শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বায়তুশ শরফের পীর, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন,বায়তুশ শরফ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শরীয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান, আধ্যাত্মিক সাধক হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিনের জানাযা ও দাফন গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে সম্পন্ন হয়েছে।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত থাকায় বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা কুতুব উদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সীমিত পরিসরে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি টিমের তত্ত্বাবধানে তার দাফনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাযের পর সকাল সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকার ধনিয়ালাপাড়ায় বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভক্ত, শুভাকাঙ্খীদের সমাগম ঠেকাতে রাত থেকে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগে রাত দেড়টার দিকে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা থেকে এসে পৌঁছে।

বাইতুশ শরফের প্রধান রূপকার শাহ সূফী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের কবরের পাশে এই কবরে চিরশায়িত হলেন মাওলানা কুতুব উদ্দিন। জানাযা শেষে মাওলানা কুতুব উদ্দিনকে তার পূর্ববর্তী পীর মাওলানা আবদুল জব্বারের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। জানাযায় ইমামতি করেন তার ছেলে মাওলানা সালাহউদ্দীন বেলাল।

উল্লেখ্য, বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা শাহ কুতুব উদ্দীন দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৮ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নগরীর মেট্রোপলিটন হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না ঘটলে পর দিন ১৯ মে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় মৃত্যুবরণ করেন।

চট্টগ্রাম সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

বায়তুশ শরফের পীর, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, বায়তুশ শরফ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শরীয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান, আধ্যাত্মিক সাধক হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ এক শোকবাণী প্রদান করেন।

শোকবাণীতে চট্টগ্রাম ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান। শোকবাণীতে ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিনের মৃত্যুতে চট্টগ্রামের আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষ একজন মহান অভিভাবককে হারাল। তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মাদরাসা, মসজিদ, এতিমখানা ও দাতব্য চিকিৎসালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মরহুম মাওলানা কুতুব উদ্দিন অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অবিভক্ত পাকিস্তানে ফাযিল পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি একাধারে শায়খুল হাদীস, মুফাস্সির, মুফ্তি এবং আরবী, ফার্সি, উর্দু ও বাংলা ভাষার কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন মিষ্টিভাষী, বন্ধুবৎসল, উদার,পরোপকারী ও অতিথি পরায়ন। তার ইন্তিকালে একজন মহান আধ্যাত্মিক সাধকের চির বিদায় হল। শোকবাণীদাতা ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ হলেন, প্রফেসর ড: অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান, প্রফেসর ড: মাওলানা হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান, ড: প্রফেসর এ.টি.এম.তাহের, মাওলানা মামুনুর রশিদ নূরী, মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা আহমদুর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা লিয়াকত আখতার ছিদ্দিকী, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, আল্লামা জসিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক, মুফ্তি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা ছিদ্দিক ফারুকী, মাওলানা এ.বি.এম. ছিদ্দিকুল্লাহ্, অধ্যক্ষ আবু সালেহ সলিমুল্লাহ, অধ্যক্ষ হাফিজুল হক নিজামী, অধ্যক্ষ মিয়া মুহাম্মদ হোসাইন শরীফ প্রমুখ।

বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা কুতুব উদ্দিন (ম.জি.আ.) মৃত্যুতে বিএনপির শোক: বায়তুশ শরফের পীর, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, মাওলানা শাহ মোঃ কুতুব উদ্দীন সাহেবের ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান। এক শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা কুতুব উদ্দীন সাহেব একজন বিনয়ী ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে দ্বীনের আলো জালিয়েছেন। দেশের এ দুর্যোগকালে উনার মতো একজন আলেমে দ্বীন এর বড় প্রয়োজন ছিল। তার মৃত্যু ইসলাম ও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি। যা সহজে পূরণ হবার নয়। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ