ঢাকা, বুধবার 15 July 2020, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭, ২৩ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভাল : প্রধানমন্ত্রী 

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মহামারীর কবল থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতি সচল রাখায় তার সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে বলেছেন, মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই করোনা ভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে, তাদের সুরক্ষিত করতে।’

বৃহস্পতিবার সকালে পিএমওতে তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন সরকারী, সেরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে অনুদান গ্রহণকালে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে ভাষণ দেন। তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস পিএমওতে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

সরকার প্রধান আরো বলেন, ‘আমরা যদি এই ডিজিটাল বাংলাদেশ না করতাম বা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যদি উৎক্ষেপণ না করতাম এবং বাংলাদেশটা যদি একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে না আসতো তাহলে হয়ত এই কাজগুলো করা সম্ভব হতো না।তার সরকারের সময়োচিত এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের ফলেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভাল অবস্থায় রয়েছে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা, অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল করা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া-সবদিক থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

লকডাউন শিথিল করার প্রসঙ্গে তিনি  বলেন, ‘যেহেতু অর্থনীতি একেবারে স্থবির অবস্থায় রয়েছে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্র এখন উন্মুক্ত করছি। কারণ, মানুষকে আমাদের তো বাঁচাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মকা-গুলো না করলে, আমরা আর কতটা সহযোগিতা করতে পারবো। তারপরেও আমি বলবো-এই ক’মাস এদেশের নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তসহ প্রায় প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করেছি, আমাদের দলের পক্ষ থেকেও করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক বিত্তশালী, তারাও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই আন্তরিকতাটুকু আছে বলে এখনো তারা খেতে পারছে বা চলতে পারছে।’

এই সহানূভূতিটুকু যেহেতু মানুষ দেখাতে পারছে সেজন্য কিন্তু এখনো আমাদের দেশের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষেরও নিজের জীবিন জীবিকা চালিয়ে নেওয়ার সঙ্গতি রয়েছে। সেটা অব্যাহত থাকুক, সেটাই আমরা চাই,’যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রায় এক কোটি তালিকাভুক্ত লোকজনকে খাদ্য সহায়তা প্রদানে তার সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করে বলেন, ‘বিনা পয়সায় খাদ্যের ব্যবস্থা যেমন করেছি আবার একটু যারা বিত্তশালী, কিনতে চান তাদের জন্য ১০ টাকা কিলো দরে আমরা চাল সরবরাহ করছি।’

দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন তাদের প্রত্যেকের দোরগোড়ায় খাবার ও সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ায় তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রত্যেকটা শ্রেণি-পেশার মানুষ সবার কাছে যেন আমরা কিছু না কিছু সহযোগিতা পৌঁছাতে পারি। যেন তারা কষ্ট না পান। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’‘আর সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি,’বলেন তিনি।

চিকিৎসাসেবা প্রদান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা আমরা ব্যাপকভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমরা দিয়ে যাচ্ছি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস টেস্ট করা বা চিকিৎসা করাটা বেশ ব্যয়বহুল। তারপরও আমরা সেটা করে যাচ্ছি।’

অর্থনীতি সচল রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকা- যাতে চলে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের শিল্প থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাই যেন তাদের কার্যকক্রম চালাতে পারে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও আমরা দিচ্ছি। ‘জিডিপি’র প্রায় ৩ শতাংশ ৭ প্রণোদনা দিচ্ছি,’বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘গত ৩/৪ মাস ধরে আমাদের অর্থনীতি একেবারে স্থবির। তারপরেও আমরা অন্তত মানুষের কথা চিন্তা করে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। কাজেই সবসময় জনগণের কল্যাণেই আমরা কাজ করি।’

আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুবিধা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা যখন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি তখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করবো, এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজকে আমি বলবো সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করতে পেরেছি বলেই আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়েছে।’

উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া, তাদের কাছে নগদ টাকা পৌঁছানো, চিকিৎসা সেবা দেওয়া বা ঘরে বসে চিকিৎসা পরামর্শ যাতে পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা, ব্যবসা বাণিজ্য চালানো, ক্রয়-বিক্রয়,আত্মীয় স্বজন বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলা বা সাক্ষাৎ- সবকিছুই এখন অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ করতে পারছে।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর জন্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসা বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সময় সকলের সহযোগিতায় তাঁর সরকার ও দেশবাসী এই দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ পুণর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলাদেশ অবশ্যই এই অদৃশ্য শত্রুর (করোনা ভাইরাস) বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে।’

যেসব সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গ অনুদান দিয়েছেন তারা হচ্ছেন- মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান পরিবহন এ পর্যটন কতৃর্পক্ষ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড, বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফিন্যান্স কোম্পানীজ এসোসিয়েশন, আইপিডিসি ফিন্যান্স লি, লংকা-বাংলা ফিন্যান্স লি, উত্তরা ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি., বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় যশোর, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লি এবং দিএমএস টেক্সটাইল লি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আলিবাবা এন্ড জ্যাক মা ফাউন্ডেশন, ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফর্মেশন সার্ভিস, সৎসঙ্ঘ হেমায়েতপুর, পাবনা এবং পিপিএস পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ লি।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু, অবস এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রাফা ইসলাম, বারডেম’র মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া জামিন প্রিত এবং জেডএইচ সিকদার মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. সাদিয়া আহমেদ অনুদান প্রদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ