ঢাকা, শনিবার 4 July 2020, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ অব্যাহত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। কঠোর কারফিউ, মেয়রদের অনুরোধ ও তাদের দমনে নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপ, কিছুই মানেনি তারা।  

২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নির্যাতনে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামনে আসার পর শুরু হওয়া প্রতিবাদ পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। এসব শহরের মধ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কও আছে। 

নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে কিছু লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা ও সিয়াটলেও বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস সংলগ্ন লাফায়েট পার্কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। প্রেসিডেন্টে ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে হেঁটে নিকটবর্তী সেইন্ট জনস এপিস্কোপাল গির্জায় গিয়ে যেন ছবি তুলতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে সোমবার পার্কটিতে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছিল পুলিশ। প্রতিবাদকারীদের পার্কটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল তারা।

রাত নেমে আসার পর কারফিউ সত্ত্বেও লাফায়েট পার্ক ও রাজধানীর অন্যান্য স্থান থেকে সরে যায়নি প্রতিবাদকারীরা। ‘নো জাস্টিস, নো পিস’ শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে যায় তারা। 

নিউ ইয়র্ক শহরে রাত ৮টায় (স্থানীয় সময়) কারফিউ শুরু হলেও কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদ মিছিল চলতে থাকে। মাথার ওপর্ পুলিশের হেলিকপ্টার চক্কর দিতে থাকলেও তা অগ্রাহ্য করেই শ্লোগানে শ্লোগানে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে থাকে তারা।

মিছিলটি ম্যানহাটন সেতুর দিকের রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে দাঙ্গা পুলিশের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে, “আমাদের সঙ্গে হাঁটো! আমাদের সঙ্গে হাঁটো!”

লস অ্যাঞ্জেলসে হলিউড বুলেভার ধরে কয়েকশ’ প্রতিবাদকারী চলচ্চিত্র কেন্দ্রটির বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কের সামনে দিয়ে এর কেন্দ্রে গিয়ে উপস্থিত হয়। অন্য প্রতিবাদকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থলে পুলিশ সদরদপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের কেউ কেউ সামনে লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে ধরে ও করমর্দন করে।

ডেনভার ও সিয়াটলেও কয়েকশ’ প্রতিবাদকারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। রাত নেমে আসার পরও এখানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণই ছিল। 

বিবিসি জানিয়েছে, ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনেসোটা রাজ্য তাদের পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে গর্ভনর টিম ওয়ালজ জানিয়েছেন, তদন্তটি ‘প্রজন্মের গভীরে থাকা প্রথাগত বর্ণবাদ’ শেকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে করা হবে।

অন্যদিকে ফ্লয়েডের নিজ শহর টেক্সাসের হিউস্টন তার স্মৃতিতে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার আয়োজন করে যেখানে ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন। ফ্লয়েডকে সম্মান জানাতে এই পদযাত্রায় ৬০ হাজার লোক অংশ নিয়েছে বলে হিউস্টনের মেয়র দপ্তর জানিয়েছে।  

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমানে করে এক হাজার ৬০০ সৈন্যকে এনে শহরের আশপাশের ঘাঁটিগুলোতে রাখা হয়েছে। এই সৈন্যরা ‘উচ্চ সতর্কাবস্থায়’ আছে বলে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। 

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ