বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ  ভাংচুর ও মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরে শতভাগ ঈদ বোনাসসহ বেতনভাতা পরিশোধের দাবিতে বৃহষ্পতিবার দিনভর ফের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। এসময় লাঠিসোটা নিয়ে দু’কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, এবারের ঈদে সরকার ও বিজিএমইএ কারখানার শ্রমিকদের শতকরা ৫০ভাগ ঈদ বোনাস ও করোনা পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ থাকায় বা কাজ না করায় শ্রমিকদের মূল বেতনের শতকরা ৬০ভাগ বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কিছু কারখানার শ্রমিক ওই সিদ্ধান্তকে মানতে চাচ্ছে না। তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে অযৌক্তিকভাবে শতভাগ ঈদ বোনাস ও বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে। বৃহস্পতিবারেও জেলার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ওই দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছে।   

গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর ইস্কান্দর মোঃ হাবিবুর রহমানসহ শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর সিটি কপোর্রেশনের গাছা থানাধীন বড়বাড়ি তারগাছ এলাকার ফ্লোরেট ফ্যাশন ওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে শতভাগ ঈদ বোনাসসহ চলতি মে মাসের এবং এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবী জানিয়ে আসছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করেও শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি। সর্বশেষ বুধবার ছিল পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ। কিন্তু এদিনও শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়নি। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহষ্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় উত্তেজিত কয়েক শ্রমিক কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে। এতে মহসিড়কের উভয়দিকে যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা করে। আলোচনা শেষে সরকার ও বিজিএমইএ’র সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারখানার শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও এপ্রিল মাসের বেতন বৃহষ্পতিবার বিকেলে পরিশোধের আশ্বাস দেয়। পরে দুপুরে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে কারখানায় গিয়ে অবস্থান নেয়। 

এদিকে এদিকে শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর ইসলাম হোসেন জানান, শতভাগ ঈদ বোনাসসহ পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার গোল্ডেন থ্রেড কারখানার শ্রমিকরা বৃহষ্পতিবার সকালে বিক্ষোভ করেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ কারখানাটি বৃহস্পতিবার হতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঈদবোনাসের টাকা মোবাইল একাউন্টে দেখতে না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সকাল সাড়ে৭টার দিকে শ্রমিকরা বন্ধ কারখানার সামনে এসে জড়ো হয়ে ঈদবোনাসের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের কর্মকর্তাগণ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, শ্রমিকদের পাওনাদি বুধবার ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সমস্যার কারণে শ্রমিকদের মোবাইল একাউন্টে টাকা জমা হতে বিলম্ব হচ্ছে। এসময় পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহবান জানালে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান করতে থাকে। অবরোধ তুলে নেওয়ায় ওই মহা সড়কে যানবাহন চলাচল পুনঃরায় শুরু হয়। এদিকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের মোবাইল একাউন্টে ঈদবোনাসের টাকা জমা হতে থাকলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কারখানা এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

এছাড়াও গাজীপুর সিটি কপোর্রেশনের লক্ষ্মীপুরা এলাকার ইন্টারম্যাক্স গার্মেন্টস, কাশিমপুর এলাকার ডেল্টা এক্সেসরিজ, টঙ্গীর ভিয়েলা টেক্স এবং সাইনবোর্ড এলাকায় ইউরো ডেনিম পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঈদবোনাস ও বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান করেছে। এসব পৃথক ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনা শেষে তাদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ