সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লক্ষণ ছাড়াই সংক্রমণের রহস্য

০৪ জুন, বিবিসি : মহামারী ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানীরাও করোনাভাইরাসের একটি অদ্ভুত এবং উদ্বেগজনক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। আক্রান্ত অনেকের কাশি ও জ্বর হচ্ছে; তাদের স্বাদ এবং গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা চলে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এ ভাইরাসে আক্রান্ত কারো কারো আবার উপসর্গই দেখা দিচ্ছে না! তারা কখনোই বুঝতে পারছেন না যে তারা করোনাভাইরাস বহন করছেন এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

গবেষকরা বলছেন, কতজন কোনো লক্ষণ ছাড়াই আক্রান্ত হচ্ছেন এবং ‘নীরবে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিরা’ মহামারীটিকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন কিনা তা বোঝা খুব জরুরি।

প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। 

১৯ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের একটি গির্জায় জড়ো হওয়া ব্যাক্তিরা তখনও বুঝতে পারেনি ওই অনুষ্ঠান করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গবেষণায় কত বড় প্রভাব ফেলবে। এটি ছিল সাধারণ একটি রোববার। ম্যান্ডারিন ভাষায় পরিচালিত হয়েছিল গির্জার ওই সার্ভিসটি। অনুষ্ঠানে এক দম্পতি অংশ নিয়েছিলেন, যাদের দুজনই ৫৬ বছর বয়সী এবং যারা সেদিন সকালেই চীন থেকে এসেছিলেন।

তারা যখন তাদের আসনে বসেছিলেন, তাদের পুরোপুরি সুস্থ বলে মনে হয়েছিল। তাই তারা ভাইরাসটি বহন করছেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ ছিল না। সেই সময় অবিরাম কাশি কোভিড-১৯ এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হিসাবে দেখা হত। আর মনে করা হতো এর মাধ্যমেই ভাইরাসটি ছড়ায়। তাই রোগের লক্ষণ না থাকার অর্থ এটি ছড়িয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সার্ভিস শেষ হতেই দম্পতিটি চলে যান। তবে খুব শিগগিরই ঘটনা খারাপের দিকে মোড় নেয়। স্ত্রী ২২ জানুয়ারি অসুস্থ হতে শুরু করেন, তার দু'দিন পরে স্বামীও। তারা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল উহান থেকে এসেছিলেন। তাই এটি অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

কিন্তু পরের সপ্তাহে, তিনজন স্থানীয় ব্যক্তিও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। সিঙ্গাপুরের মহামারীর প্রথম দিকের ধন্ধে ফেলা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করতে দিয়ে বোঝা গেল, এই ভাইরাস কীভাবে এত সফলভাবে নতুন শিকার খুঁজে নেয়।

নেমে পড়লেন ‘রোগ গোয়েন্দারা’: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংক্রামক রোগের প্রধান ডা. ভার্নন লি বলেন, “আমরা অত্যন্ত ধন্ধে ছিলাম। যে লোকেরা একে অপরকে চেনে না তারা কোনোভাবে একে অপরকে সংক্রমিত করেছে, তাও অসুস্থতার কোনও চিহ্ন না দেখিয়ে।”

তখন কোভিড-১৯ সম্পর্কে যা জানা ছিল তার সঙ্গে বিষয়টি খাপ খাচ্ছিল না। তাই ডা. লি এবং তার সহকর্মী বিজ্ঞানীরা পুলিশ কর্মকর্তা এবং রোগ খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করেন। কে কোথায় কখন ছিলেন তার বিশদ মানচিত্র তৈরি করেন। শুরু হয় কন্টাক্ট ট্রেসিং কীভাবে করা হয় তার সবচেয়ে ভালো নিদর্শন। এই প্রক্রিয়া দক্ষতার সঙ্গে এবং দ্রুতগতিতে চলায় বিশ্বের নজর পড়ে সিঙ্গাপুরের ওপর।

কয়েকদিনের মধ্যে তদন্তকারীরা চার্চের ১৯১ সদস্যের সাথে কথা বলেন এবং জানতে পারেন যে তাদের মধ্যে ১৪২ জন রোববার ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। তারা দ্রুত পেয়ে যান সিঙ্গাপুরের স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে মধ্যে দুজনই চীনা দম্পতির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

“তারা হয়তো গির্জার সাধারণ কার্যক্রম চলার সময় একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে অথবা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাতে পারে।” এটি কীভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে গেল তা ব্যাখ্যা করছে কেবল একটি মূল প্রশ্ন বাদ দিয়ে। প্রশ্নটি হলো, রোগ হওয়ার কোনও লক্ষণ না দেখানোর পরও কীভাবে দুই চীনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিল।

এর ওপরে ছিল আরও বড় ধাঁধা। সংক্রমিত তৃতীয় জন ৫২ বছর বয়সী মহিলা তো ওই অনুষ্ঠানেই ছিলেন না। তিনি সেদিনই পরে একই গির্জার অন্য একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি কীভাবে সংক্রমিত হলেন?

অপ্রত্যাশিত প্রমাণ: তদন্তকারীরা গির্জার সিসিটিভি রেকর্ডিং ঘাটতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত একটি বিষয় খুঁজে পেলেন। ওই মহিলা কয়েক ঘণ্টা পর যে আসনে বসেছিলেন, চীনা দম্পতিরা সেই আসনেই বসেছিল।

যেভাবেই হোক, লক্ষণ না থাকা এবং অসুস্থ বোধ না করা সত্ত্বেও, চীনা স্বামী-স্ত্রী ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। হয়তো তাদের হাতে ভাইরাস ছিল আর তারা আসন স্পর্শ করেছিলেন। হয়তো নিশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে কোনো পৃষ্ঠতলের উপর পড়েছিল।

ডা. লির জন্য, সবকিছু একসাথে গাঁথার কেবল একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা ছিল- ভাইরাসটি কারও শরীরে থাকলে তিনি লক্ষণ টের না পেলেও তা ছড়াতে পারেন। এটি এমন একটি উদঘাটন ছিল যা বিশ্বজুড়ে পরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ তখন করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য বিভাগগুলোর মূল বার্তা ছিল, সবসময় নিজের এবং অন্যের লক্ষণগুলির দিকে নজর রাখা।

কিন্তু ভাইরাসটি যদি লক্ষণ ছাড়াই, নীরবে এবং অদৃশ্যভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়, তবে রোগটি কীভাবে রোখা যাবে?

লক্ষণ প্রকাশের আগেই সংক্রমণ: এটি ছিল লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সংক্রমণের ঘটনা যেখানে কেউ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে অসচেতন। কারণ কাশি, জ্বর এবং অন্যান্য সাধারণ লক্ষণগুলি দেখা দেয়নি।

গবেষণাটি রোগের দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে চিহ্নিত করেছিল, যে সময়ে কেউ অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে।

এ সম্পর্কে সচেতন হওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখনই বুঝতে পারবেন যে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তখন আপনার সংস্পর্শে এসেছেন এমন সবাইকে বাড়িতে থাকার জন্য সতর্ক করা যেতে পারে। ফলে তারা তাদের নিজস্ব লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার আগেই ভাইরাস ছড়ানোর মূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে।

এটি আরও একটি রহস্যজনক পরিস্থিতি এবং এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই। লক্ষণ দেখা যাওয়ার আগে কেউ ভাইরাস ছড়াতে পারে এটা জানাটা এক বিষয়। আর সংক্রামিত হলেও কখনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না সেটা একেবারেই আরেকটি বিষয়।

এটা হচ্ছে লক্ষণ ছাড়া আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। আপনি এই রোগের বাহক তবে কোনোভাবেই নিজে ভুগছেন না। এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ গত শতাব্দীর শুরুতে নিউ ইয়র্কে রাঁধুনি হিসাবে কাজ করা আইরিশ এক নারী। যেখানেই মেরি ম্যালন কাজ করতেন সেটা ঘরে বা বাহিরে, মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হতো। কমপক্ষে তিনজন, সম্ভবত আরও অনেকে টাইফয়েডে মারাও গিয়েছিল, কিন্তু ম্যালনের কিছুই হয়নি। অবশেষে ম্যালন ও তার সংস্পর্শে আসা মানুষের টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে পড়ার একটি সংযোগ স্থাপন করা গিয়েছিল। নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে তিনিই এই রোগের অযাচিত সংক্রমণকারী।

পত্রিকার প্রতিবেদকরা তাকে “টাইফয়েড মেরি” আখ্যা দিয়েছিল। আর কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নেয়নি। ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে ২৩ বছর আটকে রাখা হয়েছিল।

স্টাফ নার্স অ্যামেলিয়া পাওয়েল স্তম্ভিত হয়েছিলেন যখন তিনি জানতে পারেন যে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু ‘অ্যাসিম্পটম্যাটিক’, মানে লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তিনি এপ্রিল মাসে কেমব্রিজের অ্যাডেনব্রুক হাসপাতালে তার ওয়ার্ডে কাজ করার সময় ফোনে সোয়াব পরীক্ষার ফল জানতে পারেন।

২৩ বছর বয়সী পাওয়েলের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে, “এটা যেন পরিবারের কেউ মারা গেছে তা শোনার মতো। এটি পরাবাস্তব ছিল। আমি ভেবেছিলাম, ‘এটা ঠিক হতে পারে না, আমার হতে পারে না। আমি একদম ঠিক আছি’। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে চলে যেতে হয়েছিল।

“আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম কারণ আমি অন্য দিকটিও দেখেছি। রোগীর অবস্থা খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে পড়ে। আমিও ভাবছিলাম, এটি আমার ক্ষেত্রেও হয় কিনা। তবে তিনি নিজেই অবাক যে পরে কখনই আর অসুস্থ বোধ করেননি। “আমার কোনো লক্ষণই ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই - আমি ঘরে বসে ব্যায়াম করতাম, স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছিলাম, স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতাম।”

এই মুহূর্তে এটি জানা অসম্ভব কতজনের কোভিড-১৯ আছে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না। পাওয়েলেরটি ধরা পড়েছে কারণ তার হাসপাতালের সমস্ত স্টাফ একটি পরীক্ষার অংশ ছিল। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষার সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও ৩ শতাংশের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে।

ডায়মন্ড প্রিন্সেস ক্রুজ শিপে অ্যাসিম্পটম্যাটিক কেসের অনুপাত আরও অনেক বেশি ছিল। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, পজিটিভ ফল এসেছে এমন যাত্রী বা ক্রুর তিন-চতুর্থাংশেরই কোনো লক্ষণ নেই। আর ওয়াশিংটনের একটি কেয়ার হোমে অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা পজিটিভ ছিলেন তবে অসুস্থতার কোনো চিহ্ন ছিল না।

সমস্যা হলো, ‘অ্যাসিম্পটম্যাটিক কেস’ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন রকম ফল এসেছে। ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পজিটিভ পাওয়া গেছে কোনো লক্ষণ বা অসুস্থতা ছাড়া। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল হেনেগান এবং সহকর্মীরা ২১টি গবেষণা প্রতিবেদন দেখেছেন। তাদের মতে, “অ্যাসিম্পটম্যাটিক সংখ্যা নির্ধারণের জন্য কোনো একটি নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই"।

চীনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যাসিম্পটমেটিক কেসের সংখ্যা লক্ষণ আছে এমন রোগীর সংখ্যার চেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, “রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসাবে নিঃশব্দ স্প্রেডার হিসাবে অ্যাসিম্পটমেটিক ক্যারিয়ারদের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।”

উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করার জন্য, নরউইচের বিজ্ঞানীরা পুরো শহরের জনগণকে পরীক্ষা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া জীব বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র আর্লহ্যাম ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নীল হলের মতে, অ্যাসিম্পটমেটিক কেসগুলো হয়তো মহামারীটির ‘ডার্ক ম্যাটার’।

তার শঙ্কা, অ্যাসিম্পটমেটিক কেসগুলোই হয়তো মহামারীর বিস্তার ঘটাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও তা বন্ধ হচ্ছে না।

“যদি এমন লোক থাকে যারা জানেন না যে তারা গণপরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ব্যবহারের সময় আক্রান্ত থাকছেন, অবধারিতভাবে এটি সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলবে।” তার মতে লক্ষণ নিয়ে আসা রোগীদের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যবস্থা নিলে শুধু সমস্যার অর্ধেকটা নিয়ে কাজ করা হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীদের একটি দল মনে করছে, লক্ষণ ছাড়াই কারা ভাইরাসটি বহন করছে তা না জানা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ‘অ্যাকিলিস হিল’ বা সবচেয়ে দুর্বল দিক।

তাদের মতে রোগটি ছড়িয়ে পড়া রোধের একমাত্র উপায় হলো কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে খুঁজে বের করা, সে নিজেকে আক্রান্ত মনে করুক বা নাই করুক। এটি ছিল ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে একটি চিঠিতে কমন্স সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কমিটিতে থাকা এমপিদের সুপারিশ।

তারা লিখেছেন, অ্যাসিম্পটমেটিক সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি মহামারী কিভাবে সামলানো হবে তার ওপর অনেক প্রভাব রাখবে। যারা ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষদের দেখাশোনা করছে- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী বা কেয়ার ওয়ার্কারদের নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

পুরো শহরের বাসিন্দাদের পরীক্ষার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চীনের উহান, যেখানে মহামারীর সূচনা হয়েছিল। মাত্র নয় দিনে ৬৫ লাখ মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে।

যেহেতু লকডাউনের বিধিনিষেধগুলো শিথিল করা হচ্ছে এবং আরও বেশি মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার শুরু করছে, কাজে ফিরছে বা কেনাকাটা করতে যাচ্ছে, অদৃশ্য ঝুঁকির বিষয়টি মোকাবেলা করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহুর্তে রাস্তায় বাড়তে থাকা জনতার মধ্যে কে না জেনেই ভাইরাসটি বহন করতে পারে তা বলার উপায় নেই।

এ কারণেই বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বলে আসছে, আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এলে দ্রুত আইসোলেশনে যাওয়ার বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পরামর্শ দিচ্ছে যে সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। যদি তা সম্ভব না হয় তবে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যখন এই নীতিমালাগুলো ঘোষণা করেছিল তখন তারা সিঙ্গাপুরের গির্জার সেই উদঘাটনটি উল্লেখ করেছিল।

এ নিয়ে যুক্তি হলো, এটি নিজেকে রক্ষা করার বিষয় না, এটি আপনার থেকে অন্যকে রক্ষা করার বিষয়। কারণ এমন হতে পারে যে আপনি আক্রান্ত তবে তা জানেন না। আরও বেশি সরকার মাস্ক পরার সুবিধাগুলোর বিষয়টি বুঝতে পারছেন।

মুখের মাস্ক কেবল নিজের চেষ্টায় মহামারী থামিয়ে দেবে না কিন্তু অ্যাসিম্পটমেটিক সংক্রমণ সম্পর্কে আমরা এখনও এত কম জানি যে এই চেষ্টা করলে তো ক্ষতি নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ