি হয়েছে। তাদের অর্থবিত্তও বেড়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যবিত্তরা। আগের তিন কোটি ৪০ লাখ উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ, তিন কোটি ৪০ লাখ মধ্যম পর্যায়ের মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন পর্যায়ের মধ্যবিত্ত হয়েছে এক কোটি দুই লাখ আর পাঁচ কোটি ১০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে এক কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র হয়েছে এবং তিন কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্র হয়েছে দুই কোটি ৫৫ লাখ মানুষ। এভাবে সব মিলিয়ে লকডাউনের ৬৬ দিনে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ। 
সোমবারের ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশ শুধু নয়, করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সমগ্র বিশ্বই বর্তমানে মহা সংকট পার হচ্ছে। সংকটে পড়েছে ২১৩টি রাষ্ট্র এবং প্রায় আটশ’ কোটি মানুষ। করোনার কারণে গত ৭ জুন পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট দশমিক আট ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আএলও’র হিসাবে বিশ্বের ৫০ শতাংশ মানুষ একই সংকটের শিকার হয়ে চাকরি তথা জীবিকা হারাতে পারে। বাংলাদেশে চাকরি হারিয়ে বেকার হতে পারে ১৭ কোটি মানুষ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সত্যিই তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এক দেড় লাখ ধনি ও অতি ধনি ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষকেই গরীব, দরিদ্র এবং অতি দরিদ্র হয়ে পড়তে হবে। অমন অবস্থা অবশ্যই কাম্য হতে পারে না। অন্যদিকে বিশেষ করে তৈরি পোশাক তথা রেডিমেড গার্মেন্ট কারখানায় ব্যাপক হারে শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে বলে মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। যুক্তি হিসেবে বিদেশি অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণ জানাচ্ছেন নেতারা।
অন্যদিকে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর বিদেশি ক্রেতারা মাত্র আট হাজার কোটি ডলারের অর্ডার বাতিল করেছেন। এখানেও কথা আছে। সব অর্ডারই তারা বাতিল করেননি। অর্ডারের একটি বড় অংশ স্থগিত করা হয়েছে- যেগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তারা আবার নেবেন। অন্যদিকে বিজিএমইএর নেতারা এমনভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন যা শুনে মনে হতে পারে যেন তাদের সব অর্ডারই বাতিল হয়ে গেছে! অথচ স্থগিত ও বাতিল মিলিয়ে হয়েছে মাত্র আট হাজার কোটি ডলারের। এর বাইরে রয়েছে আরো প্রায় ৯২ হাজার কোটি ডলারের অর্ডার। তাছাড়া সরকার তাদের ৭২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে। সুতরাং সব মিলিয়ে এদেশের গার্মেন্ট মালিকরা যথেষ্ট লাভজনক অবস্থায় রয়েছেন।
একই কারণে তাদের উচিত ছাঁটাই করার চিন্তা বাদ দিয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে সকল কারখানা পূর্ণ উদ্যমে চালু করা এবং প্রতিটি কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো। আমরা তো মনে করি, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেটাই হবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। এর ফলে ছাঁটাইয়ের প্রশ্ন আসবে না। বরং নতুন বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ অনেক ভালো করতে পারবে। চাকরিও পাবে বহু বেকার লোকজন। আমরা আশা করতে চাই, বিজিএমইএ তথা গার্মেন্ট মালিকরা লাভজনক ও সম্ভাবনাময় সে পথেই পা বাড়াবেন। একথা বুঝতে হবে যে, লকডাউনের মাত্র ৬৬ দিনে প্রায় ছয় কোটি মানুষের দরিদ্র হয়ে পড়ার খবর সকল বিচারেই অত্যন্ত ভীতিকর। এই মহাসংকট কাটিয়ে উঠতেই হবে। আর এ ক্ষেত্রে গার্মেন্ট মালিকরা নিঃসন্দেহে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ