ঢাকা, শনিবার 11 July 2020, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনায় গণপরিবহন: অতিরিক্ত ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী

সংগ্রাম অনলাইন: পহেলা জুন থেকে শুরু হয়েছে সব ধরণের বাস ও বিমান চলাচল। এর আগের দিন থেকে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলও শুরু হয়। সরকারি শর্ত মতে বলা হয়েছিল যে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সব ধরণের গণপরিবহন চলাচল করবে।

প্রথম দিন কিছু বাসে শর্ত মেনে যাত্রী তুলতে দেখা গেলেও বুধবার থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে।এক সিট ফাঁকা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।কিছু যাত্রী প্রতিবাদ করলেও তোয়াক্কা করছেনা বাসের চালক ও হেলপাররা।সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করছে বিআরটিসি বাস।টঙ্গীবাজার থেকে উঠে দেখা গেলো সিট খালি নেই।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখা গেলো পাশাপাশি সিটে বসিয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে, আবার অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে।গাজীপুর থেকে ছেড়ে আসা বলাকাসহ অন্য বাসেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।একই অবস্থা দেখা গেছে সাভারেও।

যাত্রীদের তুলনায় বাস কম হওয়ায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।সিট না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীরা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য পাশাপাশি সিটে বসছেন।বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও মানুষের ভীড়, গাদাগাদি অবস্থা।বাসে ওঠার সময়ও গাদাগাদি করেই উঠতে হচ্ছে।

আবার অধিকাংশ বাসে এক সিট থেকে আরেক সিটের (সামনে-পেছনের) দূরত্ব ১ থেকে দেড় ফুটের বেশি না।অথচ স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা।তাই বাস যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নেই বললেই চলে।

সাভারের ইপিজেড এলাকার নিয়মিত বাস যাত্রী অঙ্কন আরা।তিনি একটি কারখানায় ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করেন।সাভারের জিরানী এলাকা থেকে বাসে করে কর্মস্থলে যান তিনি। অঙ্কন আরা বলেন, বাসে উঠার পর সামাজিক দূরত্ব মানাটা বেশ কষ্টকর। বেশিরভাগ সময়েই তা সম্ভব নয়। এছাড়া যাত্রীদের মধ্যেও অসচেতনতা আছে বলে জানান অঙ্কন আরা।

তার ভাষ্য, "আমি বাসে উঠার পর এক লোক বললো যে, আপনি চাপেন। আমি বললাম যে, এখন তো এক সিটে একজনকেই বসতে হবে। আপনি পেছনের সিটে গিয়ে বসুন। উনি আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিলেন। পরে অবশ্য গিয়ে পেছনে বসলেন।"

"যাত্রীরাই এমন করলে তো বাসের কর্মীরাও এর সুযোগ নেবে, এক সিটে দুজনকে বসাবে," তিনি বলেন।

একই ধরণের অবস্থা ছিল রাজধানী ঢাকাতেও। মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে অন্য জেলাগুলোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি মানার তেমন কোন তোড়জোড় নেই। যাত্রীদের তোলার সময় কোনধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে না। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও।

ঢাকার ভেতরে চলাচলকারী যেসব লোকাল বাস রয়েছে, সেগুলোতে যারা উঠছেন তাদের অনেককেই টেনে তুলছেন গাড়ির হেল্পাররা। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়টি হচ্ছে, যাত্রীরা বাসে ওঠা এবং নামার সময় গেটের সামনেই এসে জড়ো হচ্ছেন। আর একই হাতল সবাই স্পর্শ করছেন কিন্তু তেমন কারো হাতে কোন গ্লাভস নেই।

নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব হচ্চে না নৌ পথেও।লঞ্চে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী।

সুন্দরবন-১৪ নামে লঞ্চে চড়ে ঢাকায় আসা এক জনপ্রতিনিধি জানান, লঞ্চটি  যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিলো এবং নিরাপদ দূরত্ব মানা হয়নি।

লঞ্চের তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীরা নির্ধারিত জায়গা ছাড়াও কেবিনের বারান্দায়ও অবস্থান নিয়েছে। যার কারণে দূরত্ব মানা সম্ভব হয়নি।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একই পরিবারের সদস্যদের একসাথে দূরত্ব না মেনে লঞ্চে ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে।

তবে তিনি বলেন, কঠোর নির্দেশনা আর ব্যবস্থাপনার পরেও জনগণের অসচেতনতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

"আমরা চেষ্টা করছি কঠোরভাবে। কিন্তু বাংলাদেশ তো গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা তো কাউকে জোর করতে পারি না।"

"১৫ই জুন পর্যন্ত কঠোরতা শিথিল করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এটা পর্যবেক্ষণ মাত্র। এই সময়ে যদি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় তাহলে সরকার তো অন্য সিদ্ধান্ত নেবেই," বলেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তবে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অর্ধেক আসনের বেশি যাত্রী উঠানো সংশ্লিষ্টদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।

১জুন থেকে চালু হয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল। বেসরকারি বিমান কোম্পানি নভোএয়ার জানিয়েছে, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বিমানে তোলা সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলছেন তারা।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ