ঢাকা, বুধবার 15 July 2020, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭, ২৩ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনার ঝুঁকি: ৬ ফুট দূরত্বও নিরাপদ নয়!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুতু, কফ, তার স্পর্শ সব কিছু থেকে ছড়াচ্ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। এই অবস্থায় সচেতনতা থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে ৩ ফুট এবং পরে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র পক্ষ থেকে ৬ ফুট দূরত্বে বজার রাখার কথা বলা হয়েছিলো।কিন্তু এই ধারণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন চীনের বিশেষজ্ঞ দল।

চীনের সরকারি এপিডেমিওলজিস্টের গবেষকদের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বাতাসে ৩০ মিনিটের মতো ভেসে থাকতে পারে এবং চার দশমিক পাঁচ মিটার (১৪ দশমিক সাত ফুট) যাতায়াত করতে পারে।

গবেষকরা জানতে পেরেছেন যে, শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হওয়ার পর ভাইরাসটি কঠিন পৃষ্ঠে কয়েকদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের শরীরে চলে যেতে পারে। তাছাড়া কেউ সেই পৃষ্ঠে অবচেতনভাবে হাত রাখার পর নিজের নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করলে তারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভাইরাসটি কতোক্ষণ সক্রিয় থাকবে, তা নির্ভর করছে পৃষ্ঠের ধরন ও তাপমাত্রার ওপর। প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাসটি কাঁচ, কাপড়, ধাতু, প্লাস্টিক ও কাগজের ওপর দুই থেকে তিন দিন টিকে থাকতে পারে।

চীনের হুনান প্রদেশের সরকারি গবেষকদের এই গবেষণার ফল পূর্বে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যবিদদের দেয়া মানুষ থেকে মানুষের নিরাপদ দূরত্বে (তিন থেকে সাড়ে ছয় ফুট) থাকার পরামর্শকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি তাইওয়ানের ন্যাশনাল সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির চিয়া ওয়াং এবং সান ডিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার কিমবার্লি প্রাথার এবং ডা. রবার্ট স্কুলি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের ওপর করা বেশ কিছু গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য থেকে এটা জানা যায় যে, নীরবে উপসর্গ ছাড়াই দ্রুত গতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

তারা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত ছয় ফুট দূরত্ব অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে, যেসব স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জীবাণুগুলো বাতাসে ভেসে থাকতে সক্ষম সেখানে ছয় ফুট দূরত্বে থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এ বিষয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সিডিসির পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ৬ ফুট দূরত্বের কথা বলা হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) মনে করে ৩ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট। বর্তমান গবেষণায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার দূরত্বের চেয়ে যা অনেক কম।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ