শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

আম্ফানের আঘাতে ১৯ জেলার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার : সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফানের আঘাতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় হয়েছে ১৯ জেলায়। আম্ফানের আঘাতে অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৌসুমি ফল, ফসল, মাছ ও অন্যান্য আবাদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার। পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে। এ নিয়ে কাজ করছে কৃষিসহ একাধিক মন্ত্রণালয়। ঘূর্ণিঝড়ে বিপুল পরিমাণ আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া পাট ৫ শতাংশ, ভুট্টা ৫ শতাংশ, বোরো ফসল ১০ শতাংশ, কলা ১০ শতাংশ, পেঁপে ৫০ ভাগ, মরিচ ৩০ ভাগ, সয়াবিন ৫০ ভাগ, ও মুগ ডাল ৫০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শত শত কিলোমিটার কাঁচা-পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে ব্রিজ-কালভার্ট। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ঘেরের চিংড়ি। ধসে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি।
সাতক্ষীরা : আম্ফানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা সাতক্ষীরা। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে সাতক্ষীরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা  ভেঙে পড়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার কমপক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় দুটি উপজেলার পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, রমজাননগর ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম। জোয়ারের স্র্রোতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ছোট-বড় পুকুর। বিধ্বস্ত হয়েছে সহস্রাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি। সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কসহ অসংখ্য গাছপালা উপড়ে  জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম, কাঁঠাল, কলাসহ অসংখ্য ফলদ বৃক্ষের। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর ও আশাশুনির কুল্যা, শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০টির বেশি পয়েন্টে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যতলা, কামালকাটি ও চণ্ডীপুর এলাকায় পানি ওভার ফ্লো হয়ে ভেঙে গিয়ে কামালকাটি, ঝাঁপা, চণ্ডীপুর, খুঁটিখাটা, চাউল খোলা, পদ্মপুকুর, দক্ষিণ ঝাঁপা, সোনাকালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভেসে যায় হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, তালা-কলারোয়া অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও টিনের চাল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তার কাছে ও ওপরে গাছ পড়ে আছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরের অন্তত এক হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে এবং নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির ফসল। উপড়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার গাছপালা। আম্ফানের আঘাতে আমতলী ও তালতলী উপজেলার ২ হাজার ৫০০ ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমতলীতে ১ হাজার ৮৯৩টি এবং তালতলীতে ৬০৭টি। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরে অন্তত এক হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির ফসল। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ঘর-বাড়ি, ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল : বরিশালে ঝড়ো হাওয়ায় পাকা বোরো ধান, পাট, পেঁপে, পান, কাঁচামরিচ ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচা ঘর-বাড়ি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও মৎস্য সম্পদের কিছু ক্ষতি হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে তাদের সহায়তা করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে জেলায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও তিল পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আউশ, পেঁপে, পান, পাট ও মুগডাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিরোজপুর : আম্ফানে ধান ও বিভিন্ন প্রজাতির রবিশস্যসহ কমপক্ষে ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৬ হাজার ৭৫৫টি মাছের ঘের/পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা-পাকা ২৫ কিলোমিটার রাস্তা। আর কাঁচা-পাকা মিলিয়ে ২৩৪৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে দিনের বেলায়ই বাড়তে থাকে নদীতে পানির উচ্চতা। আর রাতে তা ৪-৫ ফুট বৃদ্ধি পায়। আর এতে  জেলার নিম্নাঞ্চল ও রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। 

পটুয়াখালী : ‘আম্ফান’ এর প্রভাবে তলিয়ে গেছে জেলার সব উপজেলা ও এর অর্ধশত চর। প্লাবিত হয়েছে বাড়ি-ঘর ও মাছের ঘের। উপড়ে গেছে বহু গাছপালা। বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি ঢুকে তলিয়ে যায় পুরো জেলার শহর বন্দর গ্রামের পর গ্রাম। পানিতে প্লাবিত হয় জেলার চর বাঁশবাড়িয়া, চর হাদি, চর শাহজালাল, চালিতাবুনিয়ার চর, চর তুফানিয়া, জাহাজমারার চর, চর বোরহান, চর শিবা, চর কাজল, চর আন্ডা, চর মোন্তাজসহ অন্তত অর্ধশত চর। তলিয়ে যায় পুরো জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা, রাস্তাঘাট, হাটবাজার থেকে শহর বন্দর। তলিয়ে যায় জেলায় কয়েকশ মাছের ঘের। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য মতে, জেলার ৭৩টি ইউনিয়ন এবং ৫টি পৌরসভা দুর্যোগ কবলিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গত মানুষে সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৭০ জন। জেলার ৮টি উপজেলায় ৮ হাজার ১২১ বাড়িঘর আংশিক এবং ২ হাজার ৩৫৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : আম্ফানের কারণে সিরাজগঞ্জে উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারি বর্ষণের কারণে  নিম্নাঞ্চলের ধানখেত তলিয়ে যায়। প্রবল ঝড়ের কারণে কাঁচাপাকা ধানগুলো খেতে নুয়ে পড়েছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে কৃষকরা বলছেন।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আম্ফান ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ভেঙে পড়েছে কাঁচাঘর, গাছের ডালপালা। খেতের ফসলও ক্ষতি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্যাপকহারে পানবরজ ভেঙে পড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আম্ফানের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। বুধবার সারা দিনই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয় এবং রাত দেড়টার দিকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় ও সদরে কিছু আমগাছ উপড়ে পড়ে আমের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বোরো খেতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, আম্ফানের প্রভাবে নাচোল, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটে ৫ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেঁপে ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভোলা : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলা সদর ও চরফ্যাশনে অন্তত ৩০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। কয়েক স্থানে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাগর মোহনার কুকরীর চর, পাতিলা ও ঢাল চর ৪/৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

খুলনা : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাউবো বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ফসলি জমি, অসংখ্য মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮২ হাজার কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনার কয়রা, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও দাকোপে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে পল্লী বিদ্যুতের কয়েকশ খুঁটি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আট উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ গ্রাহক।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় কয়রা এলাকা। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দক্ষিণ বেদকাশি, জোড়শিং বাজার, চোরামোখা, গোলখালী, উত্তর বেদকাশি গাজীপাড়া, ঘাটাখালী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

ঝিনাইদহ : আম্ফানে ঝিনাইদহে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৬টি উপজেলায় রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে আম্ফান। কৃষকরা জানান, ঝড়ে কৃষকের কলাগাছ, পাটখেত, পানের বরজসহ সবজি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও নষ্ট হয়েছে আম, লিচু। বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে পুকুর-ঘাট। ঝড়ের কারণে ভেঙে গেছে গাছপালা। ভেঙেছে কাঁচা, পাকা-আধা-পাকা বাড়িঘর। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ।

লক্ষ্মীপুর : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে মধ্যরাতে ২০০ মিটার মেঘনা নদী তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সকালে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে স্থানীয় মজু চৌধুরীর হাট-মতিরহাট সড়ক যোগাযোগ। বর্তমানে ভাঙনকবলিত এলাকা দিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি। এতে করে জেলা সদর ও কমলনগর উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা বর্তমানে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি।

নাটোর : আম্ফান ঝড়ে নাটোরে আম, লিচু, কলা পেঁপে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক আধাপাকা ও কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে গাছ। ভেঙে পড়েছে অনেক গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আাম ও লিচু বাগান নষ্ট হয়েছে। অসংখ্য কলা ও পেঁপে গাছ ভেঙে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

বরগুনা : প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বরগুনায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৯ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি। এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক মাছের ঘের এবং ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার বাড়ি-ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ১৩.৫৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আয়লা পাতাকাটা, জাঙ্গালিয়া, বুড়িরচর, লবণগোলা, মাইঠা, নলটোনা, পাথরঘাটার জিনতলাসহ অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ১০টি চিংড়ির ঘের ছাড়াও ১২১টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। সাতটি আম বাগান ও প্রায় ৫০ হেক্টর সবজি খেতসহ ৩০০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে বরগুনায় কোনো মানুষ মারা যায়নি।

মাগুরা : মাগুরায় বুধবার রাতের ঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাতে ৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমির পাট, কলা, পেঁপে, আম, লিচু, ডাল, মরিচ ও সবজি খেত আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ ছাড়া অনেক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে। রাত ৮টার দিকে ঝড়ের শুরু থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন ছিল। এ সময় মাগুরা ৪ উপজেলায় গড়ে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝালকাঠি জেলা শহর প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বেগে রাতে বেশ কয়েকবার হানা দেয় ঝড়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা বাড়িঘর।   ভেসে গেছে মাছের খামার। নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০/৬০ গ্রাম পান্দিবন্দী রয়েছে। নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট বৃদ্ধি পায়। ফলে নদী পাড়ের ঘর বাড়িগুলো তলিয়ে যায়।

রংপুর : এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে ১ হাজার ৯৩ হেক্টর বোরো ধান, ৪৫০ হেক্টর আম, সবজি ৭২৮ হেক্টর, ভুট্টা ১৩৯ হেক্টর, কলা ৪২ হেক্টও, মরিচ ৫১ হেক্টর, তিল ৫ হেক্টর, মুগ ১৪ হেক্টর, পান ১০ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন ঝড়ে আমের ক্ষতি হয়েছে বেশি। এ ছাড়া ২ হাজার ৫৫৯ হেক্টও বোরোসহ অন্যান্য ফসল ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে।  

বাগেরহাট : আম্ফানের ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাট জেলায় ৪ হাজার ৬৩৫ চিংড়ি খামারের মাছ ভেসে গেছে। শরণখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/৩ পোল্ডারের ২০০ মিটার রিংবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে শরণখোলা গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে ৯টি ফিশিং বোট ও মোংলার পশুর নদীতে একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবে গেছে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন উপজেলায় পানি ঢুকা শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে এখনো কোনো ঘরবাড়িতে পানি ঢোকেনি। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৬  কিলোমিটার অংশে বেড়িবাঁধ আছে। এসব বাঁধ সংস্কার কাজ চলছে। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পরুয়াপাড়া বাতিঘর, ফকির হাট ও সরেঙ্গারসহ যেসব অংশে পাথর নেই, সেদিক দিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া গহিরা বারোআউলিয়া এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। অভিন্ন অবস্থা বাঁশখালী উপজেলার বাহাড়ছড়া, খানকানাবাদ, সরল, ছনুয়া, প্রেমাসিয়া, পুকুরিয়া, গন্ডামারাসহ দীর্ঘ উপকূলীয় বেড়িবাঁধের। অন্যদিকে, সীতাকুন্ডের বাঁশবাড়িয়াসহ আশপাশের বেড়িবাঁধ দিয়েও পানি ঢোকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ