শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

পাটুরিয়ায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়

রেকর্ড মৃত্যুর দিনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো দূরত্ব বজায় না রেখে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ছবিটি গতকাল শুক্রবার মাওয়া ঘাট থেকে তোলা -সংগ্রাম

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : ঈদে প্রতিবছরই ঘরমুখো যাত্রীর ভিড় থাকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একুশ জেলার সঙ্গে রাজধানীতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার এই ঘাট। ছোট-বড় মিলে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার যানবাহন পারাপার হয় এই ঘাট এলাকা দিয়ে। ঈদসহ যেকোনো উৎসবে এই সংখ্যা বেড়ে হয় কয়েকগুণ।
তেমনি গতকাল শুক্রবার ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেয়া এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘরেফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। চাপ বাড়ছে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। পারাপারের সময় মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব। এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে বাধা না থাকায় গণপরিবহন ছাড়া সবধরনের যানবাহন চলাচল করছে অবাধে। বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল ঠেকাতে গত তিনদিন আগে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। অপরদিকে যানবাহন ফেরাতে মানিকগঞ্জে জেলায় ঢোকা এবং বের হওয়ার প্রবেশ মুখে বসানো হয় পুলিশের চেক পোস্ট। ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ঢল অনেকটা কমে আসে। ফেরিঘাটেও মানুষের ভীড় কমে যায়। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল এবং ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ফলে ভোর থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে। তারা ভাড়ার প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, সিএনজি, হ্যালোবাইক, ইঞ্জিন চালিত রিক্সায় যে যেভাবে পারছে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছে।
যশোরগামী হায়েজের চালক আরিফ বলেন, বেলা ১১টার দিকে টেলিভিশনে খবর দেখে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। রাস্তায় কোনো গাড়ির চাপ নেই। যে কারণে অনেক দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাটে এসে পৌঁছেছি আর এখন ফেরিতে উঠার অপেক্ষায় আছি।
ফরিদপুরমুখী প্রাইভেটকার (প্রিমিও) গাড়ির যাত্রী সাইফুল খান বলেন, ঈদের মধ্যে বাড়ি যেতে না পারলে বাবা-মায়ের সঙ্গে আনন্দটুকু শেয়ার করতে না পারলে অপূর্ণতা থেকে যায়, তাই কষ্ট করে বাড়িতে যাওয়া।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা সেক্টরের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাসেল জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী জরুরি পণ্যবোঝাই যানবাহন, লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও কিছু ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হচ্ছে। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরির মধ্যে ৯টি ফেরি পারাপারের কাজে নিয়োজিত আছে বলে জানান তিনি। পাটুরিয়া অংশে শতাধিক পণ্যবোঝাই যানবাহন পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে এবং ছোট ছোট গাড়ি ৫ নম্বর পন্টুন দিয়ে সরাসরি পার হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মানিকগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার গোলড়ায় যে চেকপোস্ট রয়েছে, ওই চেকপোস্ট থেকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি পাটুরিয়া ঘাটের দিকে কিছু কিছু প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ