মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

দুই বছর পর মুক্ত খালেদা জিয়ার ঈদ উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : কথিত দুর্নীতি মামলায় টানা তিনবার কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে একাকীত্ব অবস্থায় ঈদ উদযাপন করলেও এবার নিজ বাসায় ফিরোজাতেই ঈদুল ফিতর পালন করবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মূল মামলায় জামিন পেলেও হাস্যকর আরও ৩০টির অধিক মামলায় তিনি দুই বছরের বেশী সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন। পুরান ঢাকার জীর্ণ কারাগারে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকেই গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ৬ মাস সাজা স্থগিত রেখে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে থেকে নিজের বাসায় উঠেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ বেগম জিয়া। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শে কোয়ারেনটাইনে চলে যান। বর্তমানে ব্যক্তিগত ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে তিনি বাসাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে তিনি তার পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি হবেন। 
সূত্র মতে, গত প্রায় বার বছর ধরে পুত্র, ছেলের বউ ও নাতনিদের ছাড়াই ঈদ করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আপনজনরা কাছে না থাকলেও পরিবারের অন্যদের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদের দিনটা কাটতো বেগম জিয়ার। পরে ছেলে, নাতনি, ছেলের বউদের সাথে টেলিফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন তিনি। গত তিনবার কারাগারে থাকায় সেই সুযোগ ছিলনা। এবার বাসাতে ঈদ করলেও করোনার কারণে পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছাড়া অন্যদের সাথে দেখাও করবেন না সাবেক তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী। 
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তার দুই হাঁটু এবং দুই চোখেই অপারেশন করতে হয়েছে। তাকে সবসময়ই যোগ্য চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। দ্রুত তাকে দেশের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। তবে সরকার বলছে, বেগম জিয়াকে দেশের ভেতরেই চিকিৎসা করাতে হবে।
সূত্র মতে, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের অবৈধ সরকারের পর থেকে দীর্ঘ ১৩টি বছরে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই ঈদ উদযাপন করছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ এই নেতা। এর মধ্যে এবারো তিনি কাউকেই কাছে পাচ্ছেন না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানা শারীরিক ও মানসিক  দু:সহ যন্ত্রণা তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে বলে বিএনপির অভিযোগ।
কারাগারের বাইরে ঈদ করার কারণে এবার পরিবারের সদস্যদের সাথে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারবেন। আর টেলিফোনে ছেলে ও ছেলের বউ, নাতনীদের সাথে কথা বলতে পারবেন। ঈদের দিন সবার আগে ফজরের নামাজ শেষে চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা ছেলের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কথা বলতেন ছেলের বউ আর নাতনিদের সাথে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে জানা গেছে। ঈদের দিন ছেলে তারেক রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, পুত্রবধু ডা. জোবাইদা রহমানের সাথে কথা বলবেন তিনি। কথা বলবেন কোকোর স্ত্রী ও মেয়েদের সাথেও।
ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। ওই সময় তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও  গ্রেফতার হন। ৩৭২ দিন সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২০০৭ সালের দুটি ঈদ কারাগারে কেটেছে তার। পরে তারেক রহমান প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। তিনি এখন সেখানেই আছেন। সঙ্গে আছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। আরাফাত রহমান কোকোও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানও ছিলেন তার সঙ্গে। ২০১৫ সালের ২৪ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তাই ২০০৭ সালের পর থেকে দুইছেলেকে একসঙ্গে পাশে পাননি বেগম জিয়া। বরং পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের রেখে ২২টি ঈদ একাই কাটিয়েছেন তিনি। এবার ২৩তম ঈদ তিনি ফিরোজাতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে কাটাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ