সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

কোমর বেঁধে বাঁধ নির্মাণে নেমেছেন কয়রাবাসী

 

খুলনা অফিস: আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি রক্ষায় নিজেরাই কোমর  বেঁধে বাঁধ নির্মাণে  নেমেছেন কয়রা উপকুলবাসী। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে নির্মাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা। কপোতাক্ষ, সাগরবাড়িয়া ও কয়রা নদীর পাড়ের হাজারো গ্রামবাসী মিলে একতা গড়ে প্রায় অসাধ্য সাধন করলেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেরাই নিজেদের বাঁচাতে, নিজ মাঠের ফসল ও সম্পদ রক্ষায় নিজেরাই বাঁধ নির্মাণ শুরু করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য ধর্ণা না ধরে শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেন। এতে গ্রামবাসীর বেশ সাড়াও মিলেছে।

সকালে মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের পবনার বাঁধে কাজ করা অবস্থায় কথা হয় কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন ইসলাম খোকনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় পবনার বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর সংস্কার করা হয়। তারপর থেকে এ বাঁধে আর কোনো কাজ হয়নি। এ বাঁধ আবার গত ২০ মে আম্পানে ভেঙে যায়। পরে মাইকিং করে ৪/৫শ’ গ্রামবাসীকে একত্রিত করে বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ আসার অপেক্ষা করলে আবারও গ্রাম পানিতে ভেসে যাবে।

এ কাজে অংশগ্রহণরত স্কুল শিক্ষক আলী ইমরান মুকুল বলেন, কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেরাই নিজেদের বাঁচাতে, নিজের মাঠের ফসল, সম্পদ রক্ষায় নিজেরাই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। সাগবাড়িয়া নদীতে ভাটার সময় কাজ করা গেছে। জোয়ার চলে আসায় কাজ আজকের মতো বন্ধ করা হয়েছে।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ভোর থেকে কয়রা সদরের গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা ও দুই নাম্বার কয়রার সাধারণ মানুষ নিজেরাই ভাঙা বেড়িবাঁধ সংষ্কারের চেষ্টা করছে। জোয়ারের পানি চলে আসায় শুক্রবারের কাজ শেষ করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ভোরে আবারও সবাইকে বাঁধে আসার আহবান জানানো হয়েছে।  সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে বেড়িবাঁধের সংষ্কার কাজে সার্বক্ষণিক ছিলেন কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম। কয়রার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংস্থার সভাপতি মো. আবু সাঈদ খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে লন্ডভন্ড হয়েছে গোটা কয়রা। কয়রায় ৮ টি পয়েন্ট দিয়ে বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার নিরাঞ্জন ও মাজিদ গাজীর বাড়ির সামনে। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ছোট আংটিহারা এলাকার বাকের গাজীর বাড়ির সামনে। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের তসলিম মোল্লার বাড়ির সামনে। দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখা খেয়াঘাট এলাকা। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাজী পাড়া ও কাশির হাট খোলা। কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয় প্রবেশ করেছিল। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, আম্পানে অনেক এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। যা টিকে আছে তা নড়বড়ে। জোয়ার হলে জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এলাকার মানুষের। আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি রক্ষায় নিজেরাই কোমর বেঁধে নেমেছেন বাঁধ নির্মাণে। কয়রার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,  সিডর, আইলাসহ বড় বড় দুর্যোগে ভেঙে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ। একারণে এ উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় জীবনযাপন করেছেন। কয়রা উপজেলায় আইলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এলাকায় পরিদর্শন করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এলাকায় টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার। অথচ সেই থেকে অবহেলিত উপকূলীয় উপজেলা কয়রা এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রতি অর্থ বছরে সরকারের শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের নামে কথিত ‘জরুরি কাজ’ অজুহাত দেখিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে টাকা। শতভাগ কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ শেষ করে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে সনদ দিয়ে টাকা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কোনো দুর্যোগ এলেই বাঁধ ভেঙে পানি ডুকে বিপদে পড়ছে কয়রাবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ীভাবে শক্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে জোয়ারের পানিতে আবারও বাঁধ ভাঙবে। পানি ডুকে যাবে লোকালয়ে। তৈরি হবে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। প্রচন্ডঝড়ে পড়ে গেছে কয়েকশ’ ঘরবাড়ি। গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ কাজ করে ভাঙা বাঁধ ঠিক করছে। পাউবো কিছু বস্তা দিয়ে সহযোগিতা করছে।

তিনদিন পর মংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা শুরু : দুর্যোগ কেটে যাওয়ার তিনদিন পর  শুক্রবার থেকে মংলা বন্দরে জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার ফের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত ১১টি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজে এ কাজ শুরু হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর বন্দরে অবস্থানরত কয়লা, ক্লিংকার, গ্যাসসহ পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ওই সময় এসব জাহাজে কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান অতিক্রম করার পর বৃহস্পতিবার মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদফতর। এরপরই মংলা বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজে বন্ধ রাখা হয় পণ্য ওঠা-নামার কাজ।

জুমাতুল বিদায় করোনা থেকে মুক্তির জন্য খুলনায় মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় রমযান মাসের শেষ শুক্রবার পবিত্র জুমাতুল বিদা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে খুলনার মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি। মসজিদে মসজিদে ইমাম ও খতিবরা বয়ানসহ নামাজ শেষে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।

মোনাজাতে মুসল্লিরা চোখের পানিতে আল্লাহর রহমত কামনা করেন। তওবা করেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। এ মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সবাইকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

করোনার সংক্রমণ রোধে খুলনার মসজিদগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। এসময় দেশ, জাতির সুখ-সমৃদ্ধি ও মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণেও মোনাজাত করেন তারা।

ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে আসন্ন ঈদ উল ফিতরের নামাজের জামাত কাছের মসজিদে আদায় করতে হবে। কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ের নির্দেশনা মুসল্লিদের জানান মসজিদের ইমাম ও খতিবরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ