শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

রাজশাহী অঞ্চলে কোটি কোটি টাকার আমের ক্ষতি

রাজশাহী অফিস : গত বুধবার রাতে রাজশাহী অঞ্চলে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে কয়েক শ’ কোটি টাকা মূল্যের আমের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসেবে বলা হচ্ছে। রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই ঝড়ে আম ছাড়াও অন্যান্য ফল ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাজশাহীর পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের তাণ্ডব বেশি থাকায় বাগানের আম ঝরে গিয়ে এক অভাবনীয় দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিরা বলছেন, বাগানের একতৃতীয়াংশ আম ঝরে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ১০ শতাংশ আমের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা ধারণা করছে। এদিকে ঝড়ের কারণে পড়ে যাওয়া আম কেউ কিনতে চাইছেন না। সব মিলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে। এর মধ্যে ২টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে। রাজশাহী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ২ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝড়ের পর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। খুব বেশি গতি নিয়ে উত্তরের জেলা রাজশাহীতে আঘাত না করলেও আম নামানোর আগ মূহুর্তের এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জেলায় শুধু আমের ক্ষতিই হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকার। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ব্যবসায়ী ও আমচাষিরা জানান, বাগানের বড় আম সব ঝরে গেছে। গাছের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে গাছে আমই নেই। একজন জানান, গত বছর তাঁর নিজের ও কেনা মিলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের দামে হিসাব করলে এবার তাঁর অন্তত ২৫ লাখ টাকার আম ছিল। এখন ঝড়ের পর গাছ দেখে মনে হচ্ছে, গাছে পাঁচ লাখ টাকার বেশি আম নেই। জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করা হয়। তাতে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষীরা। সর্বনিম্ন দর ধরে হিসেব করেও ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও মৌসুমি ফল আম ও লিচু ছাড়াও কিছু কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বোরো ধান জমিতে নুইয়ে পড়েছে। তবে ধান পেকে যাওয়ায় কৃষক এখন দ্রুত কেটে নিতে পারলে বেশি ক্ষতি হবে না। এছাড়া লিচু, ভুট্টা, পান বরজের স্বল্প পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে। আর বসতভিটা-ঘরবাড়ি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে নওগাঁয় আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আম চাষিরা বলছেন, ঝড়ে আম গাছের প্রায় ৫০ শতাংশ আম ঝরে পরে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৮০০ আম চাষির প্রায় ৭ হাজার বাগান রয়েছে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ মেট্টিক টন। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্টিক টন আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলায়।
এদিকে আম্ফানের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। নাচোল, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটে ৫ থেকে ৬ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেঁপে ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নাটোরে ঝড়ে বেশিরভাগ বাগানের আম ঝরে গেছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের আঘাতে অনেক লিচু ঝরে পড়েছে। অসংখ্য কলা ও পেপে গাছ ভেঙে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

করোনাক্রান্ত আরো ১৯
রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিভাগের আট জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৯ জন বেড়ে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৪ জনে। একই সময় সুস্থ হয়েছেন আরো দুজন। এ নিয়ে রাজশাহী বিভাগের সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৯৮ জন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত পাঁচদিনে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১৭৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় মোট ৪৮৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৩২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৪৬, নওগাঁয় ৯২ জন, নাটোরে ৪৮ জন, জয়পুরহাটে ১২৪, বগুড়ায় ১১৭, সিরাজগঞ্জে ১৯ ও পাবনায় ২৬ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরে পাঁচজন, বাঘা উপজেলায় চারজন, পুঠিয়ায় সাতজন, দুর্গাপুরে দুইজন, বাগমারায় তিনজন, মোহনপুরে পাঁচজন ও তানোরে ছয়জন। জেলায় এখন পর্যন্ত সাতজন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন একজন।

রাজশাহীতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ সেনাবাহিনীর
রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে ২০০ মানুষের মাঝ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধে আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার এর আয়োজন করে। ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষকে ঈদ উপহার হিসেবে এই খাদ্যসামগ্রী দেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এসব বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশেই খাদ্যসহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। রাজশাহীতে সরাসরি কৃষকের ক্ষেত থেকে নায্যমূল্যে সবজি কিনে তারা বিতরণও করেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চলছে তাদের সেবা কার্যক্রমও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ