সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

হ্যাকাররা যেভাবে তাইওয়ানের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: উহানের সাথে সরাসরি ফ্লাইট আর ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি শহরে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস - প্রথম দিকে মনে হয়েছিল তাইওয়ানের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে কোভিড-১৯ এ মারা গেছে মাত্র ৭ জন। আর তারা কখনো পুরোপুরি লকডাউনেও যায়নি।

এই সাফল্যের জন্য তাইওয়ানের নেতারা মানুষের মাস্ক পরার প্রবণতাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন, তবে মাস্কের কার্যকারিতা তারা ব্যাখ্যা করছেন একটু অন্যভাবে।

তাইওয়ানের ডিজিটাল মন্ত্রী অড্রে ট্যাং বলেন, "মাস্ক প্রথমত, আপনাকে হাত ধুতে অনুপ্রাণিত করবে, দ্বিতীয়ত, আপনাকে মুখে হাত দেয়া থেকে থামাবে - এগুলো হচ্ছে মাস্ক পরার মূল উপকারিতা।"

১৯৫০-এর দশক থেকে তাইওয়ানের মানুষ মাস্ক পরে আসছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে মাস্কের চাহিদা।

বিভিন্ন এলাকার মাস্ক বিক্রেতাদের আপডেট করা তথ্য নিয়ে 'মাস্ক ম্যাপ'এর সিরিজ তৈরি করে হ্যাকাররা

চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেড়ে যায় মাস্কের উৎপাদনও। আগে যেখানে দিনে ২০ লাখ মাস্ক তৈরি হতো, সেখানে ২ কোটি মাস্ক তৈরি হতে লাগলো।

ফার্মেসি ও অন্যান্য দোকানে মাস্ক কেনার জন্য মানুষের এমন লম্বা লাইন লেগে যায় যে লাইনের জনসমাগম থেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা শুরু করে মানুষ।

তাই সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রত্যেক এলাকার মাস্কের মজুদের তথ্য জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করা হবে।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে অড্রে ট্যাংয়ের মন্ত্রণালয় একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যেখানে প্রত্যেক মাস্ক বিক্রেতা তার মজুদের তথ্য আপডেট করে রাখতে পারবে।

এরপর কাজ শুরু করে তাইওয়ানের হ্যাকিং কমিউনিটি, যাদের সাথে বেশ কয়েকবছর ধরে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে দেশটির সরকার।

বিভিন্ন এলাকার মাস্ক বিক্রেতাদের আপডেট করা তথ্য নিয়ে তারা 'মাস্ক ম্যাপ'-এর সিরিজ তৈরি করা শুরু করে।

এর ফলে নাগরিকরা জানতে পারতেন তাদের বাসা বা কর্মস্থলের কাছে কোথায় মাস্ক পাবেন তারা। কোন দোকানে কতগুলো মাস্ক আছে, পাওয়া যেতো সেই তথ্যও।-বিবিসি

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ