শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি উদ্যোগে সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খুলনা

 

আব্দুর রাজ্জাক রানা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত বিশ্ব শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ অপরূপ সুন্দরবন। রূপসা, ভৈরব, চিত্রা ও গড়াই নদীর তীরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পনগরী খুলনা এর শিল্প সমৃদ্ধ খালিশপুরে অবস্থিত ২০০৩ সালে সর্বপ্রথম বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সিটি পলিটেকনিক। নিজস্ব ক্যাম্পাস আর সুবিশাল পরিসরে সম্পূর্ণ রাজনীতি ও ধুমপান মুক্ত পরিবেশে এর শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনে কম্পিউটার টেকনোলজির ৪৪ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে এর যাত্রা। হাঁটিহাঁটি পা পা করে আজ এর টেকনোলজির সংখ্যা ১২টি এবং বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩২০০ জন। অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের পাশের হার সন্তোষজনক। নিজস্ব বহুতল ভবন এ এর শিক্ষাক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক পৃথক নিবাসসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্ত-কর্মচারিদের আবাসস্থল নির্মাণে ইতিমধ্যে জায়গা ক্রয়সহ এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। অদুর ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুগোপযোগি আধুনিক টেকনোলজি সহ B.Sc Graduation Course খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। এ শতাব্দীতে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তা সমগ্র বিশ্বকে একটি Global Village এ পরিণত করেছে। আজকের এ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে। যুগোপযোগি শিক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেকে স্থান করে নিতে হবে। যুগের দাবি পূরণের এ মহতি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারি অনুমোদনে আব্দুল মালেক ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় বিভাগীয় শহর খুলনায় সিটি পলিটেকনিক সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ বেসরকারি ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, টেলিকমিউনিকেশন, মেকানিক্যাল, মেরিন, আর্কিটেকচার এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশন, অটোমোবাইল, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ণ মেকিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি প্রায় ৩২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আমাদের আরও নতুন নতুন কোর্সসমূহ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে আমরাই সর্বপ্রথম কারিগরি শিক্ষা বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি: কর্মজীবনে বিজ্ঞানের বৃহত্তম ক্ষেত্রে আনুগত্য ভৃত্যের মত হুকুম তালিম করে যে যন্ত্র তার নাম কম্পিউটার। বিংশ শতাব্দীর আবিষ্কারের একটা বড় সাফল্য হল কম্পিউটার। বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয় ষাটের দশকে এবং নব্বই দশকে তা ব্যাপকতা লাভ করে। আশির দশকের পূর্বে এদেশে কম্পিউটার বিষয়ের উপর শিক্ষার কোন সুযোগ ছিল না। নব্বই দশকের শুরুতেই বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ের উপর ডিপ্লোমা পাস করে চাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে নিজের জীবনে সফলতা আনা সম্ভব।

ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি: প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভূমিকা ব্যাপক। যুগের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন সর্বদাই ইলেকট্রনিক্স এর ক্রমবিকাশের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স এর উদ্ভাবিত সমস্ত সামগ্রী মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে অনাবিল শান্তি। তাই বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির ক্ষেত্রে এসেছে বিশালতা। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুবিধা। অজস্র নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সেক্টরসমূহ: (1) Aerospace Industry (2)  Automotive Industry (3) Construction Industry (4) Defense Industry (5) Fast Moving Consumer goods Industry (6) Marine Industry (7) Oil & Gas Industry (8) Pharmaceulicals Industry (9) Power Generation Industry (10) RailIndustry (11) Telecoms (11) Utilities Industries কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও সম্প্রসারনের উদ্দেশ্যে ডিপ্লোামা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাকরিক্ষেত্র সবাইকে উৎসাহিত করবে। জাতীয় উন্নয়নে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ডিপ্লোমা ইন টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি: বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে টেলিকমিউনিকেশন এক নব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এ অগ্রগতির বাস্তব প্রমাণ। যেখানে রয়েছে অজস্র টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির সুযোগ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১৫ ভাগ টেলিকমিউনিকেশন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে। ফলে বাংলাদেশেই রয়েছে এ বিভাগের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি: কারিগরি জগতে সব শিল্প কলকারখানার মূল চালিকা শক্তি হলো বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ব্যতিত বর্তমান সভ্যতার অগ্রগতি ও উন্নতি কল্পনা করা যায় না। বিদ্যুৎ মানুষের আনন্দ বিনোদনকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। টেলিভিশন, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, মোবাইল পৃথিবীকে করেছে অনেক ছোট। ৫০ মিটার মাটির তল দিয়ে হাজার হাজার চিঠির থলে আর যাত্রী নিয়ে ছুটে চলছে চালক ও গার্ড বিহীন রেলগাড়ী এসব বিদ্যুৎ এর কারণে সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বর্তমান দেশে-বিদেশে ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন সিভিল টেকনোলজি: পুর কৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত কারিগরি তথ্যের সদ্ব্যবহার মাত্র। যা প্রযুক্তির সব ধরণের অগ্রগতিকেই উপকৃত করেছে। যেমন পুর কৌশল বিভিন্ন নকশা সফট্ওয়্যার, জিপিএস, জিআই এস সিস্টেমের জন্য ভবিষ্যৎ উন্নতির বৈপ্লবিকতার উন্মচিত করেছে। এছাড়া ভূমির নকশা, ইস্পাত কাঠামো, ভবন, টানেল, মহাসড়ক, বাঁধ, সেতু, টাওয়ার নির্মাণে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবদান অপরিসীম। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পানি ডিস্ট্রিবিউশনে পাইপ লাইন ডিজাইন, পানি শোধন, সরবরাহ সবই সিভিল প্রকৌশলীরাই ডিজাইন করে থাকে। তাই ভবিষ্যৎ সমাজ বিনির্মাণে পুর কৌশলরাই অগ্রপথিক।

ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল টেকনোলজি: মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আজকের আধুনিক উন্নয়নের অংশিদারিত্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রস্তুর যুগের চিন্তাধারার সাথে তাল মিলিয়ে পর্যায়ক্রমিক যান্ত্রিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রবাদে আছে, যেখানে চাকা ঘোরে সেখানেই যন্ত্রকৌশল প্রকৌশলীদের অবদান বিদ্যমান। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি প্রযুক্তিবিদরা অবদান রাখতে পারে। জনবহুল আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিনত করার লক্ষ্যে মেকানিক্যাল টেকনোলজির আবির্ভাব। শক্তিদারা পরিচালিত হয়ে যে সকল যন্ত্রপাতি দ্রুতগতিতে কার্য সম্পাদন করে তাকেই যান্ত্রিক বা মেকানিক্যাল বলে। মেকানিক্যাল টেকনোলজি থেকে ব্যবহারিক কাজ শিখে কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি: “বাবা বলে ছেলে নাম করিবে, সারা পৃথিবী ঘুরে আসবে”শিপিংয়ের ক্ষেত্র হল, বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদন্ড বা চাকা। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য, বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণরূপে সমুদ্র নির্ভর। বিশ্বে সর্বমোট পণ্য পরিবহনের ৮৫-৯০% সমুদ্র পথে পরিবাহিত হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে, যদি বিশ্বের সকল জাহাজ ১ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অনাহারে থাকতে হবে, মিল, কলকারখানা, সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, গার্মেন্টস শিল্প, বৈদ্যুতিক পাওয়ার প্লান্টসহ সকল যান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে এজন্যই জাহাজের কোন হরতাল হয় না। বহির্বিশ্বের সাথে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য ও কল-কারখানার কাঁচামাল সহ যাবতীয় দ্রব্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে, পৃথিবী অচল হয়ে পড়বে। আর সেই সকল পর্বতসম বাণিজ্যিক জাহাজ, প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত হয়, সার্টিফাইট মেরিন অফিসার দ্বারা। বিশ্বের শিপিং সংক্রান্ত, সকল পরিচালনামূলক কার্যক্রম IMO (International Maritime Organization) লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়, আর পৃথিবীর সকল দেশের Department of Shipping, IMO এর অধীনস্থ। বিশ্বের সবচেয়ে দামী চাকরির প্রফেশনাল ডিগ্রি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, যা বিশ্বের দ্বিতীয় পেশার মর্যাদা অর্জন করেছে (প্রথম পেশা এরোনটিক্যাল, তৃতীয় পেশা মেডিক্যাল) একমাত্র মেরিন পেশাতেই আছে বিশ্ব ভ্রমণ করার সুযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানী, ইটালী, ভারত, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ড, সুইডেন ইত্যাদি রাষ্ট্রের সাথে একই সারিতে Largest Interest Engine International Sea Borne Category তে গর্বের সাথে অবস্থান করছে যা আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্য বাংলাদেশের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কর্মক্ষেত্রের সফলতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন যোগ্য, সৎ,পরিশ্রমী, সুবিবেচক, বিচক্ষণ, স্থির বুদ্ধি সম্পূর্ণ দক্ষ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অফিসার। বিশ্ব অর্থনীতির চাকা যদি হয় শিপিং, আর সেই শিপিংয়ের পরিবাহক যদি হয় সমুদ্রগামী জাহাজ, তাহলে বলা যায়, এই পৃথিবীটা ঘুরছে সমুদ্রচারীদের কারণে।

ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচার এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন টেকনোলজি: একটি ভবনের সুশৃঙ্খল এবং সুবিধা প্রদানে একজন স্থাপত্য প্রকৌশলীর ভূমিকা অপরিসীম। স্থাপত্য প্রকৌশলৗ একটি বিল্ডিং এর ওভারভিউ প্রদানসহ উন্নত এবং দক্ষ নির্মাণ পরিবেশের উপর খেয়াল রাখে। বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়, বিল্ডিং ইন্টিগ্রেশন সিস্টেমের নকশা প্রদান করে। এছাড়াও বিল্ডিং শিল্প সাম্প্রতিক প্রবণতা এবং আধুনিক নকশা ও নির্মাণ প্রযুক্তি এবং বিল্ডিং উপকরণ নিয়ে আলোচনা করে। যার প্রভাব ভবন উন্নয়নে আর্থ-সামাজিক স্থাপত্য প্রকৌশলের আওতাভুক্ত। তাই একটি ভবনের নিপুনতা ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থাপত্য প্রকৌশলীর প্রয়োজন।

ডিপ্লোমা ইন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং টেকনোলজি: এয়ার কন্ডিশন এর সঠিক অর্থ হচ্ছে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ুর ভারসাম্যতা। সমাজে বসবাসকারী মানুষ বা প্রাণী প্রকৃতির ভৌত পরিবেশের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের গরম, ঠান্ডা ও নাতিশীতোষ্ণের দরকার হয়। তাই এয়ার কন্ডিশন প্রয়োজন। রেফ্রিজারেশন এর অর্থ হচ্ছে হিমায়িত। 

বিভিন্ন ধরণের খাবার পারিপার্শ্বিক ব্যাকটেরিয়া, পচনের হাত থেকে রক্ষার জন্য এবং ঠান্ডা রাখার জন্য রেফ্রিজারেশনের প্রয়োজন হয়। শুধু তাই নয় খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ মেয়াদি সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি, মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশন টেকনোলজি বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

ডিপ্লোমা ইন অটেমোবাইল টেকনোলজি: অটোমোবাইল ভুমির উপর ভ্রমনের জন্য ব্যবহার হয় গাড়ী। চাকা সাধারণত চার থেকে ছয় জনের জন্য ডিজাইন করা হয় আর বেশী লোক পরিবহনের জন্য বেশী বড় গাড়ী ডিজাইন করতে হয়। তাই পরিবহনের জন্য বাহনছাড়া অন্যকিছু ভাবা সম্ভব নয়। আর বহন ডিজাইনের জন্য অটোমোবাইল প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। শহর উন্নয়নের জন্য পরিবহন অপরিহার্য। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল সেখানে উন্নয়নও দ্রুত সম্ভব।

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল টেকনোলজি: বস্ত্র শিল্প বিকাশের জন্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা অনেক। বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের ব্যাক্ওয়ার্ল্ড শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্পিনিং মিলস্ ডাইং ফিনিসিং মিলস্, নীট কম্পোজিট মিলস্। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যকে গুণগত ও সমৃদ্ধশালী করার পিছনে যারা বড় অবদান রেখেছেন তারা হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বস্ত্র দপ্তরের এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সংখ্যক টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অভাবে বাধ্য হয়ে অন্য শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের  নিয়োগ দিতে হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে সরকার এ সেক্টরের উন্নয়নে যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাতে প্রথম ৩ বছরে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দরকার ২৫,৭৫০ জন। কিন্তু আছে ১৮৯৮ জন। M.Sc ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দরকার ৯২৭ জন, আছে ৭১ জন। টেক্সটাইল PHD ডিগ্রীধারী দরকার ২৪০ জন, আছে ১৮ জন। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন গার্মেন্টস্ ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজি: বাংলাদেশ বিশ্বের একটি তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৭৬ শতাংশ এ খাত থেকে আসছে। এটি বাংলাদেশের জন্য খাত ভিত্তিক রপ্তানী আয়ের ক্ষেত্রে একটি বিশাল অবদান। ২০০৫ সালে এসে কোটা ও শুল্কমুক্ত বিশ্বে প্রবেশ করায় বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পখাত বা গার্মেন্টস সেক্টরের সম্ভাবনা দ্বার আরও উম্মোচিত হয়েছে। সুতরাং গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজি পাশ করার পর দেশে বিদেশে চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি টেকনোলজি: পর্যটন ও আতিথিয়তা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ব্যক্তি, সমাজ ও মানবিকতা উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম। এই শিক্ষাটি আমরা স্কুল, কলেজের মাধ্যমে নিতে পারি। ব্যক্তি, সমাজ ও মানসিকতা উন্নয়নের জন্য ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি টেকনোলজির প্রয়োজন। এই শিক্ষার মাধ্যমে আতিথিয়তার পরিচিতি, গতিশীল ছাত্র, পর্যটন ও আতিথিয়তার প্রকৃতি, ছাত্র মানসিকতা বিকাশ এবং তা না হওয়ার তদন্ত সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষা গ্রহণের দক্ষতা অর্জন করা হয়। তাই পর্যটন ও আতিথিয়তার শিক্ষা ব্যক্তির মাধ্যমে সমাজ, সমাজের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মাল্টিমিডিয়া ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক লাইব্রেরি: অত্র ইনস্টিটিউটের একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। ইনস্টিটিউট চলাকালীন এবং অবসর সময়েও ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে বসে পড়ালেখা ছাড়াও বই ইস্যু করে বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

কেন সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হবে ?

আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নিজস্ব সুবিশাল ক্যাম্পাস।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ল্যাব।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক বিশাল বইয়ের সমারোহে ডিজিটাল লাইব্রেরি।

বিষয় ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা পাঠদান।

মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ডিজিটাল ক্লাসরুম। রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত ক্যাম্পাস।

সার্বক্ষণিক নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক ওয়াই-ফাই (ডরঋর) সুবিধা।

সিসি টিভি সহ সিকিউরিটি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও ক্লাস মনিটরি

বার্ষিক শিক্ষা সফর, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পৃথক আবাসন ব্যবস্থা।

মেধা ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি প্রদান। 

দরিদ্র ও মেধাবি শিক্ষার্থীদের বিশেষ  সুবিধা প্রদান।

এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ। 

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ। 

কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশে-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার সহায়তা প্রদান। 

 উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চাকুরির সুবিধা। 

আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মেধার ভিত্তিতে সকল শিক্ষার্থীদের মাসিক ৫০০টাকা হারে এবং বছরে ১০০০টাকা বই ক্রয় বাবদ সরকারি শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ