সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

দেশে একদিনে আক্রান্ত সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১১ জন

# মিনিটে আক্রান্ত দুজন ॥ প্রতি দু’ঘণ্টায় মৃত্যু ৩ জনের

স্টাফ রিপোর্টার: মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) একদিনে দেশের আরও ৩৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকে এটা গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৪০ জনের। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট ৭০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৯১১ জন। যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫২ হাজার ৪৪৫ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫২৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ১২০ জন। তথ্যমতে, করোনায় মিনিটে আক্রান্ত দুজন এবং প্রতি দু’ঘণ্টায় মৃত্যু ৩ জনের।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ৫২টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৯০৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৭০৪টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো তিন লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৯১১ জনের দেহে। ফলে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৭ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭০৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৫২৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ১২০ জনে।
নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে নয়জনের। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জন, সিলেট বিভাগের চারজন, বরিশাল বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের দুজন, রংপুরের দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন রয়েছেন। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব চারজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব নয়জন, সত্তরোর্ধ্ব ১০ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের দুজন মারা গেছেন।
গত সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন মারা গেছেন। ১১ হাজার ৪৩৯টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৩৮১ জনের দেহে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত- উভয় সংখ্যা তো বেড়েছেই, হয়েছে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডও। এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল দুই হাজার ৫৪৫ জনের। যা জানানো হয় ৩১ মে’র বুলেটিনে। মৃত্যুর দিক থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৪০ জনের। সেটিও জানানো হয় ৩১ মে’র বুলেটিনে। মঙ্গলবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনার সুস্থতার হার ২১ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৩৮৮ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৬ হাজার ২৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৬৯ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৪০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৫০৬ জনকে। এ পর্যন্ত কেয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৩১হাজার ৮৪০ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৮হাজার ৫৪৫জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে।
ডা. নাসিমা বরাবরের মতোই করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা, বাইরে বেরোলে হ্যান্ড গ্লোভস পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানোর পর এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার। তবে সোয়া ২৯ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২ মে যেখানে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫, সেখানে ঠিক এক মাস পর নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১১ জনে। এক মাসের ব্যবধানে ২ জুন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজারে। একইভাবে ২ মে নতুন পাঁচজনসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭৭ জন। এক মাস পর ওই সংখ্যা দুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৩৭ ও ৭০৯ জনে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৭ মার্চ প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২ মে) রাজধানীসহ সারাদেশে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াল থাবায় গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং মৃত্যুর নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়। এ সময়ে করোনা ভাইরাস শনাক্তে রাজধানীসহ সারাদেশের সর্বমোট ৫২টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক ১৪ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১২ হাজার ৭০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক ২ হাজার ৯১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গত ২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করে সর্বমোট ৫২ হাজার ৪৪৫ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা ভাইরাস শনাক্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে প্রতি মিনিটে দুজন করে আক্রান্ত এবং প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ ছুটি ঘোষণা, আকাশ, নৌ-পরিবহন, স্থল এবং রেল চলাচলসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন ছোটবড় শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু জীবন ও জীবিকার তাগিদে সরকার ১ জুন থেকে অফিস আদালত মার্কেট ও গণপরিবহন খুলে দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, এই অবস্থায় সারাদেশে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশকে সবুজ, হলুদ ও লাল জোনে ভাগ করে সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিরোধের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ