শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা মহামারির ‘ভয়াবহ’ পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে বলে মন্তব্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার বিকালে নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আজকে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জোর করে নিয়েছেন তারা জনগনকে কোনো মূল্য দেন না, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে ব্যবসার, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে তাদের সো-কলড প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর। কোনটাই বাড়বে না, সব কিছু নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তারা তৈরি করেছে, এই দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
সরকারি ছুটি তুলে নেয়ার সমালোচনাও করে ফখরুল বলেন,  সরকার যে টেকনিক্যাল কমিটি করে দিয়েছে সেই কমিটি বলছে যে, এই মুহুর্তে সরকারি ছুটি তুলে নেয়াটা একটা বিপদজনক অবস্থা হবে। আমরা কার কাছে কী বলব? কোথায় যাবেন আপনারা? এদেশের মানুষ কার কাছে যাবে?এদেশের প্রতিটি মানুষ আজকে আতঙ্কে আছে।
বাংলাদেশ রসাতলে যাচ্ছে মন্তব্য করে অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক ফখরুল বলেন, আমরা মনে পড়ছে অনেক আগে কথা। ১৯৭৪ সালে ঠিক একই ভাবে সেদিন আপনার অবহেলা করা হয়েছিলো সমস্যগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যার ফলে কি হয়েছিলো খাদ্য থাকা সত্ত্বেও চরম দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো। তৎকালীন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সাহেব সমিতির প্রথম অধিবেশনে ততকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সামনে বসিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে। আজকেও বাংলাদেশ রসাতলের দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আজকে আমি বলছি, ঐক্য দরকার, জনগনের ঐক্য দরকার। দেশের সকল রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগু্লাের ঐক্য দরকার যারা জনগনের কল্যাণের বিশ্বাস করে। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে অতিদ্রুত উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যেসমস্ত জায়গায় চিকিতসার কথা বলা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সেখানে চিকিতসা হচ্ছে না। আমরা বলেছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে গেছে, ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এটা এখন নামে মাত্র টিকে আছে। প্রথম দিকেই সব কিছু এ্লােমেলো করে ফেলা হয়েছে। ডাক্তারদের তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে তাদের যেসমস্ত কিটস, ইকুপমেন্ট দরকার সেই সমস্ত ইকুপমেন্ট সরবারহ করা হয়নি। শুধু সরবারহই করা হয়নি, এগুলো নিয়ে ব্যাপক দুর্ণীতি করা হেেয়্ছ,  আল্লাহ্ বাঁচিয়ে রাখবেন- এই বিশ্বাস ছাড়া তাদের কাছে আর কিছু নেই।
নাগরিক ঐক্যের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হয়।
২০১২ সালে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নিয়ে জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আজকে সমগ্র পৃথিবী ও মানবসভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখিন। করোনা মহামারীর হাত থেকে এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বা সরকার বাঁচতে পারবে না। সমগ্র বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে বাঁচতে পারবে। যেহেতু সবাইকে বাঁচতে হবে, সবাইকেই সম্পৃক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার আমাদের সরকার নয়, ওরা আমাদের কাজ করবেও না। এরা পুরো ব্যবসায়ীদের সরকার। এখন এই শাসকদের কাছে নিরাপদ নই, এখন যারা ক্ষমতা চালাচ্ছে তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।  ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বলছেন ১৫ দিন দেখবো, তার পর কঠোর হবে। আপনারা কি হয় দেখবেন। প্রতিদিনই তো সংক্রমন বাড়ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এটাকেই বলে হার্ড ইমুউনিটি। চরে খাও, বাঁচলে বাঁচো, মরলে মরো-এই হচ্ছে সরকারের পলিসি। ওরা(সরকার) মানুষের খাবার দিতে পারবে না, টাকা দিতে পারবে না। দুই কোটি পরিবার দিন আনে দিন খায়। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবস্থা তুলে ধরে তার কিছু হলে সরকারকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন মান্না। 
সংগঠনের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় ইন্টারেনেটের মাধ্যমে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকীও বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ