বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

আম্ফানে সৃষ্ট দুর্যোগ কবলিত মানুষকে সহযোগিতার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি ছাত্রশিবিরের আহ্বান

 

বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে’র কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নারী শিশুসহ ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। খুলনা, পিরোজপুর, সাতক্ষিরা, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা এবং বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর ডুবে গেছে। বহু এলাকায় নদীর পানি ও জনবসতি একাকার হয়ে গেছে। ভেসে গেছে অনেক চাষির গবাদি পশু ও মাছের ঘের। অসংখ্য টিনের ঘর ও দোকান উড়ে গেছে। কাঁচা বাড়ী-ঘর ধসে পড়েছে। উঠতি ফসল ও আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। দেশে প্রায় এক কোটির মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। অনেক রাস্তাঘাট ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও পানি বন্দি হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সাধ্যমত জনসাধারণের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি নেতা-কর্মীকে অনুরোধ করছি। 

নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে তারা বলেন, দেশে যেকোন দুর্যোগে সাধ্যানুযায়ী ছাত্রশিবির ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। অস্বচ্ছল ও অক্ষমদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র, আর্থিক সহায়তা ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণের মাধ্যমে বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। রাস্তাঘাটের প্রতিবন্ধকতা দূর করে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার ও তাদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করতে হবে। দুর্যোগ পরবর্তী যেকোন সংকটে জনগণের পাশে থেকে তাদের সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানাচ্ছি। এখানে সরকারের অবহেলা বা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। 

তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশে নতুন নয়। এসব ক্ষেত্রে সবসময়ই দেশবাসী পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পথ চলেছে। এবারও আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আমরা সবাই মিলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন এদেশের মানুষকে এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার শক্তি দেন। আমাদের ধৈর্য্য, সাহসিকতা ও পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে দেন। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ