শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনের অনুমতি দেয়নি বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার: করোনায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ দেশের সব ধরনের ক্রিকেট। মাঠের অনুশীলনে ফিরতে পারছে না ক্রিকেটাররা। কবে মাঠে ফিরতে পারবেন তাও বলতে পারছে না কেউ। কারণ করোনার প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু ক্রিকেটারদের ফিটনেস ধরে রাখতে অনুশীলনের বিকল্প নেই। তাইুুুুুুুুুুুুুুু ঘবে বসেই ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্রিকেটাররা। কিন্তু ঘরে বসে কি মাঠের অনুশীলনের কাজ হয়। করোনা আতঙ্কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকলেও, তারা ঘরে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছেন, অনেকেই ছটফট করছেন। তাই স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত অনুশীলনের অনুমতি চেয়েছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ক্রিকেটাররা। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্নতার কারণে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে। বোর্ডের পরিকল্পনা, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার পর সবাইকে অনুশীলনে নিয়ে আসার। এ ব্যাপারে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘মুশফিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সে এককভাবে অনুশীলন করতে চায়। তবে আমরা তাকে বলেছি যে, অনুশীলনের জন্য এখন উপযুক্ত সময় নয়, ঘরেই তার অনুশীলন করা উচিত। অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের কাছে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অল্পসংখ্যক ক্রিকেটার এককভাবে অনুশীলনের জন্য জানিয়েছিল। তবে সবার জন্য আমাদের বার্তা ছিল একই। আমরা আমাদের সুবিধাদি জীবাণুমুক্ত করার জন্য কাজ করছি। তবে এই কাজটি এখনও শেষ হয়নি।’ করোনা ভাইরাসের কারণে ১ মার্চ থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম স্থগিত আছে। লকডাউনের সময়টাতে মুশফিকসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ঘরের মধ্যেই ফিটনেস অনুশীলন করছেন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী ক্রিকেটারদের অনুশীলনের ব্যাপারে আরও বলেন, ‘আমাদের সব বিষয় নিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেক দেশ ইতোমধ্যে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে আমরাও তাই করবো। যাইহোক, এই মুহূর্তে আমরা নির্দিষ্ট সময় দিতে পারছি না। 

ঈদের পর থেকে অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত আমরা কাজ করছি এবং এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা বলতে পারি যে, আমরা আবার ক্রিকেটের অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত।’ শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এককভাবে অনুশীলন করতে চাওয়া ক্রিকেটারদের একজন মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ আর খেলার জন্য মুখিয়ে থাকা মুশফিকুর রহীমের জন্য এত দীর্ঘসময় অনুশীলন ও খেলার বাইরে থাকা আরও কঠিন। তার কাছে ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, তার ধ্যানজ্ঞান ও সাধনা। অনুশীলনেও তার ব্যাপক উৎসাহ। যেকোনো প্রাাকটিসে মুশফিকের উৎসাহ-উদ্দীপনা সবার চেয়ে বেশি থাকে। অন্যরা যখন প্রাাকটিস শেষ করে ড্রেসিংরুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে থাকেন, তখনও মুশফিককে দেখা যায়  নেটে, সেন্ট্রাল উইকেট কিংবা বোলিং মেশিনে ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে। সেই প্রিয় ক্রিকেট চর্চা করার কোনো সুযোগই মিলছে না এখন। কিছুদিন আগে এক টক শো’তে মুশফিক তা বলেও ফেলেছেন। প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন উঠে গেলে প্রথম যেদিন প্রাাকটিস শুরু হবে, সেদিন ১৪-১৫ ঘণ্টা অনুশীলন করবেন শেরে বাংলায়। সেই তাগিদ থেকেই শেরে বাংলায় প্রাকটিসের অনুমতি  চেয়েছিলেন মুশফিক। দেশের এ অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান একা নন, জানা গেছে আরও কজন ব্যাটসম্যানও শেরে বাংলায় একা একা অনুশীলনের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বিসিবি সিইও তাদের সে আবেদন আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ ব্যাটিং বোলিং প্রাাকটিস তো আর একা একা করা যায় না। বোলিং মেশিনে নেট করলেও মেশিন অপারেট, বল কুড়িয়ে দেয়া এবং আনুসাঙ্গিক মিলে আরও দুই-তিন জন সহকর্মী প্রয়োজন। তাদেরও তো করেনা আতঙ্ক আছে। তাদের  কেউ একজন করোনা পজিটিভ থাকলেই তো সর্বনাশ। তাই বর্তমান পেক্ষাপটে শেরে বাংলায় একা একা ট্রেনিং করায়ও আছে রাজ্যের ঝুঁকি। এদিকে বিসিবিও ভেতরে জাতীয় দলের ফিজিক্যাল ও স্কিল ট্রেনিং চালুর চিন্তা ভাবনা করছিল। অবশ্য সেটা পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে। করোনার ভয়াবহতা কমলে পরে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এ ঘোষণায় সেটা হয়তো আরও পিছিয়ে যাবে। এদিকে খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও জানিয়ে দিয়েছেন, এখন যে অবস্থা তাতে অন্তত জুন মাসে  দেশের খেলাধুলা বন্ধ রাখাই উত্তম। জুনের পর মানে জুলাই বা তার পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ