বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ১৭৭৩ জন

 

# মোট মৃত্যু ৪০৮

# আক্রান্ত ২৮৫১১

# সুস্থ ৫৬০২

স্টাফ রিপোটার : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯), যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪০৮ জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৭৭৩ জন, এটিও একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮ হাজার ৫১১ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরও ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ৭৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৫১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। এদের ১৯ জন পুরুষ, তিনজন নারী। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৩৯৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ হাজার ৬০২ জনে।

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ১৯ জন পুরুষ, তিনজন নারী। বয়সের দিক থেকে ১১ থেকে ২০ বছরের দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন, সত্তরোর্ধ্ব দুজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী দুজন। এদের ১০ জন ঢাকা বিভাগের, আটজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের। ঢাকা বিভাগের মধ্যে রাজধানীর আটজন, ঢাকা জেলার একজন ও নারায়ণগঞ্জের একজন বাসিন্দা ছিলেন। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার চারজন, চাঁদপুরের তিনজন ও কক্সবাজারের একজন ছিলেন। সিলেট বিভাগের মধ্যে সিটি করপোরেশনের একজন এবং অন্যান্য জেলার দুজন ছিলেন। আর ময়মনসিংহ বিভাগের যিনি মারা গেছেন তিনি ময়মনসিংহ শহরের বাসিন্দা ছিলেন।

গত বুধবারের (২০ মে) বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন মারা গেছেন। ১০ হাজার ২০৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৬১৭ জনের দেহে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত এবং শনাক্ত- উভয় সংখ্যা শুধু বাড়েইনি, হয়েছে রেকর্ডও। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল ২১ জনের।এ তথ্য জানানো হয় গত ১৮ মের বুলেটিনে।

বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ১৫৪ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন তিন হাজার ৮৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৩ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৯৬৬ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে চার হাজার ৩২ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৫৯১জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ১৫২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৮২ জন।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

ডা. নাসিমা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান বুলেটিনে।

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বকেই কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৫১ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা সোয়া তিন লাখেরও বেশি। তবে ২০ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তারপর দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও।

মুন্সীগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটসহ নতুন ২৮ জনের করোনা

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জে গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ নতুন করে আরও ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।   এই নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হলেন ৪৮৮ জন। বৃহস্পতিবার আরও ১০ জন করোনা জয় করেছেন। এই নিয়ে জেলায় করোনা জয়ী ১০০। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দু’জন সদরের মালিপাথরের আব্দুল হালিম (৬৫) ও চরকিশোরগঞ্জের আব্দুল কাদের (৬০) করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তাই জেলায় এখন মৃতের সংখ্যা ১৬।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৬, শ্রীনগর উপজেলায় ৭, সিরাজদিখান ৩ ও গজারিয়া ২ জন। তবে লৌহজং এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় এই রিপোর্টে নতুন কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। বৃস্পতিবার ১৯ ও ২০ মে তারিখের পাঠানো নমুনার ১৪৪ জনের রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই নিয়ে মুন্সীগঞ্জে ২৮৪৫ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেলো। এপর্যন্ত নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে ২৮৪৫টি।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনা শনাক্তদের বাড়ি-ঘর লকডাউন এবং করোনা শনাক্তদের আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ প্রদান করেছেন।

নোয়াখালীতে নতুন করে ৭ জনের করোনা শনাক্ত

নোয়াখালী সংবাদদাতা : নোয়াখালীতে নতুন করে আরও ৭ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৪ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১ টায় দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন মোমিনুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৯ ও ২০ মে শনাক্তকৃতদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা জন্য আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) করোনা ল্যবে পাঠানো হয়। পরে ১৯ মে রাতে তাদের রিপোর্ট আসলে তাতে করোনা পজিটিভ আসে।মআক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী করোনা ভাইরাস হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ১৮৩ জন নিজ নিজ বাড়ীতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বয়স্ক ১ ব্যক্তিকে ঢাকায় চিকিৎসা জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন । ৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন 

তিনি আরও বলেন,শনাক্ত হওয়া প্রায় সবাই জ্বর ও কাশিতে ভুগছিল। এমন খবরের ভিত্তিতে তাদের বাড়ীতে স্বাস্থ্য কর্মী পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সে নমুনায় তাদের করোনা পজিটিভ  আসে 

নীলফামারীতে ২ জনের  করোনা শনাক্ত

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীতে নতুন করে এক শিশু ও এক যুবকের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাতে এই দুইজনের আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন। নতুন করে করোনা শনাক্ত ২ জনের মধ্যে জেলার ডোমার উপজেলায় ঢাকা ফেরত ৩০ বছরের যুবক ও জলঢাকা উপজেলায় ১০ বছরের এক মেয়ে শিশু রয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৩ জনে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছে ১৩জন।

চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত মৃত পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত ছিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো : শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত জেলা পুলিশের সদস্য মোখলেছুর রহমান(৫৭) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন (৫৭)। মারা যাওয়ার পর সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় বুধবার তার করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। চট্টগ্রাম সদর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী বলেন, তার শ্বাসকষ্ট ও প্রেশারের সমস্যা ছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার দিবাগত রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু  হয়। মঙ্গলবার চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার টামটা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে চারজন সদস্য এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ