ঢাকা, বুধবার 15 July 2020, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭, ২৩ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬১ জন বৃদ্ধি ॥ মোট শনাক্ত ৭২৩

 

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী বিভাগে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৬১ জন। এদের মধ্যে ৫২ জন শনাক্ত হয়েছেন বগুড়ায়। উত্তরের এই জেলা এখন করোনার হটস্পট। রাজশাহী মহানগরীতে করোনারোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। এনিয়ে এই জেলায় মোট রোগী এখন ৪৬ জন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য জানান, বগুড়ায় এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৪০ জন। জেলার ৪০ করোনা আক্রান্ত এখন হাসপাতালে। করোনা জয় করেছেন ২৬ জন। মারা গেছেন ১ জন। জয়পুরহাট জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জনের। জেলার ১৫৭ করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হয়েছেন ৭০ জন। নওগাঁয় বিভাগে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অবশ্য গত ৭২ ঘণ্টায় এ জেলায় নতুন করে কারো করোনা ধরা পড়েনি। করোনা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এখানকার ৬ জন। এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৩ জন। রাজশাহীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ শনাক্ত হননি। এখানকার ৮ করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর করোনা জয় করেছেন এখানকার ১১ জন। তবে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজশাহীর দুইজন। নতুন করে দুইজনের করোনা ধরা পড়ায় নাটোরে আক্রান্ত দাঁড়ালো ৫৪ জন। করোনা জয় করেছেন এখানকার ৯ জন। করোনায় মারা গেছেন একজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাটি এখন ৫২। তবে করোনা জয় করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন। হাসপাতালে আছেন ৮ জন। এ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে ২৫ জন এবং পাবনায় ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে একজনের প্রাণ গেছে করোনায়। সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। এখনও হাসপাতালে আছেন একজন। আর পাবনায় সুস্থ হয়েছেন ৫ জন। ১ জন হাসপাতালে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে বিভাগে এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয় ৩৬ হাজার ৯১৫ জনকে। এর মধ্যে কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছেন ২৯ হাজার ৮১৮ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৫৬০ জনকে। এদের ৫০০ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছেন। চিকিৎসার জন্য ৪৪৯ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০৪ জন। গত ১২ এপ্রিল রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিভাগে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় করোনা শনাক্ত হলো ৭২৩ জনের। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২১ জন। করোনায় প্রাণ গেছে এ পর্যন্ত ৫ জনের। করোনা জয় করে ঘরে ফিরেছেন আট জেলার ১৯০ জন।

রাজশাহীর পরিস্থিতি: রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী আছেন তানোর উপজেলায়। এখানে সর্বোচ্চ ১০ জন করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগী আছেন হোম আইসোলেশনে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পুঠিয়া। এ উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৯ জন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার সিভিল সার্জন জানান, রাজশাহীতে এ পর্যন্ত ৪৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। এখনো চিকিৎসাধীন ৩৫ জন। তানোরে সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা ১০ জন। তবে এ উপজেলায় কেউ মারা যাননি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন ৮ জন। এছাড়া বাঘা উপজেলায় ৫, দুর্গাপুরে ৩, বাগমারায় ৩, মোহনপুরে ৬ এবং পবায় ২ জন শনাক্ত হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জেলার গোদাগাড়ী ও চারঘাট উপজেলা এখনো করোনামুক্ত রয়েছে। করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে এ পর্যন্ত চারঘাটে ১১৮ এবং গোদাগাড়ীতে ৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চারঘাটে এখন কেউ কোয়ারেন্টাইনে নেই। তবে গোদাগাড়ীতে এখনও ২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সিভিল সার্জন জানান, রাজশাহী জেলা ও মহানগরে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ দিন পূর্ণ হওয়ায় ১ হাজার ৮১৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এখনো ৮৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এদের মধ্যে ৫৭ জনকে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের তিনজনের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীতে। বাকি ৫৪ জনের বাড়ি বাঘা। গত ২৪ ঘণ্টায় এরা বাইরের জেলা থেকে রাজশাহী এসেছেন। এর মধ্যে ঢাকা থেকেই এসেছেন ৪৯ জন। আর নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন ৪ জন। এছাড়া নাটোর থেকে ২ এবং মানিকগঞ্জ ও নোয়াখালী থকে ১ জন করে এসেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ