ঢাকা, সোমবার 1 June 2020, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যেভাবে বাংলাদেশ অতিক্রম করল ঘূর্ণিঝড় আম্পান

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রের প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার জুড়ে ছিলো আম্পানের বিস্তৃতি। আঘাতের লক্ষ্যবস্তু ছিল ভারত ও বাংলাদেশের বিশাল উপকূল। বাতাসের গতি কিংবা ঢেউয়ের তীব্রতা সবদিক থেকেই বিরল এক ঘূর্ণিঝড় ছিলো সুপার সাইক্লোন আম্পান। তবে এত শক্তিধর আম্পানকেও হার মানতে হয় রয়েল বেঙ্গলের গর্ব সুন্দরবনের কাছে। কিন্তু তারপরেও দেশের বেশ কিছু জায়গায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। অনেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব করছে জেলাপ্রশাসন। আজ সন্ধ্যা নাগাদ ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

সাইক্লোন আম্পান উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এটির কেন্দ্র এখন রাজশাহী জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। আম্পানে নওগাঁয় আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লালমোহনের চর শাহজালালের মানুষ সারা রাত জোয়ারে ভেসে ছিলেন। তাছাড়া সাতক্ষীরায় আম্পানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আম্পান স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি এখন রাজশাহী-রংপুর হয়ে ক্রমশ উত্তরদিকে সরে যাচ্ছে। এ কারণে রাজশাহী, রংপুর অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা পর এ স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্র ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে রংপুরের দিকে চলে যাবে। তবে আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে এ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দিনভর এ অবস্থা থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গত রাত ১০টার পর থেকে রাজশাহী জেলায় শুরু হয় ভারী বর্ষণ। এরপর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। সেইসঙ্গে বয়ে যাচ্ছে ঝড়ো হাওয়া।

১২ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার পর দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আজ ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিহতরা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সৈয়দ শাহ আলম (৫৫), গলাচিপা উপজেলার রাশেদ (৫), ভোলার চরফ্যাশনের মো. সিদ্দিক (৭২), বোরহানউদ্দিনের রফিকুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাহজাহান মোল্লা (৫৫) ও গুলেনুর বেগম (৭০), ইন্দুরকানীর শাহ আলম (৫০), যশোরের চৌগাছার রাবেয়া (১৩) ও ক্ষ্যান্ত বেগম (৪৫), ঝিনাইদহের নাদিয়া বেগম (৫৫), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সালাহউদ্দিন (১৬) এবং সাতক্ষীরায় একজন মারা গেছেন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরো উত্তর–পূর্ব দিকে সরে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ