শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

বায়তুশ শরফের পীর শাহ মাওলানা মো:কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও লোহাগাড়া সংবাদদাতা: বায়তুশ শরফের পীর বাহরুল উলুম শাহ মাওলানা মো: কুতুব উদ্দিন ইন্তিকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে এয়ার এম্বুল্যান্সযোগে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার নাতি জিয়াউদ্দিন সাহাল। সাহাল জানান, বিকাল ২.৩০ মিনিটে তার দাদা ইন্তিকাল করে। তবে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় বিকাল চারটার পরে। 
জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগরের সুুফি মিয়াজি পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ক্ষণজন্মা এই আধ্যাত্মিক পুরুষ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও ৬ কন্যা সন্তানের জনক। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান। মাওলানা কুতুব উদ্দিন দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুনতী হাকিমিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এছাড়া বায়তুশ শরফের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, দাতব্য চিকিৎসালয়, এতিম খানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হওয়ার কারণে তিনি ধর্মীয় মহলে বাহরুল উলুম (জ্ঞানের সাগর) নামেও পরিচিত। মাওলানা কুতুব উদ্দীন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নের সূফী মিয়াজী পাড়া গ্রামের সন্তান। লেখাপড়া করেছেন চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ও চট্টগ্রাম শহরের দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায়। তিনি ১৯৫৯ সালে স্বর্ণপদক সহ প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে কামিল পাস করেন। হাদিস বিশারদ ও কুরআনের তাফসিরকারক মাওলানা কুতুব উদ্দীন আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষাবিদ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান। কর্মজীবনে তিনি বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের সেরা অধ্যক্ষের পুরস্কারও অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকার ধনিয়ালা পাড়ায় অবস্থিত বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত সূফীসাধক মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতার (রহ) এবং বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার শাহ সূফী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ) এর সান্নিধ্যে অবস্থান করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন। ১৯৯৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর লিখা একাধিক বিখ্যাত ধর্মীয় গ্রন্থও রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী নেতৃবৃন্দের শোক- চট্টগ্রাম মহানগরীর ধনিয়ালা পাড়াস্থ বায়তুশ শরফ দরবার শরীফের পীর সাহেব, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর শরীয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান হযরত মাওলানা শাহ কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক শোক বাণী প্রদান করেন। শোক বাণীতে নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার বর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোকবানীতে নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, বায়তুশ শরফের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মরহুম মাওলানা শাহ কুতুব উদ্দিন বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ধর্মীয় এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং দেশবাসীর অনেক খেদমত করেন। ইসলামী আদর্শ প্রচার প্রসারে ও তরিকতের মাধ্যমে মহান দ্বীনি খেদমত আঞ্জম তিনি দিয়েছেন। জামায়াত নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনি খেদমতের উসিলায় তাঁকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নছিব করেন এবং তাঁর খেদমতগুলো যেন কবুল করেন সেই দোয়া কামনা করেন।
এদিকে পীর সাহেবের  ইন্তিকালে চট্টগ্রামের আলেম সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশবরেণ্য ও বর্ষিয়ান এই আলেমে দ্বীনের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, সাবেক এমপি  শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল, ভাইস চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান নুরুল আবচার, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব সিআইপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহীম চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডানেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান, সেক্রেটারি এস এম লুৎফর রহমান, লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রামের সভাপতি আলহাজ্ব শফিক উদ্দিন, সেক্রেটারি নাজমুল মোস্তফা আমিনসহ বিভিন্ন জনিপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মাওলানা কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকালে দেশের আলেম সমাজে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর মতো এমন গভীর জ্ঞানের অধিকারী খুব কমই আছেন। তিনি একাধারে শিরকমুক্ত  সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখেন এবং ইসলামি অর্থনীতি বাস্তবায়নে অনবদ্য অবদান রাখেন।’ তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

জামায়াতের শোক
চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফের পীর সাহেব আল্লামা শাহ কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শোকবাণী দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার দেয়া শোকবাণীতে তিনি বলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফের সম্মানিত পীর আল্লামা শাহ কুতুব উদ্দিনের ইন্তিকালে জাতি একজন অভিভাবককে হারাল। তিনি বায়তুশ শরফের অধীনে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য চিকিৎসালয়সহ অনেক দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি বহু আলেমের উস্তাদ। তিনি অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। আমি তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করুন।
শোকবাণীতে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ